| |

ঈশ্বরগঞ্জে স্বল্প মূল্যের চাল বিক্রিতে চালবাজি চলছেই

আপডেটঃ 1:26 am | October 23, 2016

Ad

মো. আব্দুল আউয়াল ঈশ্বরগঞ্জ: ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে স্বল্প মূল্যে চাল বিক্রিতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা খাদ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজসে মাঠ পর্যায়ে ডিলাররা অনিয়মে জড়িয়ে পড়ছেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন। হতদরিদ্রদের তালিকায় রয়েছেন স্বামী-স্ত্রী, একই পরিবারের চার পাঁচজন, রাজনৈতিক নেতা ও সম্পদশালী ব্যাক্তি। তদারকির অভাবে ভেস্তে যেতে বসেছে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি।
উপজেলার ১১ টি ইউনিয়নে সেপ্টেম্বর থেকে চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরুর নির্দেশনা থাকলেও ডিলার নিয়োগ ও তালিকাপ্রস্তুত না হওয়ায় অক্টোবর থেকে চাল বিক্রি শুরু হয়। স্বল্প মূল্যে চাল বিক্রিতে শুরু থেকেই বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ উঠে। কিন্তু খাদ্য বিভাগ ও প্রশাসন বিষয়টি আমলে না নেওয়ায় মাঠ পর্যায়ে সরকারের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির মূল্য উদ্দেশ্যই ভেস্তে যেতে বসেছে। গত শুক্র ও শনিবার উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ডিলারদের দোকানে গিয়ে অধিকাংশ ডিলারের দোকানে তদারকি কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। অনেক ডিলার কাগজপত্রে চাল বিক্রির কার্যক্রম শেষ করে ফেললেও তাদের বিরুদ্ধে নয়ছয় করে চাল বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার বেশ কয়েকজন ডিলারের দোকান বন্ধ পাওয়া যায়। এদিকে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচিতে একই পরিবার দলীয় নেতাকর্মী ও সম্পদশালীদের একাধীক কার্ড দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কার্ড না পাওয়া অনেক দুস্থ। উপজেলার তারুন্দিয়া ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া গ্রামের আবুল কাশেম, তার স্ত্রী ফিরোজা ও ছেলে খোকন কার্ড পেয়েছেন। একই গ্রামের আবদুল মোতালেব ও তার স্ত্রী মোছা: খাতুন কার্ড পেয়েছেন। ইন্দ্রজিৎ খিলা গ্রামের আরফত আলী ও তার স্ত্রী জেলেখা খাতুন কার্ড পেয়েছেন। একই ইউনিয়নে মুসলেম উদ্দিনের স্ত্রী ছখিনা, ছেলে শহীদুল্লাহ, কালাম ও সিরাজুল কার্ড পেয়েছেন। মাইজবাগ ইউনিয়নের কুমুরিয়ার চর গ্রামের জহুর আলীর ছেলে স্থানীয় যুবলীগ নেতা বকুল মিয়া নিজের নাম পরিবর্তন করে কার্ড নিয়েছেন। একই ইউনিয়নের চরশংকর গ্রামের ইন্নছ আলী, তার তিন ছেলে মোতালেব, সিদ্দিক ও শামছুল কার্ড পেয়েছেন। একই গ্রামের হালিম ও তার স্ত্রী আয়শা খাতুন কার্ড পেয়েছেন ১০ টাকার চালের। এ রকম অবস্থা সারা উপজেলার। তারুন্দিয়া ইউনিয়নে গোয়াল পাড়া বাজারে ডিলার আব্দুর রাজ্জাকের দোকানে ১১টি কার্ড বাকি থাকলেও দোকানে চাল পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, খাদ্য গুদাম থেকে চাল কম দেওয়া হয়েছে তবে খাদ্য কর্মকর্তা বিষটি অস্বীকার করেছেন। ঈশ্বরগঞ্জ ইউনিয়নের চরহোসেনপুর ব্র্যাকসংলগ্ন ডিলার আনোয়ার হোসেন বাদলের দোকানে কার্ডের চাল বেশি মজুদ রয়েছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, প্রথম বার খাদ্যগুদাম থেকে চাল কম পাওয়ায় এবার বেশি হয়েছে। মাইজবাগ ইউনিয়নের লক্ষীগঞ্জ বাজারের ডিলার আবুল মুনসুর ১৩ তারিখ চাল উত্তোলন করে ১৪ তারিখেই প্রায় সব চাল বিতরণ করা হয়েছে বলে মাস্টাররোল দেখানো হয়েছে।
একটি পরিবারে একজন কার্ড পাওয়ার কথা থাকলেও একাধীক ব্যক্তি কার্ড পাওয়া প্রসঙ্গে তারুন্দিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল হালিম ও মাইজবাগ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনোয়ার পারভেজ বলেন, তালিকা প্রস্তুতের সময় একই পরিবার থেকে একাধীক নাম অসতর্কতা বশত এসেগেছে। তালিকা গুলো পূনরায় সংশোধন করে সামনের মাস থেকে চাল বিতরণ করা হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মুহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, চাল কম বেশি হওয়ার কোন সুযোগ নেই। ছুটির দিন থাকায় কিছু জায়গায় তদারকি কর্মমর্তা অনুপস্থিত আছে, কার্ড বিতরণে কিছু অনিয়ম হয়েছে পর্যায় ক্রমে তালিকা সংশোধন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনিয়মের জন্যে প্রত্যেক ডিলারকে চিঠি দিয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব কুমার সরকার বলেন, তদারকি কর্মকর্তার অনুপস্থিতি মেনে নেওয়া য়ায় না।  সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তালিকায় কিছু ভুল ধরা পরেছে তা সংশোধনের জন্যে কর্তব্য সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তি কে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ব্রেকিং নিউজঃ