| |

সকাল থেকে রাত অবধি ঘুরেই চলেছে ময়মনসিংহে সেলাই মেশিনের চাকা

আপডেটঃ 3:38 pm | June 20, 2016

Ad

মো: মেরাজ উদ্দিন বাপ্পী:
ঘড়-ঘড় শব্দে করে অবিরাম চলছে সেলাই মেশিনের চাকা। একনাগাড়ে পোশাক তৈরি করে চলেছেন দর্জিরা। দম ফেলারও যেন ফুরসত নেই তাদের। এমনই ব্যস্ততা এখন ময়মনসিংহের দর্জিপাড়ায়। ঈদকে সামনে রেখে নতুন পোশাক তৈরি করতে কারখানাগুলোতে বিশ্রামহীন সময় পার করছেন শ্রমিকরা।
শহরের দর্জিপাড়ায় সরেজমিনে টেইলার্সসহ বিভিন্ন দর্জির দোকানে গিয়ে দেখা গেল পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পোশাক তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন দর্জি শ্রমিকরা। ব্যস্ততা বেশি মেয়েদের থ্রি-পিস, কামিজসহ বাহারি ডিজাইনের পোশাক তৈরির টেইলার্সগুলোতে। খুব একটা পিছিয়ে নেই ছেলেদের পোশাক তৈরির টেইলার্সগুলোও। নানা ডিজাইনের পাঞ্জাবি, শার্ট-প্যান্টের সেলাই চলছে হরদম। সেলাই মেশিনের বিরামহীন শব্দে দর্জিপাড়ায় এখন চলছে উত্সবের আমেজ। সকাল থেকে রাত অবধি ঘুরেই চলেছে সেলাই মেশিনের চাকা। থান কাপড়ের দোকান থেকে কাপড় কিনে নারী-পুরুষ-শিশু সকলেই ছুটছেন দর্জি পাড়ায়।
টেইলার শ্রমিকরা রমজানের প্রায় ১০ দিন আগে থেকেই শুরু করেন ঈদ উপলক্ষে কাপড়ের সেলাইয়ের কাজ। সেই থেকে প্রায় প্রতিদিনই তারা টেইলারিং হাউজে ঘুমাচ্ছেন এবং খাওয়া-দাওয়াও সারছেন সেখানে। তবে ২০/২৫ রমজানের পর কোন প্রকার অর্ডার তারা নিবেন না বলে জানায়।
টেইলারিং হাউজে সেলাই করতে আসা গ্রাহকরা জানান, শহরের আধুনিক শপিং মলে যে হারে ভিড় ও দাম চড়া, তাতে ইচ্ছা থাকা সত্বেও সেখানে যাওয়ার উপায় নেই। অন্যদিকে নিজের পছন্দসই কাপড় কিনে মনগড়া ডিজাইনের পোশাক তৈরির জন্য যেমন থান কাপড়ের দোকানে ভিড়, তেমনি টেইলারিং দোকানে ভিড় থাকছে উপচেপড়া। তাহমিনা, শান্তা, শাকিলা ও বাবলু জানান, তারা কোনদিনই গার্মেন্টস দোকানে কাপড় কিনতে যান না। কারণ পোশাকগুলোতে আধুনিকতার ছোয়া থাকলেও কাপড় তেমন একটা ভালো হয় না।
তাছাড়া মনের মতো ফিটিংও হয় না পোশাকগুলোর। থান কাপড়ের দোকানে গেলে সেখানে যেমন পছন্দসই কাপড় কেনা যায় তেমনই মনের মাধুরী দিয়ে ডিজাইন তৈরি করে তা টেইলারিং দোকানে সেলাই করলে ফিটিংও হয় ভালো। এতে খরচও পড়ে প্রায় অর্ধেকের মতো। আর এ কারণেই ময়মনসিংহ  শহরের প্রায় প্রতিটি টেইলারিং দোকানে নতুন ডিজাইনের কাপড় সেলাই করতে আসছেন আধুনিক সকল গ্রাহকরা।
স্টাইলো টেইলারিং এর মুকলেসুর রহমান ও সজল বাবু সরকার জানান, প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার টেইলার শ্রমিক। এরা বছরে ৮ থেকে ৯ মাস অলস সময় পার করলেও ৩ মাস পার করেন ব্যস্ততায়। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ব্যস্ততা বাড়লেও বাড়েনি শ্রমিকদের মজুরি। আগের মতোই ছেলেদের একটি শার্ট তৈরির মজুরি ৮৫ টাকা, প্যান্ট ১২০ টাকা, মেয়েদের থ্রি-পিস ৭৮ টাকা এবং কোটের মজুরি ৫শ’ টাকা।
শ্রমিকরা জানান, ঈদ উপলক্ষে আমরা দৈনিক ৫০০-১০০০ টাকা পর্যন্ত কামাতে পারছি। কিন্তু শ্রমিকদের বেতন বাড়ানো হয় না। নেই কোনো ভাতা। এভাবে কি সংসার চলব।

ব্রেকিং নিউজঃ