| |

ময়মনসিংহের ত্রিশালে ৬ষ্ঠ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন নির্বাচিত হলেন যারা

আপডেটঃ 6:20 pm | June 05, 2016

Ad

স্টাফ রিপোর্টার:
ব্যাপক অনিয়ম, কেন্দ্র দখল, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও সমর্থকদের ওপর প্রতিপরে হামলা ও বিএনপি প্রার্থীদের ভোট বর্জনের মধ্য দিয়ে ময়মনসিংহের ত্রিশালে ৬ষ্ঠ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে।
উপজেলা রিটার্নিং অফিস সূত্র জানায়, ১২টি ইউনিয়নের ফলাফলে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ-৩, বিএনপি-১, জাতীয় পার্টি (এরশাদ)-১, আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী-২ ও বিএনপির ৩ বিদ্রোহী প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।
আওয়ামী লীগের বিজয়ীরা হলেন- ২নং বইলর ইউনিয়নে মোস্তাফিজুর রহমান মুকুলের (নৌকা) প্রাপ্ত ভোট ৯৭৫৭, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির কাজী খালেকুজ্জামান পেয়েছেন ৭৫৫০ ভোট। ১১নং মোপুর ইউনিয়নে আবুল কালাম কালুন (নৌকা) পেয়েছেন ৪৩৮২ ভোট, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী শামসুদ্দিন (মোটরসাইকেল) পেয়েছেন ৩৩৫৬ ভোট।
১০নং মঠবাড়ী ইউনিয়নে আব্দুল কদ্দুছ মণ্ডল নৌকা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৭৯৩৬ ভোট ও নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মোশারফ হোসেন জুয়েল (আনারস) পেয়েছেন ৬২৩৪ ভোট। বিএনপির একমাত্র বিজয়ী প্রার্থী হলেন ৮নং সাখুয়া ইউনিয়নের আলহাজ্ব শাহ মোহাম্মদ গোলাম ইয়াহইয়া। তিনি পেয়েছেন ৫২৯৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মো. আব্দুর রাজ্জাক (আনারস) পেয়েছেন ৪০২৯ ভোট।
জাতীয় পার্টির (এরশাদ) একমাত্র বিজয়ী প্রার্থী হলেন ৩নং কাঁঠাল ইউনিয়নের দেলোয়ার হোসেন কামাল। তিনি পেয়েছেন ৪৩০৩ ভোট, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী নূরে আলম সিদ্দিকী পেয়েছেন (ধানের  শীষ) ২৮৫৫ ভোট।
১নং ধানীখোলা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আসাদুল্লাহ আসাদ (ঘোড়া) পেয়েছেন ১০৭২৩ ভোট, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ প্রার্থী পেয়েছেন ৯১২০ ভোট।
৭নং হরিরামপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আবু সাঈদ (চশমা) পেয়েছেন ৬২৭৪ ভোট, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী মেজবাহুল আলম (নৌকা)। তিনি পেয়েছেন ৩৩১৩ ভোট।
১২নং আমিরাবাড়ী ইউনিয়নের আলহাজ্ব আনিছুর রহমান ভুট্টো (আনারস) পেয়েছেন ৪৯৪৪ ভোট, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন বিএনপি প্রার্থী এনামুল হক ভূঁইয়া (ধানের শীষ)। তিনি পেয়েছেন ৪২৭৮ ভোট। ৬নং ত্রিশাল (সদর) ইউনিয়নে আ.জ.ম মাসুদ আল আমিন (চশমা) পেয়েছেন ৬৫৯১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী শাহজাহান পেয়েছেন ৫২২৯ ভোট।
৫নং রামপুর ইউনিয়নে নাজমুল সরকার (আনারস) পেয়েছেন ৬৭৪৭ ভোট, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ প্রার্থী ফখর উদ্দিন পেয়েছেন ৫৩৫৫ ভোট।
এছাড়াও কেন্দ্রে  বিভিন্ন জটিলতার কারণে উপজেলার ৪নং কানিহারী ইউনিয়নে ১টি ও ৯নং বালিপাড়া ইউনিয়নে ২টি কেন্দ্র স্থগিত করা হয়।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন জানান, উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের ১০টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের নাম বেসরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। দুটি ইউনিয়নের ৩টি কেন্দ্রে জটিলতা থাকায় তা স্থগিত করা হয়েছে।
শনিবার সকাল ৮টা থেকে উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের ১১৪টি ভোট কেন্দ্রে একযোগে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শুরু হলেও উপজেলার ৪নং কানিহারী, ৯নং বালিপাড়া, ১০নং মঠবাড়ী, ১নং ধানীখোলা ও ১১নং মোপুর ইউনিয়নে বিচ্ছিন্ন কিছু সহিংসতা হয়েছে। এ সকল ঘটনার পাল্টা জবাবে পুলিশ ৮ রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ৪নং কানিহারী ইউনিয়নের ১টি ও ৯নং বালিপাড়া ইউনিয়নের ২টি কেন্দ্র স্থগিত ঘোষণা করা হয়।

ব্রেকিং নিউজঃ