| |

মহানগর আওয়ামীলীগে সন্ত্রাসী, টেন্ডারবাজ, জমি দখলকারীদের কোন ঠাঁই হবেনা এহতেশামুল আলম

আপডেটঃ 1:30 pm | December 05, 2016

Ad

স্টাফ রিপোর্টার ॥ খাগডহর ইউনিয়নে সম্মিলিত আওয়ামীলীগ কিসমতের উদ্যোগে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল হক স্পোটিং ক্লাব প্রাঙ্গনে এক বিশাল কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সাবেক আওয়ামীলীগ নেতা মো: মঞ্জুরুল আলম। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মো: শাহ আলম ও মো: জুবায়েদ হোসেন। সভা শুরুর পুর্ব থেকেই ৯নং খাগডহর ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে নেতাকর্মীরা ব্যানার, ফেস্টোন ও বাদ্যযন্ত্র নিয়ে সভাস্থলে উপস্থিত হয়। জয়বাংলা, জয়বঙ্গবন্ধু এবং শেখ হাসিনা ভয় নাই, আমরা আছি লক্ষ ভাই প্রভৃতি শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত করে তোলে কর্মী সভাটি। কর্মীসভাটি শুরুর পুর্বে খাগডহর ইউনিয়নের বীরমুক্তিযোদ্ধাদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা। নিরবতা পালন করেন শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরনে। উক্ত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব এহতেশামুল আলম। প্রধানবক্তা ছিলেন ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মোহিত উর রহমান শান্ত কিন্তু বিশেষ কারনে তিনি কর্মীসভায় উপস্থিত হতে পারেননি। বিশেষ বক্তা ছিলেন ময়মনসিংহ পৌরসভার মেয়র আওয়ামীলীগ নেতা মো: ইকরামুল হক টিটু। বিশেষ অতিথিবৃন্দ ছিলেন ময়মনসিংহ জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি, ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান, জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও মহানগর পুজা উদযাপন পরিষদের আহবায়ক প্রদীপ ভৌমিক, ময়মনসিংহ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক মো: সাজ্জাদ জাহান চৌধুরী শাহীন, মহানগর আওয়ামীলীগ নেতা মীর শহিদ, জেলা সেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি এডভোকেট এবিএম নুরুজ্জামান খোকন, সাধারন সম্পাদক উত্তম চক্রবর্তী রকেট, কেন্দ্রীয় সেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সদস্য মহানগর আওয়ামীলীগের নেতা আবু কায়সার দীপু। কর্মী সভায় প্রধান অতিথি ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি এহতেশামুল আলম বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি নির্বাচিত করেছেন। মহানগর আওয়ামীলীগকে শক্তিশালী রূপে গড়ে তোলার লক্ষে আমি কাজ করে যাব। দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের নিয়ে সাংগঠনিক নিয়মের মধ্যদিয়ে মহানগর আওয়ামীলীগ গঠিত হবে। ব্যাক্তির ইচ্ছায় নয়, নেতাকর্মীদের সমর্থনেই আগামীদিনে মহানগরের নেতা নির্বাচিত হবে। তৃনমুলের কর্মীদের সমর্থন নিয়ে যদি সংগঠন গঠন করা হয় তাহলে দলের ভিতরে কোন বিভক্তি থাকেনা। দল শক্তিশালী হয়। আপনাদের মনে রাখতে হবে, জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে হলে ঐক্যবদ্ধ আওয়ামীলীগের কোন বিকল্প নেই। আমি যুবলীগের সভাপতি ছিলাম, আরেকজন জেলার সভাপতি অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসাবে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করছেন। জননেত্রী