| |

ঝিনাইগাতীর গজনী অবকাশ লেক থেকে পাথর লুটপাটের মহোৎসব

আপডেটঃ 2:03 am | August 18, 2016

Ad

শেরপুর প্রতিনিধি:
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গারো পাহাড় গজনী অবকাশ লেক থেকে পাথর লুটপাটের মহোৎসব চলছে। স্থানীয় পাথর ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা মূল্যের পাথর উত্তোলন করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে আসছে। নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে কোন রকম টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই উত্তোলন করা হচ্ছে পাথর। অপরিকল্পিতভাবে পাথর উত্তোলন করায় গারো পাহাড়ের সৌন্দর্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট হবার পাশাপাশি সরকার বঞ্চিত হচ্ছে বিপুল পরিমাণের রাজস্ব আয় থেকে। সরেজমিনে অনুসন্ধানে গিয়ে দেখা গেছে, অবকাশ কেন্দ্রের লেক খননের নাম করে উত্তোলন করা হচ্ছে পাথর। জানা গেছে, গত প্রায় ৩ মাস ধরে এসব পাথর উত্তোলন কাজ চলছে। অর্ধশতাধিক শ্রমিক পাথর উত্তোলনের কাজে নিয়োজিত রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, গজনী অবকাশ কেন্দ্রের লেকটি পর্যটন কেন্দ্রের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। এ লেকটির কারনে পর্যটকদের ভীড় থাকে ভরবছর পর্যটন কেন্দ্রে। কিন্তু গত বছর আকষ্মিক পাহাড়ী ঢলে লেকের দক্ষিণ পাশের পাড়টি বিধ্বস্ত হয়। জেলা প্রশাসন নিয়ন্ত্রিত এ লেকের পাড়টি আর নির্মাণ করা হয়নি। ফলে গজনী অবকাশ কেন্দ্রে পর্যটকদের আগমন কমে গেছে। গত ১ বছরেও পাড়টি নির্মাণ করা না হলেও ওই লেক খননের নাম করে অবাধে উত্তোলন করা হচ্ছে পাথর। পাথর শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিদিন ১০/১৫ ট্রাক পাথর উত্তোলন ও বিক্রি করা হচ্ছে। অবকাশ কেন্দ্রে প্রবেশের রাস্তা বন্ধ করে রাখা হয়েছে পাথর। এছাড়া অবকাশ কেন্দ্র থেকে পাথরভর্তি ট্রাক চলাচলের কারনে রাস্তাঘাট ভেঙ্গে কেন্দ্রের সৌন্দর্য বিনষ্ট হচ্ছে। বর্তমানে গজনী অবকাশ কেন্দ্রের লেক থেকে অবাধে উত্তোলন করা হচ্ছে পাথর। অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন কোন রকম টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই পাথর ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে অবৈধভাবে এসব পাথর উত্তোলন করে আসছে। ফলে রাস্তাঘাট ভেঙ্গে গারো পাহাড়ের সৌন্দর্য হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়ার পাশাপাশি সরকার বঞ্চিত হচ্ছে রাজস্ব আয় থেকে। এ ব্যাপারে ইউএনও সেলিম রেজার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকের অনুমতি সাপেক্ষে এসব পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে।

ব্রেকিং নিউজঃ