| |

সংসদে আইন পাস অবসর সুবিধা পাবেন না মোশতাক-জিয়া-এরশাদ

আপডেটঃ 1:18 pm | October 05, 2016

Ad

সর্বোচ্চ আদালতে ঘোষিত অবৈধ রাষ্ট্রপতিরা অবসর সুবিধা পাবেন না। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ‘রাষ্ট্রপতির অবসর ভাতা, আনুতোষিক ও অন্যান্য সুবিধা আইন ২০১৬’ বিল পাস হয়েছে। এ আইনটি পাস হওয়ার ফলে আদালত ঘোষিত অবৈধ রাষ্ট্রপতি মোশতাক আহমেদ, জিয়াউর রহমান ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ অবসর সুবিধা পাবেন না।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। আইন অনুযায়ী ছয় মাস রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করলেও রাষ্ট্রপতিরা এসব সুবিধার অধিকারী হবেন। আইনটি পাসের সময় বিরোধিতা করেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সদস্যরা। তারা আপত্তি জানিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনার ব্যাপারে সহযোগিতা করেছে জাতীয় পার্টি। তবে জাতীয় পার্টির সদস্যদের আপত্তির পরও কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। পরে সর্বসম্মতিতে বিলটি পাস হয়।

বিলটির ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে ফখরুল ইমাম বলেন, আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আসার জন্য জাতীয় পার্টি তিনবার সহযোগিতা করেছে। তাই তারা জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের সুযোগ সুবিধা কেড়ে নিতে পারেন না। কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, একটি মামলার রায়ে সুপ্রিম কোর্ট এরশাদের ১৯৮৬ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত শাসন আমলের বৈধতা দিয়েছে। এরশাদকে বঞ্চিত করা ন্যায়সঙ্গত হবে না।

আইনে বলা হয়েছে, কমপক্ষে ৬ মাস রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন এমন ব্যক্তি এ সুযোগ-সুবিধা পাবেন। আর অবসরভাতা গ্রহণ করে কোনো রাষ্ট্রপতি মৃত্যুবরণ করলে তার বিধাব স্ত্রী বা ক্ষেত্র মতে বিপত্নীক স্বামী মাসিক অবসর ভাতা দুই-তৃতীয়াংশ হারে আমৃত্যু মাসিক ভাতা পাবেন। তবে নৈতিক স্খলন বা অন্য কোনো অপরাধে আদালতে দ-িত হলেও কোনো রাষ্ট্রপতি অবসর ভাতা পাবেন না।

এছাড়া সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক অসাংবিধানিক পন্থায় অবৈধ উপায়ে রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন বা হয়েছিলেন মর্মে ঘোষিত কোনো ব্যক্তি অবসর ভাতা বা অন্যান্য সুবিধা লাভের অধিকারী হবেন না বলেও প্রস্তাবিত আইনে বিধান রাখা হয়েছে।

এই আইনে রাষ্ট্রপতির পেনশন ভাতা ধরা হয়েছে মূল বেতনের ৭৫ শতাংশ। বর্তমান রাষ্ট্রপতির ৬১ হাজার ২০০ টাকা বেতন হিসেবে অবসর ভাতা হয় ৪৫ হাজার ৯০০ টাকা। আনুতোষিকের পরিমাণ এক বছরের জন্য প্রদেয় অবসরভাতা তত গুণ হবে, যত বছর কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। আর অন্যান্য সুযোগ সুবিধার ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তিগত সহকারী, একজন অ্যাটেনডেন্ট ও দাফতরিক ব্যয় পাবেন।

জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল থেকে ১৯৮১ সালের ৩০ মে পর্যন্ত ও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ১৯৮৩ সালের ১১ ডিসেম্বর ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বরর পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। এ দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তার শাসনামলকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন সর্বোচ্চ আদালত।

ব্রেকিং নিউজঃ