| |

নদী দিবসে নদীর কান্না বর্ষা মৌসুমে পানি অন্য সময়ে মরা নদ

আপডেটঃ 1:28 am | September 26, 2016

Ad

মো: মেরাজ উদ্দিন বাপ্পী: প্রভাবশালীদের দখলদারিত্ব, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অনিয়ম, জলবায়ু পরিবর্তন ও ফারাক্কা বাঁধের নেতিবাচক প্রভাবের কারণে নদীমাতৃক বাংলাদেশের অধিকাংশ নদী এখন অস্থিত্ব হারানোর পথে। গত এক হাজার বছরে দেড় হাজার নদী বিলীন হয়েছে। এখন জীবিত আছে মাত্র ২৩০টি নদী।
ময়মনসিংহে এক বিরাট দীর্ঘ এক নদ ছিল ব্রহ্মপুত্র নদ। ব্রহ্মপুত্র এশিয়া মহাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ নদী। সংস্কৃত ভাষায় ব্রহ্মপুত্রের অর্থ হচ্ছে “ব্রহ্মার পুত্র। ব্রহ্মপুত্রের পূর্ব নাম ছিল লৌহিত্য। আবার তিব্বতে তা জাঙপো নামে পরিচিত, এবং আসামে তার নাম দিহাঙ। বাংলাদেশে ব্রহ্মপুত্র।
ময়মনসিংহের দেওয়ানগঞ্জের কাছে ব্রহ্মপুত্র দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে ময়মনসিংহ জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ভৈরববাজারের দক্ষিণে মেঘনায় পড়েছে।
১৭৮২ থেকে ১৭৮৭ সালের মধ্যে সংঘটিত ভূমিকম্প ও ভয়াবহ বন্যার ফলে ব্রহ্মপুত্রের তৎকালীন গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে বর্তমান কালের যমুনা নদীর সৃষ্টি হয়। এটিই বাংলাদেশের নদীগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেছে। এক কালের প্রশস্ত ব্রহ্মপুত্র নদ বর্তমানে শীর্ণকায়।
দিনে দিনে এই ব্রহ্মপুত্র নদ খালে পরিণত হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে পানি থাকলেও অন্য সময়গুলোতে মরা নদ। হেঁটে হেঁটে পাড় হওয়া যায় ময়মনসিংহে বয়ে যাওয়া অংশ দিয়ে। স্থানীয় বৃষ্টিপাতই এখন এ নদের জলপ্রবাহের প্রধান উৎস। ফলে ব্রহ্মপুত্র নদে সামান্য নৌকার চলাচলও এখন কম দেখাযায়।
ময়মনসিংহ অংশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র একসময় বিস্তৃতি ছিল শহরের গাঙিনারপাড় বা আরও ভিতরের দিকে বলে জানা যায়, নদের এক পাশে গড়ে উঠে আজকের শহর অন্যপাশে এখনও গ্রাম বা চর এলাকা। মুক্তিযুদ্ধের আগে এবং পরে প্রায় সত্তর দশক পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদে প্রায় সারা বছর ধরেই পানিপ্রবাহ চলমান থাকত। তবে বর্ষা মৌসুমে উপচেপড়া পানিপ্রবাহ থাকত। এ সময় এই নদের চেহারাও পাল্টে যেত। দূরদূরান্ত থেকে সে সময় ব্যবসা-বাণিজ্যের লক্ষ্যে শত শত নৌকা ব্রহ্মপুত্র নদ দিয়ে চলাচল করত। পঞ্চাশ, ষাট, সত্তর দশকে যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য আর মানুষের জীবনাচারের বড় অংশই ছিল এই নদকে ঘিরে। যোগাযোগের প্রধান অবলম্বনই ছিল এই নদ। তখন লঞ্চ, নৌকায় চড়ে ব্রহ্মপুত্র নদ দিয়ে মানুষ দূরদূরান্তে চলে যেত। পাটের জন্য যে জেলা ছিল বিখ্যাত তার পিছনে অবদান ছিল এই নদের, যা এখন শুধুই স্মৃতি।
গত কয়েক দশক ধরে ময়মনসিংহের মানুষের প্রাণের দাবী সেই প্রমত্তা নদ বাঁচাতে এর পূণ:খনন করা। সরকার বরাবর অনেকবার দাবী উস্থাপন করলেও তা শুধুই আশ্বাসে বন্দী। পানি ও নদীর সঙ্গে বাংলাদেশের জীবন-জীবিকা, পরিবেশ, ইতিহাস, ঐতিহ্য, ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনীতি, সংস্কৃতি সবকিছু ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। পাশপাশি জনস্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা, শিল্প উন্নয়ন, প্রাকৃতিকসহ মানুষের জীবন ও জীবিকা মারাতœক হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। তাই জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে পানির উৎস সমূহ দূষণ এবং দখলের হাত হতে রক্ষার করে, জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে পানি অধিকার ও পানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
