| |

১শ দিনে ৩১ জঙ্গিসহ নিহত ৫৬

আপডেটঃ 12:44 am | October 09, 2016

Ad

১ জুলাই থেকে ৮ অক্টোবর ১শ দিনে জঙ্গি বিরোধী ৯ সাঁড়াশি অভিযানে ৩১ জঙ্গি, ১৭ বিদেশী ও তিন পুলিশসহ ৫৬ জন নিহত হয়েছে। শুধু একদিনেই আজ চারটি অভিযানে ১২ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। আজ নিহত হওয়া জঙ্গিরা দুর্গাপূজা এবং আশুরায় বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করেছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এর আগে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে এক দিনে নয় সন্দেহভাজন জঙ্গির মৃত্যু হয় মিরপুরের কল্যাণপুরে। গুলশান হলি আর্টিজানে নিহত হয় ৬ জঙ্গি ১৭ বিদেশীসহ ২৮ জন। শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে ঈদের দিনে জঙ্গি পুলিশসহ নিহত হয় ৪ জন। নারায়ণগঞ্জ পাইকপাড়ায় নিহত হয় ৩ জঙ্গি এবং আজিমপুরে নিহত হয় এক জঙ্গি।

গুলশান হলি আর্টিজান: ১ জুলাই গুলশান হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় নিহত হয় ১৭ বিদেশি ও ৬ জঙ্গিসহ ২৮ জন। এদের মধ্যে দুই পুলিশ কর্মকর্তাও রয়েছেন।

শোলাকিয়া: গত ৭ জুলাই কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদুল ফিতরের জামায়াতের অদূরে জঙ্গি হামলায় নিহত হয় দুই পুলিশ সদস্য, একজন সাধারণ নারী এবং এক হামলাকারী।

কল্যাণপুর: গত ২৫ জুলাই গভীর রাতে মিরপুর কল্যাণপুরে জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পেয়ে জাহাজবাড়ি হিসেবে পরিচিত ওই বাড়ীটি ঘিরে রাখে পুলিশ। রাতভর গোলাগুলির শেষে পরদিন সকালে সমাপ্ত হয় এই অভিযান। সেখানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয় ৯ জঙ্গি।

নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়া অভিযান: কল্যাণপুর অভিযানের প্রায় এক মাস পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সন্ধ্যান পায় ভয়ংকর এক জঙ্গি আস্তানার। যেখানে বসে পরিকল্পনা করে নাটের গুরু হিসেবে চিহ্নিত তামিম চৌধুরী। সেটি রাজধানী থেকে একটু দূরে নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায়। পুলিশ ও সোয়াত টিমের যৌথ অভিযানে সেই তামিমসহ নিহত হয় হয় তিন জঙ্গি।

রূপনগর অভিযান: এই ঘটনার পর জঙ্গিবিরোধী বড় অভিযানের কথা শোনা যায় গত ২ সেপ্টেম্বর। মিরপুরের রূপনগরে আর্টিজানে হামলাকারীদের প্রশিক্ষক হিসেবে চিহ্নিত মুরাদ নামে একজনের অবস্থানের খবরে অভিযানে যায় পুলিশ। তাকে জীবিত ধরার চেষ্টা করে পুলিশ। কিন্তু পুলিশের ওপর পাল্টা আক্রমণ করেন তিনি। পরে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

আজিমপুর অভিযান: এরপর ১০ সেপ্টেম্বর আজিমপুরে বিজিবি ২ নম্বর গেটের সামনের একটি বাসার দ্বিতীয় তলায় অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে সন্ধান পায় আরেক নাটের গুরুদের একজন চিহ্নিত জঙ্গি নুরুল ইসলামের।পরে জানা যায় তিনি অভিযান শুরুর আগেই আত্মহত্যা করেছেন। আর আহত অবস্থায় ধরা পড়েন তিন নারী। উদ্ধার হয় এক কিশোর ও দুই শিশু।

গাজীপুর অভিযান: আজ গাজীপুর এবং টাঙ্গাইলে সোয়াট এবং র‌্যাবের অভিযানে একদিনে ১১ জঙ্গি নিহত হয়েছে। এর মধ্যে গাজীপুরের একটি আস্তানায় বিশেষ বাহিনী সোয়াটের অপারেশনে নিহত হয়েছে নিউ জেএমবি প্রধান মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি ফরিদুর রহমান আকাশসহ ৭ জন। গুলিবিদ্ধ হয়েছে এক সোয়াট সদস্য। কাছেই আরেক জঙ্গি আস্তানায় অভিযানে নিহত হয়েছে আরও দুই জঙ্গি।

টাঙ্গাইল: একইদিন টাঙ্গাইলের কাগমারা মির্জাঘাটে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ২ জঙ্গি নিহত হয়েছে, আহত হয়েছেন র‌্যাবের দুই সদস্য। সেখান থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করে র‌্যাব জানিয়েছে, দুর্গাপূজা এবং আশুরায় জঙ্গিদের বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা ছিল।

আশুলিয়ায় অভিযান: আশুলিয়ার জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে জেএমবির নাশকতার মূল অর্থদাতা আব্দুর রহমানকে আহত অবস্থায় আটক করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসলে মারা যান।এসময় তার কাছ থেকে নগদ ৩০ লাখ টাকা, একটি অস্ত্র, বিস্ফোরক, ধারালো অস্ত্র, জিহাদি বই ও মোবাইল জ্যামার উদ্ধার করা হয়েছে।

সুত্র:-  যমুনা নিউজ টোয়েন্টি ফোর

ব্রেকিং নিউজঃ