| |

১৫ই আগষ্টের পুর্বের কাহিনী

আপডেটঃ 9:11 pm | August 03, 2016

Ad

প্রদীপ ভৌমিক ॥
বাঙ্গালীর জীবনে আগষ্ট মানেই শোকের মাস। এ মাসেই বাংলাদেশের মানুষ হারিয়েছে তাদের শ্রেষ্ট সন্তান স্বাধীনতার স্থপতি জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। বাঙ্গালী জাতীর ইতিহাসে ১৫ই আগষ্ট বিপথগামী বিশ্বাস ঘাতক কতিপয় সেনা সদস্য নির্মম ভাবে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার মধ্যদিয়ে ইতিহাসে এক কলঙ্গ জনক অধ্যায়ের সুচনা করে। আগষ্টের ১৫ তারিখ পাকিস্থানের এদেশীয় এজেন্ট, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মধ্য প্রাচ্যের সৌদি আবর, লিবিয়া ও অন্যান্য কয়েকটি মুসলিম দেশের সহযোগিতায় বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর পথভ্রষ্ট সৈনিক, কতিপয় রাজনৈতিক দল, তৎকালীন আওয়ামীলীগের সাথে সংশ্লিষ্ট বেইমান আদর্শচুত্য ব্যাক্তি ও নেতৃবৃন্দ প্রশাসনের ভিতরের স্বাধীনতা বিরোধী ষড়যন্ত্রকারীরা ইতিহাসের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করে। এই হত্যার উদ্যেশ্য ছিল গনতান্ত্রিক ধর্ম নিরপেতা, সমাজ তন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িক চিন্তা চেতনায় বিশ্বাসী বাংলাদেশকে ধবংস করে দিয়ে সাম্প্রদায়িক চিন্তা চেতনায় বিশ্বাসী অগনত্রান্ত্রিক পাকিস্থানী ভাবধারায় বিশ্বাসী একটি রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েম করা। আগামী প্রজন্মকে জানতে হবে ইতিহাসের ঐতিহাসিক সত্য ঘটনাবলী। বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রোপট তৈরীতে কাদের কর্মকান্ড জাতীর পিতাকে হত্যার পথ সুগম করে ছিল । সেনা বাহিনীর ভিতরে লুকিয়ে থাকা পাকিস্থানের স্বার্থ রাকারী সেনা কর্মকর্তা ও সদস্য এমনকি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তৎকালীন উপপ্রধান জিয়াউর রহমানের মত সেনা অফিসাররাও বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রের সাথে যুক্ত হয়। বৈজ্ঞানিত সমাজতন্ত্রের ধারক রোমান্টিক বিপ্লবী নামধারী ব্যাক্তিবর্গ যেমন জাসদের ত্বাত্তিক নেতা সিরাজুল আলম খান, আ.স.ম আব্দুর রব, শাহজাহান শিরাজ, মুক্তিযোদ্ধা মেজর আব্দুল জলিল, হাসানুল হক ইনু‘র মত স্বাধীনতার যুদ্ধের সুর্ষ সৈনিকরাও বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে গণবাহিনী গঠন করে হাজার হাজার লোককে হত্যা করে এক বিশৃংখল অবস্থা সৃষ্টি করে। স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামীলীগকে জনবিচ্ছিন্ন করার মানসে কিছু স্বাধীনতা বিরোধী ও তাদের অনুসারীরা ঢুকে পরে ঐসময়ের নবগঠিত রাজনৈতিকদল জাসদে। কিছু ঠাই নেয় ভাসানী ন্যাপ, পুর্ব বাংলা কমিউনিষ্ট পার্টি ও সর্বহারা নামদারী সংগঠনে। কমরেড তোহা, আব্দুল মতিন (ভাষা সৈনিক), দিলীপ বড়–য়া (সাবেক মন্ত্রী) ও সিরাজ শিকদারের মত অতি বিপ্লবীদের দলে। সর্বহারা পার্টির নামে গুপ্ত হত্যা, শ্রেনী শত্র“ খতমের নামে সারা বাংলাদেশ ব্যাপী শুরু করে ভয়াবহ তান্ডব। প্রসঙ্গগত উল্লেখ থাকে যে, হক -তোহার নেতৃত্বাধীন চীনা পন্থী পুর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি স্বাধীনতার যুদ্ধ শুরু হওয়ার পুর্বেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকে দুই কুকুরের মতার লড়াই বলে অখ্যায়িত করে ছিল। অর্থাৎ তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে মেনে নিতে চায়নি। পাটের গোদামে আগুন, ব্রীজ ধংস, যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করার নিমিত্তে বিভিন্ন ধরনের অর্ন্তঘাত মুলক কর্মকান্ড চালায় এরা। যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশের অর্থনীতির অবস্থা যাতে মজবুত হতে না পারে দুর্ভি পীরিত এলাকায় খাদ্য সহ ঔষধ ও অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য যাতে সহজে