| |

আগের অবস্থায় নেই ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আমূল পরিবর্তনের অবদান পরিচালক ব্রিগেডিয়ার মোঃ নাছির উদ্দিনের

আপডেটঃ 9:46 pm | July 24, 2016

Ad

মো: মেরাজ উদ্দিন বাপ্পী:
আগের অবস্থায় নেই ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, চিকিৎসাসেবার নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছিল তখন মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে ৫৪ বছর আগের প্রতিষ্ঠিত এ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
ব্রিগেডিয়ার মোঃ নাছির উদ্দিন যখন এই হাসপাতালে আসেন তখন সত্যিকার অর্থেই হাসপাতালের অবস্থা ছিল বেশ নাজুক। গাইনি বিভাগের যে বারান্দা আঁশটে গন্ধ আর রক্তে ভরে থাকত তাতে আজ ময়লার টুকরোও নেই রান্নাঘরের পাশ দিয়ে যাবার সময় রোগীদের জন্য রান্না করা খাবারের সুগন্ধে মাঝে মাঝে অনেকেই হয়ত আফসোস করেন কেন যে রোগী হলাম না।
বেশিরভাগ ঔষধ, গ্লাভস, ক্যাথেটার, অপারেশনের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস রোগীদের কিনে আনতে হত। দরিদ্র রোগীদের জন্য একমাত্র ভরসা ছিল ওয়ার্ড ফান্ড। ডাক্তাররা নিজের গাঁট থেকে বা বিভিন্ন মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করে গরীব রোগীদের সাহায্য করতেন।
কিন্তু ব্রিগেডিয়ার মোঃ নাছির উদ্দিন দায়িত্ব পাওয়ার পর পর ঘটনার মোড় বদলে গেল। তিনি প্রথমে হাসপাতালের দুর্নীতিগ্রস্থ অংশে হাত দিলেন ক্রাশ প্লান নিলেন। কর্মচারী ইউনিয়ন ও বিভিন্ন জায়গা থেকে রাজনৈতিক চাপও তাকে টলাতে পারল না।
পরিচালক ব্রিগেডিয়ার মোঃ নাছির উদ্দিন বললেন, আমি কতটুকু দুর্নীতি বন্ধ করতে পারব জানি না, কিন্তু আমি এখানে থাকতে চোরদেরকে শান্তিতে চাকরি করতে দিব না।
এখন হাসপাতালের খাবার উন্নত, হাসপাতাল পরিচ্ছন্ন, আলোয় আলোকিত, ক্যানুলা থেকে শুরু করে অপারেশনের সুতো কিংবা মাইক্রোপোরটি পর্যন্ত সাপ্লাই পাওয়া যায়। মাঝে মাঝেই যে জিনিসপত্রগুলোর গুণগত মান কমে যায় না এমন নয়। তবে মাননীয় পরিচালক এবিষয়ে এখনও কাজ করে চলেছেন। শত বাধা-বিঘœ আর অশান্তির মাঝে প্রচন্ড কাজের চাপে হাঁপিয়ে ওঠা ডাক্তাররা স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেল্নে যখন তাঁরা দেখেন শকের রোগীকে বাঁচানোর জন্য ইমার্জেন্সি স্যালাইনটি কিনে আনার জন্য অপো করতে হচ্ছে না। কিংবা অপারেশনের ঔষধ কেনার টাকা নেই বলে অনেক রোগীই মন খারাপ করে ফিরে যাচ্ছে না। তাঁদের এত কষ্ট এত শ্রম বৃথা যাচ্ছে না তখন তাঁরা একটু হাসেন এবং অবশ্যই এতোসব পরিবর্তনের নেপথ্যের কারিগর হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দিন আহমেদকে মনে মনে ধন্যবাদ দেন।
বৃহত্তর ময়মনসিংহের ৬ জেলার প্রায় ৪ কোটি মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রধান ভরসাস্থল এ হাসপাতাল। সিলেট, সুনামগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, গাজীপুরের মানুষজনও প্রতিদিন এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন।
ময়মনসিংহের শিশু রোগীর বাবা মিন্টু কলেজের সাবেক ভিপি কবির খান চিকিৎসা নিতে সপ্তাহখানেক ছিলেন এ হাসপাতালে বদলে যাওয়া হাসপাতালে অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, রোগী শয্যা এখনো চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। তবে এখন হাসপাতালেই বিনা খরচে সব ওষুধ মিলছে। হাসপাতালের ওষুধ বাইরে পাচার করে ফার্মেসিতে বিক্রি বন্ধ হয়েছে, কমেছে দালালদের উৎপাত। রোগ নির্ণয়ের পরীা-নিরীা করতে ও ওষুধ কিনে আনতে বাইরে পাঠানোর মাত্রাও কমেছে।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৪র্থ শ্রেনী সরকারী কর্মচারী সমিতির সভাপতি মো: আলী হোসেন ও সাধারন সম্পাদক মঞ্জুরুল হক বলেন, পরিচালক স্যারের একটি বড় সাফল্য হচ্ছে হাসপাতালের মানোন্নয়নের ল্েয প্রথমে নার্সদের সাথে মিটিং করে সমস্যা চিহ্নিত করেন। এরপর ৪র্থ শ্রেনী সরকারী কর্মচারী ও প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্তদের সাথে মিটিং করেন। অনেক যন্ত্রপাতি এবং পরীা নিরীার ব্যবস্থা রোগীদের জন্য উন্মুক্ত করেন।
আগের অবস্থায় নেই ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এমন এক প্রশ্নের জবাবে ৪র্থ শ্রেনী সরকারী কর্মচারী সমিতির এই ২ নেতা বলেন, পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দিন আহমেদ জেন তার চাকরির শেষ সময় টুকু ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কাটিয়ে জান এ প্রার্থনা করছি। এবং তার এ সাফল্যের সাথে একমত হয়ে কাজ করেযেতে চান।

ব্রেকিং নিউজঃ