| |

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ইতিহাস

আপডেটঃ 12:52 am | August 23, 2016

Ad

এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল:
(প্রবন্ধটি ১৫ আগষ্ট ২০১৬ পালন উপলে ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবী সমিতি আয়োজিত সেমিনারে ১৮ আগষ্ট পাঠ করা হয়।) বাঙ্গালী জাতিসত্বা বজায় রেখে সুনির্দিষ্ট ভৌগলিক সীমারেখা বলয়ে সাহসী ও সত্য ভাষনে উচ্চারণ করে, সময় উপযোগী রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, বাংলাদেশের গোটা জনগনকে ঐক্যবদ্ধ করে, দেশপ্রেমে উজ্জীবিত করে, ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত জেল জুলুম ও নিপীড়ন নির্যাতন, ১৯৫২ সালের ২১শের রক্তরণ, ৬ দফা ঘোষনা করে ও ১১ দফা সমর্থন করে, ফাসির মঞ্চের আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা মোকাবেলা করে, ১৯৬৮-৬৯ এর গণঅভূত্থানে শহীদ আসাদ, আনোয়ারা, মতিউর এবং মিন্টুসহ অনেক শহীদের রক্তে বাংলার মাটি রঞ্জিত করে, বাংলার জনগনের বিজয়ীনেতা ১৯৭০ সালের পাকিস্তান জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীর ম্যান্ডড গ্রহন করে, ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক ভাষনে বাংলার স্বাধীনতার কথা উচ্চারণ করেন। তারপর অসহযোগ আন্দোলন, তখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের কথাই জনগনের আইনে পরিনত হয়। এরপর পাক হানাদার বাহিনী ২৫ মার্চ কাল রাতে বাংলার জনগনের উপর ঝাপিয়ে পড়লে, সাথে সাথে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এইভাবেই হাজার বছরের পুরোনো বাঙ্গালী জাতি স্বাধীন হয় জনকের আসনে অধিষ্ঠিত হন বাঙ্গালীর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আরব দেশ থেকে ইসলাম প্রচার করতে আসা এবং গৌরবে প্রতিষ্ঠিত বর্তমান গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে বনেদী এক মুসলিম পরিবারে জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান জন্ম গ্রহন করেন। এই মহান নেতা বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙ্গালী জাতির অধিকার এবং স্বধীকার আন্দোলনে নিরলস ভাবে লড়াই সংগ্রাম আন্দোলন, কারা বরন নিপীরিত নির্যাতিত হয়েছেন। ফাঁসির কাষ্ঠে আরোহন করে আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি বলে গান করেছেন। তিনি মৃত্যু ভয়ে ভীত হন নাই। বাংলার জনগনের অধিকার আদায়, স্বাধীকার স্বাধীনতা অর্জন, বাংলার গণ মানুষের হাসি ফুটাবেন সোনার বাংলা গড়ে তুলবেন এটাই ছিল তার জীবনের স্বপ্ন। ইসলাম ধর্ম প্রচারে আরব দেশ থেকে আসা টুঙ্গিপাড়ার প্রতিষ্ঠিত বনেদী এক শেখ পরিবারে ১৭ মার্চ ১৯২০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম শেখ লুৎফর রহমান। মাতার নাম – সায়রা খাতুন। ১৫ আগষ্ট ১৯৭৫, বঙ্গবন্ধু ভবন, ৩২ নং সড়ক, ধানমন্ডিতে ঘাতক দ্বারা নিহত হন। শিাগত যোগ্যতা – বি.এ. এবং আইনশাস্ত্রে অধ্যায়নরত অবস্থায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্দোলনের কারনে বহিস্কৃত হন।
