| |

খাদিজাকে হত্যাচেষ্টা‌: বদরুলের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

আপডেটঃ 10:17 pm | October 05, 2016

Ad

স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটে কলেজছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিসকে কোপানোর কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন ছাত্রলীগের নেতা বদরুল আলম। বুধবার বিকেলে সিলেট মহানগর অতিরিক্ত বিচারিক হাকিম আদালতে তিনি জবানবন্দি দেন।

এর আগে বুধবার দুপুরে পুলিশ বদরুলকে হাসপাতাল থেকে কোতোয়ালি থানায় নিয়ে যায়। পরে বেলা দুইটার দিকে তাকে সিলেট মহানগর অতিরিক্ত বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় বদরুল ঘটনার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। বেলা আড়াইটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত তিনি জবানবন্দি দেন। তার জবানবন্দি ১৬৪ ধারায় রেকর্ড করেন অতিরিক্ত বিচারিক হাকিম উম্মে সরাবন তহুরা। কোর্ট পরিদর্শক মফিজুল ইসলাম জবানবন্দি দেওয়ার বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।

আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বদরুল জবানবন্দিতে বলেছেন যে তিনি খাদিজাকে দীর্ঘদিন ধরে চেনেন। খাদিজার বাড়িতেও তার যাতায়াত ছিল। ২০১০ সাল থেকে খাদিজার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। খাদিজাকে তিনি প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ক্ষোভে তিনি ওই দিন চাপাতি নিয়ে তাকে আক্রমণ করেছিলেন। ‘রাগের মাথায়’ ঘটনাটি ঘটেছে বলে তার দাবি। জবানবন্দি শেষে বদরুলকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এ ব্যাপারে আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন মামলার তদন্ত তদারকের দায়িত্বে থাকা সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (দক্ষিণ) জেদান আল মুসা। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‌‘বদরুল সবকিছু স্বীকার করে নিয়েছেন। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে আমরা এ মামলার অভিযোগপত্র আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দিতে পারব।’

বর্তমানে আহত কলেজছাত্রী খাদিজা আক্তার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নার্গিসের মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। তাকে ৭২ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকেই নার্গিসকে স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এরআগে সোমবার বিকেলে গুরুতর জখম হওয়ার পর তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মধ্যরাত পর্যন্ত সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

গত ৩ অক্টোবর সোমবার বিকেলে পরীক্ষা দিয়ে বের হওয়ার পর এমসি কলেজ মসজিদের পেছনে মানুষের সামনে দা দিয়ে তাকে কোপাতে থাকে বদরুল। প্রত্যক্ষদর্শী লোকজন নার্গিসের চিৎকার শুনে এগিয়ে যায়। তারা নার্গিসকে সংকটাপন্ন অবস্থায় উদ্ধার করে এবং বদরুলকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দেয়।

এ ঘটনায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যাছলয়ের (শাবি) ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলমকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে কর্তৃপক্ষ।

ব্রেকিং নিউজঃ