| |

গাজীপুর ,টাঙ্গাইল ও আশুলিয়ায় জঙ্গি আস্তানায় পৃথক চারটি অভিযানে ১২ জঙ্গি নিহত

আপডেটঃ 12:40 am | October 09, 2016

Ad

স্টাফ রিপোর্টার:  গাজীপুর ,টাঙ্গাইল ও আশুলিয়ায়  জঙ্গি আস্তানায় পৃথক চারটি  অভিযানে নিহত হয়েছে ১২ জঙ্গি। এর মধ্যে পাতারটেক সোয়াটের অভিযানে নব্য জেএমবি’র ঢাকা বিভাগীয় প্রধান আকাশসহ ৭ জঙ্গি নিহত হয়। এর আগে সকালে আইনশৃংখলা বাহিনীর অভিযানে গাজীপুরের হাড়িনালে দুই জঙ্গি এবং টাঙ্গাইলের কাগমারায় দুই জঙ্গি নিহত হয়।এদিকে সন্ধ্যায় আশুলিয়ার জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে জেএমবির নাশকতার মূল অর্থদাতা আব্দুর রহমানকে আহত অবস্থায় আটক করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসলে মারা যান।এসময় তার কাছ থেকে নগদ ৩০ লাখ টাকা, একটি অস্ত্র, বিস্ফোরক, ধারালো অস্ত্র, জিহাদি বই ও মোবাইল জ্যামার উদ্ধার করা হয়েছে।

অভিযান শেষে শনিবার বিকাল ৪টার দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
গাজীপুরের পাতারটেকে দ্বিতীয় অভিযানে সিটিটিসির সঙ্গে সোয়াত টিম যুক্ত ছিলো। সেখানে গোলাগুলি চলে বিকাল পৌনে চারটা পর্যন্ত। এর আগে শনিবার ভোরে পশ্চিম হারিনালে জঙ্গি আস্তানায় র্যা বের অভিযানে দুই জঙ্গি নিহত হয়।

দোতলা ওই বাড়ির মালিক সোলায়মান সরকার। তিনি সৌদি আরবে থাকেন। বাড়িটি দেখাশোনা করেন তার ভাই ওসমান গনি। ওই বাড়ির এক ভাড়াটিয়া জানান, মাস তিনেক আগে বাড়িটি ভাড়া নেয় সন্দেহভাজন জঙ্গিরা। তারা বাসা থেকে বের হতো না।

নব্য জেএমবির ঢাকা বিভাগের কমান্ডার ফরিদুল ইসলাম আকাশ ও তার সহযোগীরা সেখানে অবস্থান করছেন এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই আস্তানা ঘিরে ফেলে সিটিটিসির সদস্যরা।

সিটিটিসির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ছানোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ভেতরে অস্ত্র ও গোলাবারুদ রয়েছে বলে তথ্য রয়েছে তাদের কাছে।

বিকাল পৌনে চারটার দিকে ঘটনাস্থলে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তিনি সাংবাদিকদের জানান, ভবনের দ্বিতীয় তলায় সাত জনের মরদেহ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, ‘তামিম চৌধুরী নিহত হওয়ার পর আকাশের নেতৃত্বেই নব্য জেএমবি সংঘবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করেছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের শুরুতে জঙ্গিদের আত্মসমর্পন করতে বলা হয়। কিন্ত তা না করে তারা উল্টো পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পুলিশও আত্মরক্ষায় গুলি চালায়। পরে ভবনের দ্বিতীয় তলায় সাত জঙ্গির মরদেহ পাওয়া যায়।

তিনি আরও বলেন, পাতারটেকে জেএমবি এবং আইনশৃঙ্খলবাহিনীর গোলাগুলির মধ্যে সাতটি মৃতদেহ পাওয়া গেছে। জব্দ হয়েছে তিনটি অস্ত্র (কী অস্ত্র উল্লেখ করেননি), কয়েকটি চাপাতি, একটি গ্যাস সিলিন্ডার। গোলাগুলির মধ্যে ১৪টি গ্রেনেড বিস্ফোরিত হয়েছে।
সকাল ১০টার দিকে সিটি কর্পোরেশনের নোয়াগাঁও পাতারটেকের ওসমান আলীর দ্বিতীয়তলা বাড়িতে এ অভিযান শুরু হয়।

চার সহযোগীসহ নিউ জেএমবির ঢাকা বিভাগীয় প্রধান আকাশ আত্মগোপনে আছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুর শহরের কাছে একটি বাসা ঘিরে রাখে পুলিশ। বাড়ির ভেতর কমান্ডো অপারেশন চালায় সোয়াত। এর আগে হ্যান্ড মাইকে জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানায় পুলিশ।

অপারেশনে যোগ দেয় পুলিশ হেডকোয়ার্টারের এলআইসি ইউনিট, ডিএমপি’র কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও বগুড়া জেলা পুলিশ। বাড়ির ভেতর জঙ্গিদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর কমান্ডো অভিযান চালাতে ডাকা হয় সোয়াট-কে।

এদিকে সন্ধ্যায় আশুলিয়ার জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে জেএমবির নাশকতার মূল অর্থদাতা আব্দুর রহমানকে আহত অবস্থায় আটক করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসলে মারা যান।

ওই জঙ্গি সদস্য জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ-জেএমবির নাশকতার মূল অর্থদাতা। তার নাম আব্দুর রহমান। সন্ধ্যায় অভিযানের মুখে পঞ্চম তলা থেকে লাফিয়ে পালাতে গিয়ে আটক হন তিনি।

এদিকে, ওই জঙ্গির ফ্ল্যাট থেকে নগদ ৩০ লাখ টাকা, একটি অস্ত্র, বিস্ফোরক, ধারালো অস্ত্র, জিহাদি বই ও মোবাইল জ্যামার উদ্ধার করা হয়। ওই ফ্ল্যাটে জঙ্গির স্ত্রী ও তিন সন্তান ছিলেন।

এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে বলে পুলিশ সূত্র সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

ব্রেকিং নিউজঃ