পৌছতে না পারে জনদুর্ভোগ বৃদ্ধি পেয়ে বঙ্গবন্ধু ও তার সরকারের জনপ্রিয়তা হ্রাস করাই তাদের এই অপচেষ্টার মুল কারন। সারা দেশব্যাপী এই সমস্থ চক্রান্তকারীরা নানাবিধ অপপ্রচারের মাধ্যমে তৎকালীন সরকারকে অজনপ্রিয় করার জন্য নানা রকম অপপ্রচার চালাতে থাকে। দৈনিক ইত্তেফাকের ফটোগ্রামার আফতাব হোসেন বাসন্তী নামক এক অপ্রকৃতিস্থ নারীকে অর্থের বিনিময়ে মাছ ধরার জাল পরিয়ে ছবি তুলে কাপড়ের অভাবে জাল পরে লজ্জা নিবারন করছে এ ধরনের ক্যাপশন দিয়ে ছবি ছাপায়। যা তৎকালীন সময়ে বাংলাদেশে প্রচন্ড নেতিবাচক আলোচনার সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে এই তথাকথিত আফতাব হোসেনকে বিএনপির শাসন আমলে খালেদা জিয়া সরকার রাষ্ট্রিয় পদক প্রদান করে ছিল। ব্যারিষ্টার মঈনুল হোসেন ও ব্যারিষ্টার আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নিয়ন্ত্রনাধীন দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামীলীগ সরকারের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার পর ‘৭৫ পুর্ববর্তী সময়ে তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে অনেক নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ হত। অনেকেই মনে করেন ব্যারিষ্টার মইনুল হোসেন ও ব্যারিষ্টার আনোয়ার হোসেন সেই সময় সিআইএর এজেন্ট হিসাবে কাজ করে ছিলেন। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সেই সময়কার নেত্রী বর্তমান কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর মত নেত্রীও বঙ্গবন্ধুর চামড়া দিয়ে ডুগডুগি বানাবে বলে এক ছাত্র সমাবেশে বক্তৃতা করে ছিলেন। আরব বিশ্বের মুসলিম দেশ গুলো ইসরাইল – লেবানন যুদ্ধের অজুহাতে জ্বালানী তেলের দাম ৫ ডলার থেকে হটাৎ করে ৮০ ডলারে উন্নীত করে। যা নতুন স্বাধীনতা প্রাপ্ত যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশের অর্থনীতির উপর প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি করে। পাক বাহিনী ও তার সহযোগী মুসলীম লীগ, জামাত, রাজাকার, আলবদরদের নির্যাতনের ও ধবংস যজ্ঞের ফলে ল ল মানুষ গৃহহীন হয়ে পরে। এদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা ও পর পর কয়েকটি বন্যা, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে সৃষ্ট খাদ্যাভাব নিরসনের জন্য তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকার যখন আপ্রান চেষ্টা করে যাচ্ছিল সেই মুহুর্তে আমেরিকা ৪৮০ প্রজেক্টের আওতায় বাংলাদেশের দিকে অগ্রসরমান আমদানীকৃত খাদ্য বোঝাই জাহাজ মধ্য রাস্তা থেকে ফিরিয়ে নেয় যাতে করে বাংলাদেশে দুর্ভী তীব্র আকার ধারন করে এবং জনগন মনে করে স্বাধীন বাংলাদেশের চাইতে পাকিস্থান ভাল ছিল। সরবরাহ কম ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল না থাকার কারনে চালের দাম যখন ৪০ টাকা থেতে ৮০ টাকায় উঠল তখন স্বাধীনতা বিরোধী চক্র পাকিস্থানী এজেন্টরা সাম্প্রদায়িকতাকে উস্কে দিতে দেয়ালে দেয়ালে লিখল “৮০ টাকা চালের দাম, হরে কৃষ্ণ হরে রাম”। তথাকথিত বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের ধারক জাসদ সারা দেশ ব্যাপী দেয়াল গুলোতে একটি কার্টুন আকে, কার্টনটিতে দেখা যায় অনাহার কিষ্ট একটি শিশু একটি থালা হাতে নিয়ে তার মায়ের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলছে মা ভাত দাও, মা উত্তর দিচ্ছে বাবা মুজিববাদ খাও। এমনি ভাবে বিভিন্ন উপায়ে বঙ্গবন্ধু মুজিবের সরকারকে অজনপ্রিয় করার প্রচেষ্টা চালানো হয়ে ছিল। স্বাধীনতা যুদ্ধের বিপে অবস্থানকারী চীন, পাকিস্থান, আমেরিকা, লিবিয়া ও আরব জগতের কতিপয় মুসলিম দেশের ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে যোগদেয় স্বাধীনতা বিরোধীদের অনুসারীরা ও মুজিব নগর সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খন্দকার মোসতাক