গ্রেফতার ও কারাবরণ – বার বার, অনেক বার, বছরের পর বছর, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাসহ অন্যান্য অনেক মামলা দীর্ঘদিন কারাবরণ করেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব টুঙ্গিপাড়ায় লেখাপড়ার শুরুতে এম.ই স্কুল নামক একটি ইংরেজি স্কুলে ভর্তি হন। অত্র স্কুলে ৩য় শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করে তার পিতার কর্মস্থল তৎকালীন মহুকুমা শহর গোপালগঞ্জে পাবলিক স্কুলে ভর্তি হন। ১৯৩৪ সালে দুষ্ট প্রকৃতির শেখ মুজিব খেলার মাঠে দুরন্ত, গান পাগল শেখ মুজিব এলাকায় সর্বত্র, ব্রতচারী একজন শেখ মুজিব হঠাৎ বেরি বেরি রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গমন করেন। এটাই ছিল প্রথম কলকাতায় যাত্রা। প্রায় ২বছর লেখাপড়া থেকে বিচ্ছিনড়ব থাকেন, সুস্থ হয়ে ফিরে আসেন কিন্তু রোগ তার পিছনে লেগেই থাকে। ১৯৩৬ সালে চোখের গোকোমা রোগে আক্রান্ত হয়ে, আবার কলকাতায় চোখ আপারেশন করে ফিরে এসে সুস্থ্য হয়ে পুনরায় লেখাপড়া আরাম্ভ করেন। ১৯৩৬ সালের মাদারীপুরে ফিরে এসে তিনি নেতাজী সুভাস বোসের স্বদেশী আন্দোলনের সাথে যুক্ত হন। ১৯৩৭ সালে স্কুল পরিবর্তন করে গোপালগঞ্জের মিশন স্কুলে ভর্তি হন। এই সময় তিনি বাড়ী-বাড়ী ঘুরে থলি হাতে মুষ্ঠিচাল সংগ্রহ করে গরীব ছাত্রদের, গরীব পরীার্থীদের বই ও পরীার খরচ দিতে থাকেন। এলাকায় ঘুরাঘুরি করে তার পরিচালিত সেবা সমিতির মাধ্যমে গরীব ছাত্রদের জায়গীর ঠিক করে দিতে থাকেন। ১৯৩৭ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব তৎকালীন বাংলার প্রধানমন্ত্রী শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক এবং শ্রমমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী গোপালগঞ্জ আসলে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর প্রধান হিসেবে তাদের স্বাগত জানান। একজন সরকারী অফিসার হোসেন সোহরাওয়ার্দীর সাথে তরুন শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার পারিবারিক পরিচয় তুলে ধরেন। তখন কথা হয় বঙ্গবন্ধুর সাথে হোসেন সোহরাওয়ার্দী। তারপর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী সাহেব বঙ্গবন্ধুকে তার ঠিকানা দিয়ে কলকাতায় যেতে বলেন। ১৯৩৮ সালে একটি ঘটনায় বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার হন এবং ৭দিন কারাবরন করেন, এটাই তাঁর প্রথম কারা বরন। এই সংবাদ যায় হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর কাছে। কলকাতায় যাওয়ার ডাক পান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। ১৯৩৯ সালে কলকাতায় হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী সাথে সাাত করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। কলকাতায় অনেক ছাত্র নেতা রাজনৈতিক নেতা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের সাথে পরিচয় হয় শেখ মুজিবের। তখন কলকাতা থেকে ফিরে এসে শেখ মুজিব লেখাপাড়ার দিকে মনোনিবেশ করেন এবং খেলাধুলার সংগঠন করতে থাকেন। ১৯৪১ সালের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেট্রিক পাশ কারেন। তারপর তিনি কলকাতায় ইসলামিয়া কলেজে ভর্তি হন। কলকাতার বেকার হোষ্টেলে নিয়মিত যাতায়াত করতে থাকেন। এই সময় তৎকালীন রাজনৈতিক