| |

আমি জাতির পিতার কন্যা : প্রধানমন্ত্রী

আপডেটঃ 1:39 am | August 22, 2016

Ad

স্টাফ রিপোর্টার: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমি কখনও মৃত্যুকে ভয় করি না। কারও কাছে মাথা নত করি না উপরে আল্লাহ ছাড়া। একমাত্র আল্লাহর কাছেই আমি মাথা নত করি। কারণ আমি জাতির পিতার কন্যা, এটা আমি সব সময় মনে রাখি। জন্মালে মৃত্যু হবে, তাই মরার আগে আমি মরতে রাজি না।’ ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে গতকাল রোববার বিকেলে রাজধানীতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অস্থায়ী বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এক বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ওইদিন গ্রেনেড হামলার পর সেখানে আহত মানুষের সাহায্য দরকার ছিলো। আহত বা আঘাতপ্রাপ্তদের উদ্ধার না করে লাঠিচার্জ করা হয়, টিয়ারশেল নিপে করা হয়।
তিনি বলেন, গ্রেনেড হামলায় আমরা আইভি রহমানকে হারাই। অনেক আওয়ামী লীগ নেতাকে হারিয়েছে। অনেকে রক্তাক্ত হয়েছে। চারদিকে শুধু লাশ-লাশ দেখা যায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটার পর একটা গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। তারা ১৩টি গ্রেনেড মেরেছে। আমার গায়ে রক্ত দেখে অনেকে ভেবেছে আমি আহত। আল্লাহর রহমতে আমার শরীরে কোনো স্পিøন্টার লাগেনি। হানিফ ভাইয়ের গায়ে লাগে, তিনি রক্তাক্ত হন। সেদিন গ্রেনেডের ধোঁয়ায় কিছু দেখা যাচ্ছিলো না। চলে যাওয়ার সময় আমার গাড়িতে গুলিও করা হয়েছিলো। তবে বুলেট প্রুপ গাড়ি হওয়ায় গুলি লাগেনি। গাড়িটি তিগ্রস্ত হয়েছিলো বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ২১ আগস্টের দিন সমাবেশের আশপাশে পুলিশের কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। কোনো নিরাপত্তাবলয়ও ছিলো না। প্রকাশ্যে দিবালোকে এভাবে গ্রেনেড হামলা করে মানুষ হত্যা করা হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, ২১ আগস্টে গ্রেনেড হামলার পর আরও অনেককে হারিয়েছি। অনেকে স্পিøন্টার নিয়ে বেঁচে আছেন। যতদিন যাচ্ছে তারা শারীরিকভাবে আসুস্থ হয়ে যাচ্ছেন। ‘এতো বড় একটি ঘটনা। যেখানে বিশ্ব বিবেক নাড়া দিয়েছে। বিএনপি নেত্রী উল্টো আওয়ামী লীগকে দায়ী করেছে, আমাকে একটা নিন্দা প্রস্তাব করতে দেওয়া হয়নি’- যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। আল্লাহ কিছু মানুষকে কিছু কাজ দিয়ে পাঠান। তা না হলে আমি রা পেতাম না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৫ সালে ১৭ আগস্ট সমগ্র দেশে একইসঙ্গে আধা ঘণ্টায় পাঁচশ স্থানে বোমা হামলা চালানো হয়। ওয়ান-এলিভেনের প্রোপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ২০০৭ সালে ইমরাজেন্সি সককার আমাকে গ্রেফতার করেছে। সমস্ত আঘাত আসে আমার ওপরে। শুধু মামলা নয়, একটার পর একটা ষড়যন্ত্র চলতে থাকে। তখন ঢাকা বিশ্বিবিদ্যালয়ের শিক, শির্থীসহ দেশের অনেকে প্রতিবাদ করেছে। ফলে আমরা গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে পেরেছিলাম। বর্তমান সরকারের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা দারিদ্র্য বিমোচনে বহুমুখী কর্যক্রম নিয়েছে। দারিদ্র্যের হার ২২ শতাংশে নামিয়ে আনতে সম হয়েছি। জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস দূর করতে আমরা বিভিন্ন কার্যক্রম চালাচ্ছি। গোটা বিশ্বের অস্থিরতা কথা উল্লেখ তিনি বলেন, কিছুদিন আগে আমেরিকার মতো জায়গার মসজিদের ইমাম নামাজ পড়ে ফিরছেন, তখন তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। সন্ত্রাসী হামলার ঘটানা সারা বিশ্বে ঘটে যাচ্ছে। জনগণের শক্তি হচ্ছে বড় শক্তি, সমাজের সব স্তরের  মানুষ যদি রুখে দাঁড়ায়, তবে এই জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসের ঘটনা দেশকে মুক্ত করা সম্ভব বলে মনি করেন তিনি।

ব্রেকিং নিউজঃ