| |

পাকিস্তানের কারণেই সার্ক সম্মেলন বয়কট : প্রধানমন্ত্রী

আপডেটঃ 11:23 pm | October 14, 2016

Ad

স্টাফ রিপোর্টার : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পাকিস্তানের সার্বিক পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে নাক গলানোর কারণেই সার্ক সম্মেলনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সার্ক সম্মেলন বয়কট করার ক্ষেত্রে ভারতের সিদ্ধান্তের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো যোগসূত্র নেই বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

ভারতের প্রভাবশালী গণমাধ্যম দ্য হিন্দুকে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনার ব্রিকস-বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ভারত যাওয়ার আগে এ ধরনের সাক্ষাৎকার প্রকাশ করলো দ্য হিন্দু।

গণভবনে দেয়া ওই সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত যে কারণে সার্ক সম্মেলন বয়কট করেছে তার সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো যোগসূত্র নেই। বরং পাকিস্তানের সার্বিক পরিস্থিতি তথা দেশটির পৃষ্ঠপোষকতায় এই অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে পড়ায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা। তাছাড়া বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে ইসলামাবাদের নাক গলানোয় দেশটির প্রতি বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের এ ধরনের আচরণের জন্য দেশটির সঙ্গে সব ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে আমার ওপর অনেক চাপ রয়েছে। তবে আমি বলেছি, তাদের সঙ্গে সম্পর্ক থাকবে। বরং আমাদেরকে অমাদের সমস্যা সমাধান করতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, আসল বিষয় হল আমরা পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। তারা একটি পরাজিত শক্তি। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ও পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশকে সহায়তা করায় ভারতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

সম্প্রতি উরিতে ভারতীয় সেনাঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলায় ১৯ সৈন্য নিহত হয়। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে ভারত নিয়ন্ত্রণ রেখায় পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ঢুকে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ বা সন্ত্রাসী ঘাঁটিতে অভিযান পরিচালনার দাবি করে। এ প্রসঙ্গেও প্রশ্ন করা হয় প্রধানমন্ত্রীকে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘উভয় দেশের উচিত নিয়ন্ত্রণ রেখার পবিত্রতা বা নিয়ম-কানুন বজায় রাখা। যা শান্তি বয়ে আনবে।’

‘দ্য হিন্দু’র সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফরের তাৎপর্য নিয়েও কথা বলেন শেখ হাসিনা। এ বিষয়ে তিনি বলেন, আঞ্চলিক সমৃদ্ধি ক্রমবর্ধমাণ রাখতে চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক একটি উপায় হিসেবে কাজ করবে।

তার সরকার বিরোধীদের দমন-পীড়ন ও গণমাধ্যমের শ্বাসরোধ করছে, এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। একইসাথে নিরাপত্তা বাহিনী সন্ত্রাস দমন অভিযানের নামে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে এমন দাবিও অস্বীকার করেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সাক্ষাতকারে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার প্রসঙ্গও উঠে আসে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার সন্ত্রাসীদের প্রতি ‘শূন্য সহনশীলতার নীতি’ গ্রহণ করেছে। যাতে করে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সচেতনা ছড়িয়ে দেয়া যায় এবং তাদের তথ্য জানা যায়, সেজন্য এ সন্ত্রাস দমন কর্মসূচিতে নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম ও মসজিদকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এরফলে কিছু ফলাফল পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।

নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে প্রাণহানি, গুম ও সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের পায়ে গুলি করার বিষয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিবেদন সম্পর্কেও প্রশ্ন করা হয় শেখ হাসিনাকে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশের মত হামলা মোকাবেলায়, বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীও তাদের অধিকারের মধ্য থেকেই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীদের বিরুদ্ধে দমন অভিযান পরিচালনা করছে।

উপরক্ত সকল অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, মানবাধিকার সংগঠনগুলো ভুক্তভোগীদের অধিকারের চেয়ে অপরাধীদের অধিকার নিয়ে বেশি শোরগোল করছে। যা খুবই দু:খজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শুক্রবার চীনের প্রেসিডেন্ট ঢাকা সফরে বাংলাদেশের অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের ঘোষণা করবেন বলে আশা করা হয়। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয়, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের এমন ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে ভারত কোনভাবে উদ্বিগ্ন হবে কিনা। এ বিষয়ে তিনি বলেন, চীন-বাংলাদেশের এমন ভাল সম্পর্ক থেকে ভারতের উৎপাদনকারীরা ভালভাবেই উপকৃত হবে। যা আরও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির দিকে ধাবিত করবে।

দ্য হিন্দুর সাক্ষাতকারে বাংলাদেশের ২০১৪ সালের নির্বাচন প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিনি। এ নির্বাচন বয়কট করে বিরোধী দলগুলো। দেশে চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থার জন্য বিএনপি নে্ত্রী খালেদা জিয়াকে দোষারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘খালেদা তার দলীয় কর্মীদের সহিংসতা করার নির্দেশ দিয়েছে। নির্বাচনের বাইরে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়া, এটা তার ভুল। আমি আশা করি সে পরবর্তী সময়ে একই ধরনের ভুল করবে না। তার অপকর্মের কারণে আমি গণতন্ত্রকে ক্ষুণ্ন হতে দিতে পারি না।’

রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিরা সরকারের সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সেই সাথে হাসিনা সরকার গণমাধ্যমের শাস্বরোধ করছে, সিনিয়র সম্পাদকদের আটক বা অভিযুক্ত করছে, এমন অভিযোগ রয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি জোর দিয়েই বলেন, বিএনপি-জামায়াত এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যেসব মামলা করা হয়েছে তা সবই আইনসম্মত। অবশ্যই তাদের আইনের মুখোমুখি হতে হবে।

এক প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে যদি গণমাধ্যমের কোন স্বাধীনতা নাই থেকে থাকে, তাহলে তারা কীভাবে এখানে স্বাধীনতা নাই, এমন লেখার স্বাধীনতা পাচ্ছে?

প্রসঙ্গত, গত ১৮ সেপ্টেম্বর ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে সেনাঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলায় ১৭ ভারতীয় সেনা সদস্য নিহতের পর সার্ক সম্মেলন বয়কট করে নয়াদিল্লি। এরপর বাংলাদেশ, ভুটান ও আফগানিস্তান সার্ক সম্মেলনে যোগ না দেয়ার ঘোষণা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সার্ক সম্মেলন স্থগিত করে পাকিস্তান। চলতি মাসে দেশটির রাজধানী ইসলামাবাদে ওই সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল।

উল্লেখ্য, আগামী ১৫ ও ১৬ অক্টোবর ভারতের গোয়ায় ব্রিকস-বিমসটেক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। ওই সম্মেলনে যোগ দিতে আগামী রোববার ভারত যাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ব্রেকিং নিউজঃ