শেখ হাসিনা ত্যাগী নেতাকর্মীদের মুল্যায়ন করছেন। আমিও সাবেক যুবলীগ নেতা, ছাত্রলীগ ও সেচ্ছাসেবকলীগের ত্যাগী নেতাদের মুল্যায়ন করব। যারা আমার সাথে দীর্ঘদিন লড়াই সংগ্রামের মধ্যদিয়ে রাজনীতি করেছে আমি তাদের অবশ্যই মুল্যায়ন করব। ঐক্যবদ্ধ শক্তিশালী আওয়ামীলীগ গড়ে তোলাই আমার লক্ষ্য। কোন ব্যাক্তি ইচ্ছায় নয়, সংগঠন পরিচালিত হবে সাংগঠনিক নিয়মের মধ্যদিয়ে নেতাকর্মীদের ইচ্ছা অনুযায়ী। মহানগর আওয়ামীলীগে সন্ত্রাসী, টেন্ডারবাজ, জমি দখলকারীদের কোন ঠাঁই হবেনা। এসময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা তুমুল করতালি দিয়ে তাকে অভিনন্দন জানায়।
সাবেক জেলা যুবলীগের সভাপতি ও আওয়ামীলীগ সমর্থীত জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ক্ষেত্রে আওয়ামীলীগ সরকার যুগান্তকারী বিপ্লব সাধন করেছে। চর খরিচার মত প্রত্যন্ত অঞ্চলে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল নির্মান করা হয়েছে। তাই শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামীলীগ সরকারকে আবার ক্ষমতায় আনতে হবে তা না হলে উন্নয়নের ধারা ব্যাহত হবে। তিনি সকলের কাছে দোয়া চেয়ে বলেন, আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন ও সমর্থন দিবেন যেন আমি নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ময়মনসিংহবাসীর সেবা করার সুযোগ পাই। ময়মনসিংহ পৌরসভার মেয়র ও আওয়ামীলীগ নেতা মো: ইকরামুল হক টিটু বলেন, ৯নং খাগডহর ইউনিয়ন সিটি কর্পোরেশনের আওতাভুক্ত হবে। আমরা যেখানে দাড়িয়ে কর্মীসভাটি করছি সেই কিসমত এলাকা নতুন করে সিটি কর্পোরেশনের আওতাভুক্ত হয়েছে। নতুন এলাকা হিসাবে এখানে অনেক উন্নয়ন মুলক কাজ করতে হবে। যদি আপনারা আমাকে সহযোগিতা করেন তবে কিসমত এলাকার উন্নয়নের জন্য সব চাইতে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করব। আগামীতেও যদি আপনারা আমার পাশে থাকেন কিসমত এলাকাকে ময়মনসিংহ শহরের অন্যান্য ওয়ার্ডের মত একটি দৃষ্টিনন্দন নাগরিক সুবিধা সম্পন্ন ওয়ার্ড হিসাবে গড়ে তোলা হবে। আজকে আপনাদেরকে এই প্রতিশ্রে“াতি আমি দেতে পারি। তিনি আলহাজ্ব এহতেশামুল আলমের প্রসংসা করে বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা যোগ্যব্যাক্তি কাছে মহানগরের দায়িত্ব দিয়েছেন। এবার সমস্থ বিভেদ ভুলে মহানগর আওয়ামীলীগ একটি ঐক্যবদ্ধ সংগঠনে পরিনত হবে। তিনি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থী অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠানের ভুয়সী প্রশংসা করেন এবং বলেন আপনারা পাঠান ভাই এর জন্য দোয়া করবেন। সর্বশেষ তিনি কর্মীদের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, আসুন আমরা সবাই মিলেমিশে ঐক্যবদ্ধ আওয়ামীলীগ গড়ে তোলে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করে তুলি। জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি প্রদীপ ভৌমিক বলেন, বিজয়ের মাসে খাগডহরবাসীকে অভিনন্দন জানাই। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তৎকালীন ইপিআর ক্যাম্পের সস্রস আক্রমনের মধ্যদিয়েই মুক্তিযুদ্ধের সুচনা হয়ে ছিল ময়মনসিংহে। তাই খাগডহরবাসী ও যুদ্ধে অংশ গ্রহনকারী বীরজনতাকে জানাই সশ্রদ্ধ সালাম।

ব্রেকিং নিউজঃ