| |

চামড়ার দাম কমানোর ছক আঁকছেন ব্যবসায়ীরা

আপডেটঃ 1:10 am | August 30, 2016

Ad

স্টাফ রিপোর্টার: বিশ্ববাজারে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের অব্যাহত দরপতনের অজুহাতে এবারও কোরবানির পশুর চামড়ার দাম কমানোর ছক আঁকছে ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন ও ফিনিসড লেদার গুডস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। একই কারণ দেখিয়ে ৬ বছর ধরে কম দামে চামড়া কিনে চড়া মুনাফার ব্যবসা করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে আসন্ন মৌসুমে কতো দামে ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনবেন তার সুরাহা হবে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর। ওইদিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সরকারের সঙ্গে বৈঠক হবে তাদের। তবে এবার চামড়ার দাম ২০১৫ সালের নির্ধারিত দরের চেয়েও যে কম হবে, তা একরকম ঠিকই আছে বলে আগাম জানালেন বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার গুডস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মহিউদ্দীন মাহিন।
তিনি বলেন, আর্ন্তজাতিক বাজারের কারণেই চামড়ার দরপতন। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, চীন, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালির বাজারে চামড়াজাত পণ্যের দাম নিন্মমুখী। ফলে সারা বিশ্বেই চামড়া এবং চামড়াজাত পণ্যের উৎপাদন-বিপণন ও এক্সেসরিজের দাম কমবে। কমবে ফিনিশড পণ্যের দামও।
মাহিন বলেন, ব্যবসায়ীদের মূলধন সংকটও একটি বড় সমস্যা। এ সংকট হয়তো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে সরকারের সহায়তায় বা ব্যাংক লোনের মাধ্যমে। কিন্তু আর্ন্তজাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য কমে যাওয়াটা মোকাবেলা করাটা সত্যিই কঠিন।
তিনি বলেন, ‘আগামী ৪ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে আমরা আমাদের বাজার স্টাডি করে সরকারকে জানাবো। ওই বৈঠকে আমরা বিশ্ববাজারের ইন্ডিকেশন ও ইনডেক্স তুলে ধরবো। আমরা চাই না, প্রান্তিক ব্যবসায়ীরা বেশি দামে চামড়া কিনে ক্ষতিগ্রস্ত হোক’। বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহীন আহমেদ  বলেন, এবার চামড়ার দাম গত বছরের চেয়ে কম হবে। এর কারণ হিসেবে তিনিও আর্ন্তজাতিক বাজারে চামড়ার দাম কমে যাওয়াকে দায়ী করেন।
শাহীন বলেন, গত এক বছরে আর্ন্তজাতিক বাজারে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের দাম কমেছে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ। দেশের বাজারে এ হার আরো বেশি। দেশি ব্যবসায়ীরা ৪১ শতাংশ কম দামে চামড়া কিনছেন।  এর ওপরে ট্যানারি মালিকদের মূলধন খেয়ে ফেলছে সাভারের রিলোকেশন প্রকল্প।
তিনি জানান, চামড়া খাতে আগামী ৫ বছরে ৫ গুণ রফতানি বাড়ানোর যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে, তা অনিশ্চয়তার মুখে আছে। ব্যবসায়ীদের এসব অভিযোগ মানতে নারাজ শিল্পমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।  তিনি বলেন, ‘সাভারে ট্যানারি রিলোকেশন কোনো অজুহাত হতে পারে না। যারা হাজারীবাগ থেকে হেমায়েতপুরে ট্যানারি সরিয়ে নিচ্ছেন, সরকার তাদেরকে এমনিতেই নগদ প্রণোদনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন এনডিসি বলেন, ‘বাজার তো আমরা ঠিক করতে পারবো না। বাজার তৈরি হয় পণ্যের চাহিদা ও যোগানের ওপর। আমরা চেষ্টা করবো, জনগণের স্বার্থটা যাতে ঠিক থাকে। তবে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসলেই বোঝা যাবে, তারা আসলে কি চান। সবকিছু নির্ভর করছে তাদের ওপর’। হাজারীবাগ থেকে সাভারের হেমায়েতপুরে ট্যানারি স্থানান্তরের কারণে সরকারের সঙ্গে ট্যানারি মালিকদের টানাপড়েন ও প্রতিদিন ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা আদায়ের প্রভাব কোরবানির চামড়ার বাজারে পড়বে না বলেও মনে করেন এ সিনিয়র সচিব। ২০১৫ সালে ট্যানারি ব্যবসায়ীরা ঢাকায় প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করেন ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। ঢাকার বাইরে ছিল ৪০ টাকা থেকে ৪৫ টাকা। প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত মহিষের চামড়ার দাম ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। খাসির চামড়ার দাম ছিল ২০ থেকে ২২ টাকা। আর বকরি ও ভেড়ার চামড়ার দাম ছিল ১৫ থেকে ১৭ টাকা। ২০১৪ সালে ঢাকায় প্রতিফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়া কেনেন ৭০ থেকে ৭৫ টাকা তারা। ঢাকার বাইরে এ দর ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত মহিষের চামড়ার দাম ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, খাসির চামড়ার দাম ছিল ৩০ থেকে ৩৫ টাকা ও বকরির চামড়ার দাম ছিল ২৫ থেকে ৩০ টাকা। ২০১৩ সালে দাম ছিল আরো বেশি। তখন ঢাকায় প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দাম ছিল ৮৫ থেকে ৯০ টাকা। ঢাকার বাইরে এর দর ছিল ৭৫ থেকে ৮০ টাকা।

ব্রেকিং নিউজঃ