নদী দিবসে নদীর কান্না বর্ষা মৌসুমে পানি অন্য সময়ে মরা নদ
মো: মেরাজ উদ্দিন বাপ্পী: প্রভাবশালীদের দখলদারিত্ব, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অনিয়ম, জলবায়ু পরিবর্তন ও ফারাক্কা বাঁধের নেতিবাচক প্রভাবের কারণে নদীমাতৃক বাংলাদেশের অধিকাংশ নদী এখন অস্থিত্ব হারানোর পথে। গত এক হাজার বছরে দেড় হাজার নদী বিলীন হয়েছে। এখন জীবিত আছে মাত্র ২৩০টি নদী।
ময়মনসিংহে এক বিরাট দীর্ঘ এক নদ ছিল ব্রহ্মপুত্র নদ। ব্রহ্মপুত্র এশিয়া মহাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ নদী। সংস্কৃত ভাষায় ব্রহ্মপুত্রের অর্থ হচ্ছে “ব্রহ্মার পুত্র। ব্রহ্মপুত্রের পূর্ব নাম ছিল লৌহিত্য। আবার তিব্বতে তা জাঙপো নামে পরিচিত, এবং আসামে তার নাম দিহাঙ। বাংলাদেশে ব্রহ্মপুত্র।
ময়মনসিংহের দেওয়ানগঞ্জের কাছে ব্রহ্মপুত্র দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে ময়মনসিংহ জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ভৈরববাজারের দক্ষিণে মেঘনায় পড়েছে।
১৭৮২ থেকে ১৭৮৭ সালের মধ্যে সংঘটিত ভূমিকম্প ও ভয়াবহ বন্যার ফলে ব্রহ্মপুত্রের তৎকালীন গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে বর্তমান কালের যমুনা নদীর সৃষ্টি হয়। এটিই বাংলাদেশের নদীগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেছে। এক কালের প্রশস্ত ব্রহ্মপুত্র নদ বর্তমানে শীর্ণকায়।
দিনে দিনে এই ব্রহ্মপুত্র নদ খালে পরিণত হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে পানি থাকলেও অন্য সময়গুলোতে মরা নদ। হেঁটে হেঁটে পাড় হওয়া যায় ময়মনসিংহে বয়ে যাওয়া অংশ দিয়ে। স্থানীয় বৃষ্টিপাতই এখন এ নদের জলপ্রবাহের প্রধান উৎস। ফলে ব্রহ্মপুত্র নদে সামান্য নৌকার চলাচলও এখন কম দেখাযায়।
ময়মনসিংহ অংশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র একসময় বিস্তৃতি ছিল শহরের গাঙিনারপাড় বা আরও ভিতরের দিকে বলে জানা যায়, নদের এক পাশে গড়ে উঠে আজকের শহর অন্যপাশে এখনও গ্রাম বা চর এলাকা। মুক্তিযুদ্ধের আগে এবং পরে প্রায় সত্তর দশক পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদে প্রায় সারা বছর ধরেই পানিপ্রবাহ চলমান থাকত। তবে বর্ষা মৌসুমে উপচেপড়া পানিপ্রবাহ থাকত। এ সময় এই নদের চেহারাও পাল্টে যেত। দূরদূরান্ত থেকে সে সময় ব্যবসা-বাণিজ্যের লক্ষ্যে শত শত নৌকা ব্রহ্মপুত্র নদ দিয়ে চলাচল করত। পঞ্চাশ, ষাট, সত্তর দশকে যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য আর মানুষের জীবনাচারের বড় অংশই ছিল এই নদকে ঘিরে। যোগাযোগের প্রধান অবলম্বনই ছিল এই নদ। তখন লঞ্চ, নৌকায় চড়ে ব্রহ্মপুত্র নদ দিয়ে মানুষ দূরদূরান্তে চলে যেত। পাটের জন্য যে জেলা ছিল বিখ্যাত তার পিছনে অবদান ছিল এই নদের, যা এখন শুধুই স্মৃতি।
গত কয়েক দশক ধরে ময়মনসিংহের মানুষের প্রাণের দাবী সেই প্রমত্তা নদ বাঁচাতে এর পূণ:খনন করা। সরকার বরাবর অনেকবার দাবী উস্থাপন করলেও তা শুধুই আশ্বাসে বন্দী। পানি ও নদীর সঙ্গে বাংলাদেশের জীবন-জীবিকা, পরিবেশ, ইতিহাস, ঐতিহ্য, ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনীতি, সংস্কৃতি সবকিছু ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। পাশপাশি জনস্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা, শিল্প উন্নয়ন, প্রাকৃতিকসহ মানুষের জীবন ও জীবিকা মারাতœক হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। তাই জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে পানির উৎস সমূহ দূষণ এবং দখলের হাত হতে রক্ষার করে, জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে পানি অধিকার ও পানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

ছবি:- রেড মিল্লাত।

ব্রেকিং নিউজঃ