| |

সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন, মাদার তেরেসা এখন ‘ঈশ্বরের দূত’

আপডেটঃ 5:06 pm | September 04, 2016

Ad

ডেস্ক: সিদ্ধান্ত সেই মার্চের। বাকি ছিল কেবল আনুষ্ঠানিকতা। সেই আনুষ্ঠানিকতা এবার সম্পন্ন হলো। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ৪ সেপ্টেম্বর ‘ঈশ্বরের দূত’ (সেইন্টহুড) খেতাব পেলেন মাদার তেরেসা। এ সংক্রান্ত সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার খবরটি নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা এপি। ভ্যাটিকান সিটিতে পোপ ফ্রান্সিস ঘোষণা করেন, ভারতের দরিদ্র মানুষের মধ্যে কাজের মধ্যদিয়ে তিনি যে মহান কীর্তি রচনা করেছেন, তারই ফলস্বরূপ মাদার তেরেসাকে ‘ঈশ্বরের দূত’ ঘোষণা করা হলো। পোপের ঐতিহাসিক ঘোষণার সময় হাজার হাজার লোকের সমাগম ঘটে সেইন্ট পিটারস স্কয়ারের উপাসনালয়ে। ওই ঘোষণার পর কলকাতার মিশনারিজ অব চ্যারিটিতেও আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। এরআগে চলতি বছরের মার্চ মাসে ‘ঈশ্বরের দূত’ হিসেবে মাদার তেরেসাকে অনুমোদন দেন পোপ ফ্রান্সিস। মানবতার সেবায় আত্মমগ্ন ওই নারীকে প্রয়াণের ১৯ বছর পর ‘পবিত্র ব্যক্তি’র স্বীকৃতি দিয়ে পোপ তখন জানিয়েছিলেন ৪ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। ঘোষণা অনুযায়ী তা সম্পন্ন হয়েছে বলে এপির টুইটার একাউন্টে নিশ্চিত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ক্যাথলিক বিশ্বাস অনুযায়ী কর্মসূত্রে কেউ ‘পবিত্র ব্যক্তি’র স্বীকৃতি পেতে পারেন না। ঐশ্বরিক ক্ষমতার বলেই এই স্বীকৃতি পাওয়া যায়। অলৌকিক ক্ষমতার প্রয়োগে কারও সাফল্যের অন্তত দু’টি ঘটনাকে পোপ স্বীকৃতি দিলে, মৃত্যুর পর তিনি ‘পবিত্র ব্যক্তি’র স্বীকৃতি পান। মাদার তেরেসার ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল ২০০৩ সালে। রোমান ক্যাথলিকদের ভাষায় যাকে বলে ‘ক্যানোনাইজেশন’। ১৯৯৮ সালে এক আদিবাসী নারীকে দুরারোগ্য রোগের হাত থেকে বাঁচিয়ে তোলায় ২০০৩-এ মাদারকে আলৌকিক ক্ষমতার প্রথম স্বীকৃতি দেন তৎকালীন পোপ দ্বিতীয় জন পল। একইভাবে ২০০৮ সালে দুরারোগ্য মস্তিষ্কের অসুখে আক্রান্ত মৃতপ্রায় এক ব্রাজিলিয়ানকে সুস্থ করে তুলেছিলেন মাদার।  ২০১৫ সালে এই ঘটনাটিকেও অলৌকিক বলে স্বীকৃতি দেন পোপ ফ্রান্সিস। মার্চে  সেই স্বীকৃতিতেই সিলমোহর দেন পোপ ফ্রান্সিস। এরমধ্য দিয়ে ‘পবিত্র ব্যক্তি’র স্বীকৃতি পেয়ে যান মাদার তেরেসা। কেবল আনুষ্ঠানিকতাটুকুই বাকি ছিল। এবার তা সম্পন্ন হলো। সেন্টের তালিকায় যিনি জায়গা পান, তার নামে নামাঙ্কিত হয় চার্চ। এমনকি, সেন্ট হয়ে গেলে সেই ব্যক্তির ছবির মাথায় থাকে জ্যোতির্বলয়ও।  সেই সম্মান পেলেন মাদার তেরেসা। এরআগে গত শনিবার ভারতীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানায়, সেই মুহূর্তের সাক্ষী হতে রোমে হাজির হয়েছেন কলকাতার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। ভ্যাটিক্যান সিটির তরফে জানানো হয়েছে, ইতোমধ্যেই মাদারকে ‘পবিত্র ব্যক্তি’র মর্যাদা দেওয়ার অনুমোদন দিয়ে দিয়েছেন পোপ ফ্রান্সিস। তবে ৪ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত ধর্মীয় রীতি ও অনুষ্ঠান পালনের কথা থাকলেও তা কোথায় করা হবে, সে সম্পর্কে কোনও নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। তবে, সম্ভবত ইতালির রাজধানী রোমে এই অনুষ্ঠান হবে। এরপর কলকাতায় একটি ধন্যবাদজ্ঞাপক অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, আলবেনীয় মা-বাবার সন্তান মাদার তেরেসা তাঁর সেবামূলক কাজের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী মানুষের মন জয় করেন। ১৯৭৯ সালে তিনি শান্তিতে নোবেল লাভ করেন। ১৯৯৭ সালে ৮৭ বছর বয়সে তিনি মারা যান। মৃত্যুর আগপর্যন্ত কলকাতা শহরের বিভিন্ন বস্তিতে দরিদ্র, রোগাক্রান্ত ও মৃতপ্রায় মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করেছিলেন তিনি। জীবনের ৪৫ বছর সময় কলকাতা শহরের গরিব-দুঃখী এবং অসহায়দের জন্য উৎসর্গ করেছিলেন মাদার তেরেসা। নিজের হাতে গড়ে তুলেছিলেন মিশনারিজ অফ চ্যারিটিজ! তাঁর এই নিষ্ঠা সারা বিশ্বের নজর কাড়ে।

ব্রেকিং নিউজঃ