প্রোপটে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সানিদ্ধে মুসলিম লীগ সংগঠনের সাথে ০১ বিশেষ ভাবে জড়িত হয়ে পরেন। ১৯৪২ সালে দুর্ভি দেখা দিলে তিনি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সাথে ভীষন পরিশ্রম করে দুর্ভি মোকাবেলায় লঙ্গর খানা খোলেন এবং দুর্ভি পীড়িত মানুষের কাছে ত্রাণ বিতরন করে তাদের পাশে দাড়ান। ঠিক এই সময়টাতেই বঙ্গবন্ধুর সাথে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর গভীর রাজনৈতক সম্পর্ক গড়ে উঠে। এক পর্যায়ে ১৯৪২ সালে নিজ এলাকায় ফিরে এসে এলাকার বন্যা পীড়িত মানুষের সাথে কাজ আরাম্ভ করেন। এই সময়েই বঙ্গবন্ধুর পিতার ইচ্ছা অনুসারে ২২বছর বয়সে বঙ্গবন্ধুর বিয়ের ফুলসজ্জা হয়। তখন বঙ্গবন্ধু রিলিফ বন্টনের সাথে এবং পরীার লেখাপড়ায় তিনি ব্যাস্ত ছিলেন। একদিন এক সকালে বঙ্গবন্ধুর পিতা জনাব লুৎফুর রহমান বঙ্গবন্ধুকে ডেকে বললেন- পাকিস্তানের জন্য আন্দোলন করছ সুখের কথা- জনগনের সেবা করছ সুখের কথা- তবে লেখাপড়া করতে ভুলিও না। লেখাপড়া না করলে মানুষ হতে পারবানা। একটা কথা মনে রেখ, ঝরহপবৎরঃু ড়ভ ঢ়ড়ৎঢ়ড়ংব ্ যড়হবংঃু ড়ভ ঢ়ড়ৎঢ়ড়ংব থাকলে জীবনে পরাজিত হবেনা। এই কথাগুলো বঙ্গবন্ধু কোনদিন ভুলে যান নাই। এই সময়ের পর বঙ্গবন্ধু তার রাজনীতি কলকাতায় ও বাংলাদেশে বিস্তার ঘটাতে থাকেন এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সেড়বহধণ্য হয়ে উঠেন। কলকাতায় হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গায় পরিস্থিতি অনুধাবন করে মুসলিম কমিউনিটিকে রা এবং সাথে সাথে দাঙ্গা হাঙ্গামা বন্ধের েেত্র বিশাল ভূমিকা গ্রহন কারেন। কলকাতায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শেষ হতে না হতেই নোয়াখালীতে দাঙ্গা আরাম্ভ হলে সাহসী শেখ মুজিব অত্বান্ত হিন্দুদের রা করতে নোয়াখালীতে ছুটে যান। ইতোমধ্যে বঙ্গবন্ধু বি.এ. পাশ কারেন। ইতিহাসের চরাই উৎরাই পেরিয়ে ১৯৪৭ সালে ১৪ আগষ্টে পাকিস্তান, ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীন হয়। বঙ্গবন্ধু ফিরে আসেন বাংলাদেশে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন।
পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রটি স্বাধীন হওয়ার পর সরকার গঠন, ২ অংশের মাঝে অর্থনৈতিক বিভাজন, কেন্দ্রীয় সরকারের দপ্তর স্থাপন ও দায়দায়িত্ব বন্টন, সিভিল প্রশাসন, সেনা ও সীমান্তরী-পুলিশ বাহিনীর নিয়োগসহ সার্বিক পাক সরকারের কর্মকান্ডে আমাদের মহান নেতা শেখ মুজিব উপলব্ধি করেন মুসলমান ভাই ভাই পাকিস্তানে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের জন্য মূলত স্বাধীনতা নয় শাসন-শোষনের যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই নয়। অধিকার আদায়ের চিন্তায় তিনি বিভোর হয়ে পড়েন, বঙ্গবন্ধু নিজ তত্ত্বাবধানে ১৯৪৮ সালের ৪ঠা জানুয়ারিতে গড়ে তোলেন সমসাময়িক রাজনীতির বিবেচনায় ছাত্র সমাজের সংগঠন পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ। পরবর্তীতে তিনি মুসলিম কথাটি বাদ দিয়ে সংগঠনটিকে একটি অসাম্প্রদায়িক রূপ দান করেন। ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে পাকিস্তানের জনক মি: মোহাম্মদ আলী জিনড়বা সাহেব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে যখন ঘোষণা করলেন-টৎফঁ ঝযধষষ নব ংঃধঃব ষধহমঁধমব ড়ভ চধশরংঃধহ। তখন শেখ মুজিব ও তার তৎকালীন সহযোগিরা ঘড় ঘড় বলে চিৎকার করে প্রতিবাদ জানান। তখন পাকিস্তান তথা পূর্ব পাকিস্তানের রাজনীতিতে শুরু হয় নূতন প্রোপট। এই সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজেদর দাবী দাওয়া ভিত্তিতে নিমড়ব বেতনভোগী কর্মচারীরা ধর্মঘট আরম্ভ করেন এবং ছাত্ররা ভাষা আন্দোলনের বিভিনড়ব কর্মসূচী আরম্ভ করে। কর্মচারীদের আন্দোলন ও ছাত্রদের ভাষা আন্দোলনের সরাসরি সমর্থন ঘোষণা এবং আন্দোলনে অংশ গ্রহন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। কর্মচারীদের দাবী দাওয়া ভিত্তিক আন্দোলন এবং ভাষা আন্দোরনের প্রতি বঙ্গবন্ধু সমর্থন ও অংশগ্রহণ ছিল খুবই জুড়ালো। এই সময়েই বঙ্গবন্ধুকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কার করা হয়। এই সময় ভাষা আন্দোলনের গতি বাড়তে থাকে, পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারিদের আন্দোলন চলতে থাকা অবস্থায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে গ্রেফতার করা হয়। কারাগারে বসে বঙ্গবন্ধু ভাষা আন্দোলনে নির্দেশনা দিতে থাকেন। এই পর্যায়ে ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই- শেখ মুজিবের মুক্তি চাই’ শোগান দিয়ে মিছিল ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার পর্যন্ত যেত। এইভাবে ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জেল পুলিশের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুসহ কারাগারে আটক নেতারা জানতে পারেন ২১ শের রক্তদানের বিশাল ঘটনা, ফরিদপুর, ময়মনসিংহসহ বিভিনড়ব স্থানের হরতালের ঘটনা। এই সময় ময়মনসিংহের জননেতা বঙ্গবন্ধুর গনিষ্ঠ সহচর রফিক উদ্দিন ভূইয়া বঙ্গবন্ধুর সাথে ভাষা আন্দোলনের নেতা হিসাবে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে ছিলেন। বিজয় অর্জিত হয়েছিল ভাষা আন্দোলনের। তারপরে ইতিহাসের চাকা অনেক চড়াই উৎড়াই পেরিয়ে সামনে চলতে থাকে, ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ যুক্তফ্রন্ট গঠনে বঙ্গবন্ধু ব্যাপক ভূমিকা গ্রহণ করেন। রাজপথ ও মাঠে ময়দানে মাওলানা আ: হামিদ খান ভাসানী, শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়াদীর অত্যন্ত প্রিয়ভাজন সংগঠক ও রাজনৈতিক পুরোধা হিসাবে বঙ্গবন্ধু ভীষণভাবে আবির্ভূত হন। অনেক ষড়যন্ত্রের পরেও ১৯৫৪ সালের মুসলিমলীগকে পরাজিত করে যুক্তফ্রন্ট জয়লাভ করে সরকার গঠন করে এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মন্ত্রী পরিষদে স্থান লাভ করেন। এই সময়ে বঙ্গবন্ধু সহ বেশ কিছু নেতৃবৃন্দ ব্রহ্মদেশ ও চীন সফরে যান-অনেক রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। ব্রহ্মদেশ ও চীনের নেতাদের সাথে তার সম্পর্ক স্থাপিত হয়। চীন দেশে বঙ্গবন্ধু শান্তি সম্মেলনে যোগদান করে সাইত্রিশটি দেশের ৩০০শত প্রতিনিধির মাঝে বিশেষ আকর্ষনে পরিণত হন। বঙ্গবন্ধু সেদিন সেই সম্মেলনে ইংরেজি জানা সত্বেও বাংলায় বক্তৃতা করেন