| |

১০ ডিসেম্বর আজ ময়মনসিংহ মুক্ত দিবস

আপডেটঃ 3:05 pm | December 10, 2016

Ad

স্টাফ রিপোর্টার : ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে দীর্ঘ ৯ মাস ময়মনসিংহের বিভিন্ন স্থানে প্রায় শতাধিক খন্ড যুদ্ধ সংগঠিত হয়। ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর পাক হানাদার মুক্ত হয়েছিল ময়মনসিংহ।
৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যার পর মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী ব্রম্মপুত্র নদের অপর পাড় শম্ভুগঞ্জে এসে অবস্থান নেয় ও মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী পাক সেনাদের উপর ঝাপিয়ে পড়ার চুড়ান্ত পরিকল্পনা গ্রহণ করে।
পরদিন ১০ ডিসেম্বর ভোরে মুক্তিবাহিনী খবর পায় ব্রম্মপুত্র নদের উপর রেলওয়ে সেতুটি ডিনামাইট দিয়ে পাকবাহিনী ধবংস করে দিয়েছে। ভোরে পাকবাহিনী ময়মনসিংহ শহর থেকে পালিয়েছে। সকাল ১০টায় মুক্তিবাহিনী শম্ভুগঞ্জ ফেরীঘাট পার হয়ে বীরবেশে ময়মনসিংহ শহরে প্রবেশ করে।
মুক্ত ময়মনসিংহ শহরে প্রবেশ করে একে এক সবাই জমায়েত হতে থাকে ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজ ময়দানে। স্বাধীন দেশের পতাকা উড়ানো হয়। এইদিন একদিকে ছিল বিজয়ের অনাবিল আনন্দ অপর দিকে ছেলে হারা মা, ভাই হারা বোন, স্বামী হারা স্ত্রীর ক্রন্দন।
তবে সর্বপোরি দিনটি ছিল অতন্ত খুশির, আনন্দের ও মুক্তির দিন। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চ ভাষণের পর থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত ময়মনসিংহকে দখলমুক্ত রেখে ছিল বীর মুক্তিযোদ্ধারা।
২৩ এপ্রিল ময়মনসিংহের পতন ঘটলে মুক্তিযোদ্ধারা শহর ছেড়ে সীমান্তের ওপারে চলে যায়। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিথি ভবনে স্থাপন করা হয় পাক হানাদার বাহিনীর বিগ্রেড হেড কোয়ার্টার।
হানাদারদের সহযোগী হিসাবে গড়ে তোলা হয় আলবদর আল সামস, রাজাকার বাহিনী। জেলা পরিষদ ডাক বাংলোটির “শান্তি ভবন” নাম দিয়ে টর্চার সেল ও কিলিং সেন্টার গড়ে তোলে।
ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে গড়ে তোলে আরও ২টি আস্তানা। এছাড়াও অবাঙ্গালী বিহারিরা শহরের ছোট বাজারে গড়ে তোলে “কিলিং জোন”।
৭১ এ পাক সেনা আর রাজাকার, আল বদররা এসব আস্তানায় বাঙ্গালী নিধনে মেতে উঠে ছিল। প্রতিদিনের সেই নৃশংসতার নিদর্শন দেখা যেত ব্রহ্মপুত্রের চরে।
মুক্তাগাছা, গৌরীপুর  ও নান্দাইলের  এই নৃশংসতার মাত্রা ছিল ভয়াবহ। প্রায় ৭ মাস পাক সেনাদের দখলে থাকার পর নভেম্বরের শেষের দিকে এক একদিন থেকে মুক্ত হতে থাকে ময়মনসিংহের বিভিন্ন উপজেলা।
ডিসেম্বরের ১ম সপ্তাহে নেত্রকোনা থেকে একটি গ্রুপ অগ্রসর হয় ময়মনসিংহের দিকে। একই সময় হালুয়াঘাট, ফুলপুর হয়ে মিত্র বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের আরেক একটি দল অগ্রসর হয় শহরে অভিমুখে।
৯ই ডিসেম্বর রাতে ২টি দল অবস্থান নেয় ব্রহ্মপুত্রের ওপারে শম্ভুগঞ্জে। মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর অবস্থান টের পেয়ে শহরে কারফিউ জারী করে হানাদাররা। অপরদিকে টাঙ্গাইল হয়ে ঢাকার দিকে পালিয়ে যায় পাক সেনারা।
১০ই ডিসেম্বর সকালে মুক্তবাহিনী ও মিত্রবাহিনী ময়মনসিংহ শহরে প্রবেশ করে। মুক্তিবাহীনীর নেতৃত্বে ছিলেন ঢালু যুব শিবির প্রধান বীরমুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মতিউর রহমান এবং মিত্রবাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন বিগ্রেডিয়ার সামস শিংহ বাবাজি। মিত্রবাহিনীর কমান্ডার বাবাজির নেতৃত্বে শহরে প্রবেশ করে মুক্তিযোদ্ধারা ময়মনসিংহ থেকে হানাদার মুক্ত করেন।
১০ই ডিসেম্বর ময়মনসিংহবাসীর জীবনে একটি অবিস্বরনীয় দিন হয়ে উঠে। স্বাধীনতার পরেও শহীদ পরিবারের কান্না আর দীর্ঘ শ্বাসে এখনো ভাড়ী হয়ে আছে ময়মনসিংহবাসীর হৃদয়ে।
এই দিনটিকে স্মরণ করে রাখতে ১৯৮৩ সালে ময়মনসিংহ মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড ময়মনসিংহ মুক্ত দিবস পালন করতে উদ্দোগ নেন। ঐ বছরই জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের প্রবল ইচ্ছা ও দায়িত্বশীল ভুমিকার ফলে সামরিক আমলেও ১০ ডিসেম্বর মুক্ত দিবস পালন করতে সামর্থ হন।
ছোট বাজার জিকেএমসি সাহা রোডে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কার্যালয়ে একদিনের একটি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ময়মনসিংহ মুক্ত দিবস পালনের আনুষ্ঠানিক সুচনা শুরু হয়।
মুক্তিযুদ্ধকালীন যুবশিবির প্রধান ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান বলেন,  দীর্ঘ নয় মাস মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ময়মনসিংহে বেশ কিছু সম্মুখযুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধারা অংশগ্রহণ করেন। এ সকল যুদ্ধে অসংখ্য পাকসেনা ও রাজাকার নিহত হয়।
৩ ডিসেম্বর থেকে চতুর্দিক দিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা পাকসেনাদের বাধা অতিক্রম করে ময়মনসিংহ শহরের দিকে আসতে থাকে এবং ১০ ডিসেম্বর ভোরে শহরে প্রবেশ করে। অবস্থা বেগতিক দেখে পাকসেনারা ময়মনসিংহ থেকে ঢাকার দিকে পালিয়ে যায়।
তিনি বলেন, ১০ ডিসেম্বর সকালে শহরের সার্কিট হাউসে এসে এফজে সেক্টরের অধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার সান সিং বাবাজীকে সাথে নিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে ময়মনসিংহকে শত্র“মুক্ত ঘোষনা করেন।

ব্রেকিং নিউজঃ