| |

জলবায়ু: কমনওয়েলথের নতুন তহবিল

আপডেটঃ 12:19 am | September 22, 2016

Ad

ডেস্ক: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় ঝুঁকিতে থাকা ক্ষুদ্র দ্বীপ রাষ্ট্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সহায়তার জন্য নতুন একটি তহবিল চালু করেছে কমনওয়েলথ।
গত মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে এই তহবিলের উদ্বোধন করেন কমনওয়েলথ মহাসচিব প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ড। মরিশাসের প্রধানমন্ত্রী আনিরুদ জগনাথও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। ‘দ্য কমনওয়েলখ ক্লাইমেট ফাইন্যান্স অ্যাকসেস হাব’ নামের এই তহবিলে ২০২০ সালের মধ্েয ১০০ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে কমনওয়েলথের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে। প্যারিস জলবায়ু চুক্তির কয়েক মাসের মাথায় নতুন এই তহবিল চালু করা হল।
কমনওয়েলথের সদস্য রাষ্ট্রগুলোও (৫৩টি সাবেক ব্রিটিশ উপনিবেশ) অন্যান্য বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে গত বছরের ডিসেম্বরে প্যারিস চুক্তিতে সই করেন। চুক্তিতে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে সহায়তার জন্য গঠিত তহবিলে দ্রুত শিল্পোন্নত দেশগুলোরপ্রতিশ্রুত অর্থ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। নিউ ইয়র্কে চলমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশ ঐতিহাসিক ওই চুক্তিতে অনুসমর্থন করবে। ৫৫টি দেশের সম্মতি পেলেই চুক্তিটি কার্যকর হবে। নতুন জলবায়ু তহবিল নিয়ে কমনওয়েলথ মহাসচিব স্কটল্যান্ড বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে প্যারিস চুক্তি কার্যকরের পথে এটা ‘বাস্তবে একধাপ এগিয়ে যাওয়া’। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতির উপর আলোকপাত করে প্যাট্রিসিয়া দাতা দেশগুলোর ‘তহবিল গঠনে’ সাড়া দেয়ায় সন্তোষ জানান।  সেইসঙ্গে অর্থ ছাড়ে তাদের দীর্ঘসূত্রিতারও সমালোচনা করেন। বেশিরভাগ সময় তাদের লাল ফিতার দৌরাত্মে তহবিলে প্রবেশ দুঃসাধ্য হয়ে ওঠে, বিশেষ করে ছোট দেশ যাদের সামর্থ্যরে ঘাটতি আছে। শেষ পর্যন্ত অর্থ তাদের হাতে পৌঁছায় না, যাদের এটা দ্রুততম সময়ে দরকার, বলেন তিনি।
পেট্রিসিয়া বলেন, কমনওয়েলথের নতুন এ উদ্যোগ এই পরিস্থিতি বদলে অভিযোজন ও প্রশমনের ক্ষেত্রে দ্রুততার সঙ্গে প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড় করবে। মরিশাসের রাজধানীর পোর্ট লুইসভিত্তিক নতুন এই তহবিলে মরিশাসের সহায়তার বাইরে অস্ট্রেলিয়ার ১০ লাখ ডলার এবং কমনওয়েলথ সচিবালয় থেকে ১০ লাখ পাউন্ড আসছে। কমনওয়েলথ সচিবালয় বলছে, ২০২০ সাল নাগাদ বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও এখন পর্যন্ত কমনওয়েলথভুক্ত ৩১টি ক্ষুদ্র রাষ্ট্র থেকে ৭২ কোটি ৬০ লাখ ডলার মিলেছে। তহবিলের অর্থ ছাড়ে ক্ষুদ্র দেশগুলো থেকেই প্রথম আবেদন এসেছে বলে কমনওয়েলথ সচিবালয় জানিয়েছে। এসব দেশের মধ্যে আছে এন্টিগা অ্যান্ড বারমুডা, বারবাডোস, ডমিনিকা, গায়ানা, জ্যামাইকা, মরিশাস, নামিবিয়া, নাউরু, সলোমর দ্বীপপুঞ্জ, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, টোঙ্গা ও ভানুয়াতু। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নামিবিয়ার মন্ত্রী পোহাম্বা শিফেতা কমনওয়েলথের নতুন এ জলবায়ু সহায়তা তহবিলকে স্বাগত জানান। নামিবিয়াকে সাব-সাহারান আফ্রিকা অঞ্চলে সবচেয়ে বড় শুষ্ক দেশ হিসেবে বর্ণনা করে পোহাম্বা গত কয়েক দশক ধরে তার দেশে আকস্মিক খরার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তুলে ধরেন। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সামাজিক এবং অর্থনৈতিকভাবে যে ধরনের ক্ষতি হচ্ছে, সহায়তা তহবিলের উচিত সেগুলোকে চিহ্নিত করে অভিযোজন ও প্রশমনে অর্থায়ন করা, বলেন তিনি।
মরিশাসের প্রধানমন্ত্রী জগনাথ বলেন, কমনওয়েলথের উচিত এ সহায়তা তহবিলের জন্য ধনী দেশগুলোর কাছ থেকে আরও অর্থের সমাবেশ ঘটানো। তিনি কমনওয়েলথভুক্ত দেশ এবং অংশীদারদের কাছেও তহবিলে অতিরিক্ত অর্থ দেয়ার অনুরোধ জানান।

ব্রেকিং নিউজঃ