| |

শেরপুরের ঐতিহ্যবাহী গজনী অবকাশ পর্যটন কেন্দ্রকে প্রাণবন্ত করতে চলেছে সংস্কার কাজ

আপডেটঃ 2:06 am | August 18, 2016

Ad

শেরপুর প্রতিনিধি:
শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি গজনী অবকাশ পর্যটন কেন্দ্রকে ভ্রমণ পিপাসুদের আকর্ষণীয় ও সৌর্ন্দয্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে দ্রুত এগিয়ে চলছে লেক খননসহ অন্যান্যা নির্মাণ কাজ। জানা যায়, ২০১৩ সালে ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের পানির তোড়ে গজনী অবকাশের অন্যতম আকর্ষণ লেকটি মুহুর্তের মধ্যে ভেঙ্গে তছনছ হয়ে যায়। উজান থেকে নেমে আসা বালি ও নুড়ি পাথরে লেকটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় সমতলে পরিণত হয়। এতে গজনীর প্রধান আকর্ষণ লেকটি বালুর চরে পরিণত হওয়ায় গজনী অবকাশে আসা পর্যটকদের আকর্ষণ কমতে থাকে। ফলে অন্যান্য বছরের তুলনায় গত ২বছর এই পর্যটনে ভ্রমন পিপাসুদের তেমন ভীড় লক্ষ্য করা যায়নি। গজনী অবকাশ পর্যটন কর্তৃপক্ষের হিসাব মতে প্রতি বছর এই গজনীতে গড়ে প্রায় ৫/৬ লক্ষ পর্যটদের আগমন ঘটে। এই পর্যটকদের কেন্দ্র করে সেখানে বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। শুধু তাই নয়, শীতের মৌসুমে শতাধিক ফেরিওয়ালা এই গজনীতে ব্যবসা করে তাদের পারিবারের জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। আশ-পাশের গ্রামের ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা পর্যটকদের কাছে পানি বিক্রি করে বাড়িত পয়সা আয় করে থাকে। এছাড়া শতাধিক হৃত-দরিদ্র মহিলা ভ্রমনে আসা পর্যটকদের রান্না-বান্নার কাজে সহায়তা ও পানি সরবরাহ করে দৈনিক ৩-৪শত টাকা রোজগার করে থাকে। এভাবে পুরো শীত মৌসুমে গজনী অবকাশও তার আশে পাশের এলাকায় বাড়তি আয়ের মৌসুম হিসেবে পরিগণিত হয়। গত ২০১৩ সালে একদিকে পাহাড়ী ঢলে লেকটি ভেঙ্গে গজনীর সৌন্দর্য্য নষ্ট হয়, অন্যদিকে ভ্রমণে আসা পর্যটকরা প্রতিনিয়ত ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ায় দিনদিন পর্যটকের সংখ্যা কমতে থাকে। যে কারণে গত ২ বছরের গজনীর ব্যবসায়ীদের অনেকটা লোকশান গুনতে হয়েছে। সরকারও রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এ অবস্থায় শেরপুর জেলা প্রশাসক ডাঃ এ.এম পারভেজ রহিমের নির্দেশে ঝিনাইগাতী উপজেরা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সেলিম রেজা গজনী অবকাশ পর্যটন কেন্দ্রকে আকর্ষনীয় ও প্রাণবন্ত করতে এবং ভ্রমণ পিপাসুদের বাড়তি খোরাক যোগাতে বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। ইতিমধ্যে, ঝিনাইগাতী থানার ওসি মোঃ মিজানুর রহমানের কঠোর তৎপরতার মাধ্যমে ছিনতাইকারী চক্রকে নির্মূল করা হয়েছে। বর্তমানে ভেঙ্গে যাওয়া লেকটি কেটে পরিমাণ মত গভীর করা, লেকের ভিতর দিয়ে ঝুলন্ত সেতু নির্মাণ করা, লেকের মধ্যে কৃত্রিম দ্বীপ তৈরী করা এবং গজনী পর্যটন কেন্দ্রে থাকা অন্যান্য সৌন্দর্য্য মন্ডিত স্থাপনাগুলোকে আধুনিকায়ন করা। গজনী কর্তৃপক্ষ আশা করছে, আগামী২/৩ মাসের মধ্যেই এসব কাজ সমাপ্ত হলে বিগত সময়ের চেয়ে গজনী অবকাশের দৃশ্যপট আরো আকর্ষনীয় হবে। এ ব্যাপারে গজনী এলাকার ব্যবসায়ীরা জানান, শেরপুর জেলা প্রশাসকের পরামর্শক্রমে ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সেলিম রেজা গজনী অবকাশ পর্যটন কেন্দ্রের জন্য যা করছেন, তাতে সৌন্দর্য্য বৃদ্ধির সাথে সাথে পর্যটকদের সমাগম বাড়লেও সরকারের রাজস্ব যেমন বাড়বে, তেমনি আমাদের মতো সাধারণ ব্যবসায়ীদেরও লাভবান হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। ঝিনাইগাতী উপজেলা চেয়ারম্যান ও নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সেলিম রেজা প্রাকৃতিক সম্পদ ও সৌন্দর্য্যে ভরপুর, নয়নাভিরাম প্রকৃতিতে সমৃদ্ধ গজনী অবকাশ পর্যটন কেন্দ্র উপভোগ করতে সারাদেশের ভ্রমণ পিপাসুদের আহবান জানান।

ব্রেকিং নিউজঃ