| |

ঈশ্বরগঞ্জে এক সাথে চার পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছেন এক নারী

আপডেটঃ 7:10 pm | September 18, 2016

Ad

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে এক সাথে চার পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছেন এক নারী। রোববার বিকেল ৪ টায় গ্রামের বাড়িতেই গাম্য ধাত্রীর হাতে জন্ম হয় চার সন্তানের। তবে জন্মের পর দুটি নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। এক সাথে চার সন্তানের জন্ম দেওয়ার বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে নবজাতকদের দেখতে উৎসুক মানুষ ভীড় করেন।
উপজেলার সরিষা ইউনিয়নে মাছিমপুর গ্রামের আবদুর রাজ্জাকের মেয়ে নারগিস আক্তার (২৬) এর গত দেড় বছর আগে বিয়ে হয় একই ইউনিয়নের এনায়েতনগর গ্রামের মগবুলের ছেলে গ্রাম পুলিশ রতন মিয়ার কাছে। প্রেমের সূত্রে ধরে পরিবারের অমতে দু’জন বিয়ে করলেও গত ৬ মাস ধরে নারগিস ও রতনের সংসারে ভাঙন দেখা দেয়। কলহের জের ধরে নারগিস তার বাবার বাড়িতে এসে আশ্রয় নেয়। নারগিসের পরিবারের পক্ষ থেকে রতনের বিরুদ্ধে একটি মামলাও করা হয়েছে। এর মধ্যে রোববার বিকেলে নারগিসের কোল আলো করে চারটি পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। জন্মের পর দুইটি নবজাতক মারা গেলেও অপর দুই নবজাতক ভালো রয়েছে।
খবর পেয়ে রোববার বিকেলে উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরের প্রত্যন্ত ওই গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, এক সাথে জন্ম নেওয়ার চার নবজাতককে দেখতে উৎসুক মানুষের ভীড়। বাড়ির বারান্দায় মৃত দুই শিশুর দেহ রাখা রয়েছে। ভেতরে জীবিত দুই পুত্র সন্তানকে নিয়ে শুয়ে রয়েছেন নারগিস আক্তার।
গ্রাম্য ধাত্রী মমিনা বেগম বলেন, নারগিসের প্রসব ব্যাথা শুরু হওয়ার পর তাঁকে খবর দেওয়া হয়। তিনি এসে একে একে চারটি ছেলে সন্তান প্রসব করান। তিনি বলেন, এই প্রথম এক সাথে চারটি শিশুর জন্ম হয়েছে তার হাতে। তবে জন্মের পর দুটি শিশু মারা যাওয়ায় তিনি মর্মাহত।
চার সন্তানের জন্ম দেওয়া নারগিসের বাবা দিন মজুর আবদুর রাজ্জাক বলেন, মেয়ে পরিবারের অবাধ্য হয়ে বিয়ে করলেও তারা মেনে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু স্বামীর ঘরে সে বেশি দিন টিকতে পারেনি। ওই অবস্থায় সন্তান সম্ভাবা মেয়েকে নিয়ে তিনি বিপাকে পড়েন। গর্ভে সন্তান থাকা অবস্থায় মেয়েকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য যেতে হয় বিভিন্ন জায়গায়। ঈশ্বরগঞ্জের বুডা ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে গত ১৪ জুলাই আলট্রাসনোগ্রাম করা হলেও বলা হয় মেয়ের গর্ভে দুটি সন্তান রয়েছে। এর পর ময়মনসিংহের শাহীন ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে গত ১১ আগস্ট আলট্রাসনোগ্রাম করা হলে সেখানে তিনটি সন্তানের কথা বলা হয়। আবদুর রাজ্জাক বলেন, রোববার বিকেলে তার মেয়ে চারটি পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছে। পরীক্ষা নিরিক্ষায় চার সন্তানের বিষয়টি ধরা পড়লে মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করাতেন। কিন্তু ভুল রিপোর্টের কারণে তারা বিষয়টি বুঝতে না পারায় তার মেয়ের দুটি নবজাতক জন্মের পরেই মারা গেছে।
শিশু সন্তানদের বাবা রতন মিয়া বলেন, সংসারে মনমালিন্য থাকলেও এখন সন্তানদের দিকে তাকিয়ে সব বিষয় মিটমাট করে ফেলবেন।
ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. আরেফিন বলেন, দুটি ডায়গনোস্টিক পরীক্ষায় দুই ধরণের রিপোর্ট আসায় অভিভাবকদের উচিৎ ছিলো ওই নারীকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া। অভিভাবকদের অবহেলার কারণেই জন্মের পর দুটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

ব্রেকিং নিউজঃ