আহমেদ, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, তাহের উদ্দিন ঠাকুর, মাহবুবুল হক চাষীর মত বিশ্বাস ঘাতকরা ও পাকিস্থান থেকে ফেরত সেনা কর্মকর্তা সৈয়দ ফারুক রহমান, আব্দুর রিশিদ, কর্নেল শাহরিয়ার, মেজর ডালিম এবং স্বাধীন বাংলাদেশের সেনা বাহিনীর উপ প্রধান জেনারেল জিয়ার মত বিশ্বাস ঘাতকরা, যিনি জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই আওয়ামীলীগ সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্র শুরু হয়। আর ষড়যন্ত্রকারীদের সহায়তাকারীদের মধ্য মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী হেনরী কিসিঞ্জার ছিল অন্যতম। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারত, রাশিয়া ও অন্যান্য কমিউনিস্ট রাষ্ট্র গুলো যেহেতু স্বাধীনতা যুদ্ধকে সাহায্য ও সহযোগিতা করেছে সেই জন্য পাকিস্থানের বন্ধু চীন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও মুসলিম দেশ গুলো বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে মেনে নিতে পারছিল না এটাই ছিল বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামীলীগ সরকারের প্রতি তাদের ােভের অন্যতম কারন। যেহেতু বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে পাকিস্থান থেকে আলাদা হয়ে বাংলাদেশের সৃষ্টি হয়েছে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামীলীগকে উৎখাত করাই ছিল তাদের মুল উদেশ্য।
১৯৭৫ সালের আগষ্ট মাসের পুর্বেই তৎকালীন সেনাবাহিনীর উপপ্রধান জেনারেল জিয়াউর রহমান কিছু পথভ্রষ্ট সামরিক কর্মকর্তা আওয়ামীলীগের ভেতরের ষড়যন্ত্রকারী নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের আমলা ও পাকিস্থানী ভাবধারায় বিশ্বাসী কিছু সরকারী কর্মচারী, কতিপয় রাজনৈতিক দল গোপনে একত্রিভুত হয়ে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা ও আওয়ামীলীগ সরকারকে উৎখাতের সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। তার ধারাবাহিকতায় ১৫ই আগষ্ট কালো রাত্রিতে বাঙ্গালী জাতীর স্রষ্টা জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করা হয়। সেই থেকেই শুরু হয় পিছনের দিকে পথ চলা যুদ্ধাপরাধী ও তাদের দোসরা পুর্নবাসিত হতে থাকে রাষ্টের সর্বেেত্র। আজ বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক শক্তি ও যে জঙ্গীবাদ মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে এটা সেই সমস্ত ঘটনারই ফলশ্র“তি। স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ গ্রহনকারী ১৫ই আগষ্টের পুর্বে ও পরে যারা ভুল পথে গিয়ে আবেগের বশে কিংবা মতার মোহে ষড়যন্ত্রকারীদের সহায়তা করে ছিল তারা আজ অতীতের ভুল থেকে শিা নিয়ে স্বাধীনতাকামী শক্তির সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ ও জাতীর প্রয়োজনে স্বাধীনতার মুল্যবোধ অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে আওয়ামীলীগের সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জঙ্গী ও মৌলবাদীদের থাবায় ত বিত বাংলাদেশকে রার জন্য শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কাজ করে যাচ্ছে। জাসদ সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের বর্তমান রাজনৈতিক প্রোপটে জাতীর স্বার্থে এটা সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন বাংলাদেশের জনগন। এ মুহুর্তে জঙ্গী ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়া ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই। তাই এদেশের মানুষ জঙ্গী ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধকারী নেতা ও রাজনৈতিক দল সমুহকে
অভিনন্দন জানায়। এদেশ থেকে উন্নয়নের বাধাগ্রস্থকারীদের উচ্ছেদ করে সুন্দর শান্তিময় একটি দেশ গড়তে পারলেই বঙ্গবন্ধুর আতœা শান্তি পাবে।

ব্রেকিং নিউজঃ