আর আতাউর রহমান খান ইংরেজিতে বক্তৃতা করেন। চীন সরকারের নীতিবোধ সহ যাবতীয় বিষয় আলোচনা করে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন- ‘আমি নিজে কমিউনিষ্ট নই। তবে সমাজতন্ত্রে বিশ্বাস করি এবং পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে বিশ্বাস করি না, পুঁজিবাদকে শোষনের যন্ত্র হিসাবে মনে করি। এই পুঁজিবাদি সৃষ্টির অর্থনীতি যতদিন দুনিয়ায় থাকবে ততদিন দুনিয়ার মানুষের উপর শোষন বন্ধ হতে পারে না। তারপরের ঘটনা যুক্তফ্রন্ট সরকার বাতিলের বিষয়টি পাকিস্তান থেকে ফিরে শেখ মুজিব সকলের সাথে পরামর্শ করে একটি প্রস্তাব পেশ করেন ‘আমরা নির্বাচিত প্রাদেশিক সরকার, কেন্দ্রীক সরকারের আদেশ মানবোনা’। এই বিষয় থেকে বাংলাদেশকে পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন করার একটি মনোবাসনা সেইদিনও পরোভাবে প্রকাশ করেছিলেন। তারপর ইসকান্দার আলী মির্জার আগমন এবং আইয়ূব খানের সামরিক শাসন। ইতিমধ্যে ১৯৫৬ সালে শরীক শিা কমিশন ও ১৯৬২ সালের হামিদুর রহমান শিা কমিশনের বিরুদ্ধে ছাত্রদের আন্দোলনের পিছনে প্রেরণার উৎস ছিলেন আমাদের মহান নেতা শেখ মুজিব। তারপর বঙ্গবন্ধু তার সংগঠন আওয়ামীলীগকে সংগঠিত করার চেষ্টায় ব্রত হন। ১৯৬৫ সালে পাক ভারত যুদ্ধে বঙ্গবন্ধু দেখলেন পশ্চিম পাকিস্তান বর্ডারে যুদ্ধ হলো বাঙালী বিমান সৈনিক আর বাঙালী সেনা সৈনিকদের সাথে। বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালী সৈনিকেরা বুকে বোমা বেধে জীবন দিয়ে পাকিস্তানকে রা করলো। কিন্তু তাদের স্বীকৃতি মিলল না। আর পূর্ব পাকিস্তান বর্ডার ছিল সম্পূর্ণ রূপে অরতি। সার্বিক বিবেচনা থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ১৯৬৬ সালে লাহোর বিমান বন্দরে আওয়ামীলীগের ৬ দফা দাবী উত্থাপন করেন। তারপর পাক শাসক আইয়ুব খান ৬ দফাকে বিচ্ছিনড়বতাবাদীদের দাবী হিসাবে উলেখ করেন। মূলত এই ৬দফা ছিল বাঙালীদের অধিকারের দাবী। এরপর বাঙ্গবন্ধু ৬ দফা নিয়ে ০২ মাঠে নামেন। বঙ্গবন্ধুকে বার বার গ্রেফতার করা হয় আর সাথে সাথে বঙ্গবন্ধু আদালত থেকে মুক্তি পেতে থাকেন। আর এেেত্র বঙ্গবন্ধুর সাথে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন আওয়ামীলীগ নেত্রী মিসেস আমেনা বেগম এবং আওয়ামীলীগ নেতা জননেতা রফিক উদ্দন ভূইয়া। ১৯৬৭ সালে বঙ্গবন্ধুসহ বাঙালী সিভিল ও সেনা অফিসারদের গ্রেফতার করে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করা হয়; বিচারের নামে বঙ্গবন্ধুকে ফাঁসি দেয়ার নাটক আরম্ভ হয় ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে। এই সময় ছাত্র সমাজের ১১ দফা ও বাঙালীর অধিকারের ৬ দফা দাবীর ভিত্তিতে ছাত্র গণআন্দোলন গড়ে উঠতে থাকে। মাওলানা আ: হামীদ খান ভাসানী বঙ্গবন্ধুর মুক্তি দাবী ও অগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহারে জোড় দাবীতে গণ আন্দোলন গড়ে তোলার েেত্র বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ করেন। আওয়ামীলীগ নেতা শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজ উদ্দিন আহমেদ আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে অবস্থান করে আওয়ামীলীগকে জনগনের সংগ্রামী প্রতিষ্ঠানে পরিনত করেন। লড়াই সংগ্রাম আন্দোলনে অনেক রক্ত ঝরার পর এক পর্যায়ে পাক সরকার পিছু হটেন। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার হয় এবং মুক্তিলাভ করেন বাংলার অবিসংবাদিত মহানায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ল জনতার সমাবেশে তৎকালীন ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের প থেকে সাবেক ছাত্রনেতা জননেতা তোফায়েল আহমেদ আমাদের প্রিয় নেতা শেখ মুজিবকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করেন। পাকিস্তানের মতার রাজনীতির প্রোপট থেকে পাকিস্তানের লৌহ মানব, স্বৈরাচারী শাসক আইয়ূব খান বিদায় নেন মতার মঞ্চে আহরণ করেন সামরিক শাসক ঘৃন্য পুরুষ জেনারেল ইয়াহিয়া ও টিক্কা খান গং। জনগনের দাবীর মুখে অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭০ সালের পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ নির্বাচন। বিপুল ভোটের ব্যাবধানে পাাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হয় বঙ্গবন্ধুর আওয়ামীলীগ। মতা হস্তান্তরে আরম্ভ হয় ষড়যন্ত্র। পশ্চিম পাকিস্তানে সংখ্যা গরিষ্ট নেতা ভূট্টো সাহেব অবাস্তব সব প্রস্তাবনা পেশ করতে থাকেন। আলোচনা বার বার ব্যর্থ হতে থাকে। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ল ল জনতার সম্মুখে স্বাধীনতার ডাক দেন। তিনি তার ৭ই মার্চের ভাষণে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। বাংলার মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে আসে। বঙ্গবন্ধু নেতা হিসাবে জনগনের উর্ধ্বে চলে যান। তিনি যা বলেন তাই আইনে পরিণত হতে থাকে। এমন সময় ২৫ মার্চ ১৯৭১ তারিখে পাক হানাদার বাংলার মানুষের উপর ঝাপিয়ে পড়লে হত্যাকান্ড আরম্ভ হয়। এই সময় ২৬ মার্চ প্র ম প্রহরে বঙ্গবন্ধু ই.পি.আর. এর ওয়ার্লেসের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষনা করেন। শুরু হয়ে যথায় মরনপণ যুদ্ধ। পাক হানাদার বাহিনী বঙ্গবন্ধুকে বন্ধী করে পাকিস্তানে নিয়ে যায়। তারপর ১৭ই এপ্রিল মেহেরপুর জেলায় বৈদ্যনাথ তলায় স্বাধীন বাংলা সরকার গঠিত হয় যা বর্তমানে মুজিব নগর হিসাবে খ্যাত। যুদ্ধ চলে ৯ মাস। ভারত মাতা মহামতি ইন্দিরা গান্ধী ও ভারতের জনগণের বিপুল সহযোগিতায় লাভ করে স্বাধীন বাংলা সরকার ১ কোটি শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়া হয় এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং ও অস্ত্র প্রদান করে ভারতের ইন্দিরা সরকার। মরনপণ যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরে পাক হানাদার বাহিনী মুক্তি ও ভারতীয় মিত্রবাহিনীর কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পন করে। ৩০ ল শহীদের রক্তের বিনিময়ে ৪ ল মা-বোনে ইজ্জতের বিনিময়ে মুক্ত হয় শেখ মুজিবের স্বাধীন বাংলাদেশ। পাক ভারত যুদ্ধ থেমে যায় তখন আমাদেও জাতীয় জনক বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের জিন্দান খানায় বন্ধী ছিলেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মহামতী ইন্দিরা গান্ধী বিশ্বের বিভিনড়ব দেশ সফর কওে বঙ্গবন্ধুর মুক্তির সপে