| |

সহযোগিতার জন্য কৌশলগত অংশীদারিত্ব

আপডেটঃ 11:56 pm | October 14, 2016

Ad

স্টাফ রিপোর্টার : চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদে কৌশলগত অংশীদারিত্বের পর্যায়ে উন্নীত করতে চায় তার দেশ।

চীনের প্রেসিডেন্টের এই আগ্রহকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেছেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক সোনার বাংলা গড়তে সহায়ক হবে।

আজ শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করার পর যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে তারা এসব কথা বলেন।

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি, অবকাঠামো, কৃষি, তথ্য-প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন সংক্রান্ত ২৬টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়।

এর আগে বেলা ৩টার কিছু আগে জিনপিং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছেন। শেখ হাসিনার সঙ্গে মিনিট ১৫ একান্ত বৈঠক শেষে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসেন তারা। আধা ঘণ্টার বৈঠক শেষে বিকাল সোয়া ৪টায় শুরু হয় চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই অনুষ্ঠান। এরপর যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে জিনপিং বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা হয়েছে আমাদের মধ্যে। বাংলাদেশ ও চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও জোরদার করে তা কৌশলগত অংশীদারিত্বের পর্যায়ে  নিতে চাই আমরা। দুই দেশের সম্পর্ককে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই আমরা।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যৌথভাবে অবকাঠামো, সড়ক ও সেতু নির্মাণ, জ্বালানি, সমুদ্র সম্পদসহ বিভিন্ন বিষয়ে উন্নয়ন প্রকল্প এগিয়ে নিতে একমত হয়েছি। সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলাতেও আমরা যৌথভাবে কাজ করতে একমত হয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘চীনের রাষ্ট্রপ্রধানের এই সফর দুই দেশের সম্পর্ককে একটি ঐতিহাসিক রূপ দিয়েছে। এই সফরের প্রত্যাশায় ছিলাম আমরা। তার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অভিন্ন স্বার্থের ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা অভিন্ন স্বার্থের বিষয়গুলো নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে একমত হয়েছি।’

তিনি বলেন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিল্প, অবকাঠামো, জ্বালানি, কৃষি, তথ্য প্রযুক্তি নিয়ে ২৬টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এর মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সড়ক ও সেতু, রেলওয়ে, জ্বালানি, সমুদ্র, সক্ষমতা বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার সম্পর্ক এখন উচ্চতায় পৌঁছলো। আমরা এখন বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগী থেকে কৌশলগত অংশীদার হলাম।’
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি। চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আমাদের এই লক্ষ্যপূরণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক কেবল চীনের রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে বাংলাদেশের রাষ্ট্র বা সরকার প্রধানের সঙ্গে নয়। জনগণের সঙ্গে জনগণেরও- বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ব্রেকিং নিউজঃ