বিশ্ব নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সম হন। বঙ্গবন্ধুকে মুক্তিদেয়ার েেত্র সমগ্র বিশ্বব্যাপী বিশাল চাপ সৃষ্টি হলে ১৯৭২ সালে ১০ই জানুয়ারি আমাদের পিতা, আমাদের প্রাণপ্রিয় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান থেকে মুক্তিলাভ করে লন্ডন হয়ে ভারতে ইন্দিরা গান্ধীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। তারপর বঙ্গবন্ধু সরকার গঠন করেন এবং যুদ্ধ বিদ্ধস্থ দেশকে গড়ে তোলার দীপ্ত শপথ গ্রহণ করেন। ঘোষনা করেন ‘সোনার বাংলা গড়ে তুলতে হলে সোনার মানুষ চাই’। প্রচন্ড প্রতিকূলতার মাঝে বঙ্গবন্ধু সামাজ্যবাদী শক্তিকে মোকাবিলা করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যান। এদেশকে সোনার বাংলা হিসাবে গড়ে তোলার লে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। যখন বঙ্গবন্ধুর বাংলায়, কৃষকের গোলা ধানে ভরে গিয়েছিল, কৃষকের গোয়াল ভরা গরু ছিল, পুকুর ভরা মাছ ছিল অভাব অভিযোগ দূর হয়েছিল। ঠিক সেই সময় ১৯৭১ সালের পরাজিত শত্রু, সাম্রাজ্যবাদী শক্তির ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির অরতি বাড়ীতে স্ব-পরিবারে শাহাদাৎ বরন কথরেন। আমাদের মহান জাতির জনক এই দেশকে সোনার বাংলা হিসাবে গড়ে তোলার জন্য দীপ্তপ্রয়াসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট বেজনেভ, ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেমস কালাহান, জাপানের প্রধানমন্ত্রী হিরোহিত, কিউবার বিপবী নেতা ফিদেল কেষ্টো, মিশরের আনোয়ার সাদাত, মালয়েশিয়ার টেংকু আব্দুর রহমান । বিশ্বনেতা বমেদিন, লিবিয়ার বিপবী নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফী, যুগো¯াভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী মার্শাল টিটুর অকৃত্রিম বন্ধুত্ব লাভকরে বাংলাদেশের উনড়বয়নের সহযোগিতা নিয়ে সোনার বাংলা গড়ে তোলার প্রয়াসে এগিয়ে যাচ্ছিলেন তখনি তাকে হত্যা করা হয়। দেশ সামনে চলছিল, শান্তি অর্জিত হয়েছিল। বিপুল উনড়বয়ন হচ্ছিল, সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ট বাঙালীর তথা বাংলার নিপীরিত নির্যাতিত মানুষের নেতা, লড়াই সংগ্রাম আন্দোলনের নেতা, ফাঁসির কাষ্ঠে আহরণ করে জাতির জয়গান গাওয়া, মহান মৃক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তীর মহানায়ক, বিশ্বের আলোড়নকারী রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব, বিশ্ব নেতাদের অকৃত্রিম রাজনৈতিক বন্ধু ইতিহাসের এক যুগান্তকারী নেতৃত্ব, বাঙালীর জাতির জনককে বিদায় নিতে হয়। আজ প্রমানিত জীবিত শেখ মুজিবের চেয়ে অনেক বেশী শক্তিশালী মৃত শেখ মুজিব। তাই আমাদের উচ্চারন-মহান নেতা শেখ মুজিব ঘুমিয়ে আছেন বাংলার ল কোটি মানুষের হৃদয়ে চিরঞ্জীব হয়ে। আমাদের উচ্চারন- ‘যে ছবি মানচিত্র সমান’ সেই ছবি পিতা মুজিবের ছবি, আর ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের রক্তরণ ‘পিতা তোমার রক্তের ইতিহাস’, তাই বলতে হয় ‘যতদিন বাংলাদেশ থাকবে-ততদিন পিতা মুজিব তুমি আমাদের মাঝে চির ভাস্বর হয়ে থাকবে’। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

ব্রেকিং নিউজঃ