| |

ময়মনসিংহের ছোট বাজার কুয়ার বধ্যভূমিটি ৪৫ বছরেও চিহ্নিত করা হয়নি

আপডেটঃ 4:37 pm | December 10, 2016

Ad

মো: মেরাজ উদ্দিন বাপ্পী ময়মনসিংহ :  বাঙ্গালী জাতির অবিস্বরণীয় বিজয়ের স্মৃতি আমাদের শ্রেষ্ঠ অর্জন মহান স্বাধীনতা। স্বাধীনতা যুদ্ধে এক দিকে রয়েছে যেমন বীরমুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা ইতিহাস অন্যদিকে রয়েছে পাকহানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার আলবদরদের গণহত্যা, নারী ধর্ষন, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট সহ মানবতা বিরোধী অপরাধ।
মহান মুক্তিযুদ্ধে নরঘাতক যুদ্ধাপরাধীরা ময়মনসিংহ শহর সহ বিভিন্ন উপজেলায় গণহত্যা চালিয়ে হাজার হাজার স্বাধীনতা প্রেমিক নারী পুরুষকে হত্যা করেছে।
একাত্তরে ময়মনসিংহের ছোট বাজার কুয়ার বধ্যভূমিটি স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪৫ বছরেও চিহ্নিত করা হয়নি। উদ্যোগ নেয়া হয়নি সংরক্ষণের। ফলে বিনা বাধায় আলোচিত এ বধ্যভূমি মুছে ফেলে তার ওপর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ইসলামী ব্যাংক ভবন।
ছোট বাজারের বর্তমান ইসলামী ব্যাংকের নীচে চাপা পরে যাওয়া কুয়ার বধ্যভুমির প্রত্যক্ষদর্শী বীরমুক্তিযোদ্ধা শ্রীদাম সরকার জানান, ১৯৭১ সালের ১০ই ডিসেম্বর ময়মনসিংহ মুক্ত হওয়ার পর ১২ তারিখে আমি যখন প্রথম ছোট বাজারের (বর্তমান মুক্তিযোদ্ধা স্মরনী) সংলগ্ন কুপটি দেখতে জাই। তখন আমি স্থানীয় জনসাধারনের কাছ থেকে জানতে পারি, কুপটিতে রাজাকার, আলবদর, শান্তি কমিটির সদস্যরা পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর সদস্যরা স্বাধীনতার স্বপক্ষের ব্যবসায়ী, ছাত্র ও মুক্তিযোদ্ধাদের ধরে এনে নির্যাতন করে হত্যা করে উক্ত কুয়ায় ফেলে দিত।
মুক্তিযোদ্ধা শ্রীদাম সরকার জানান, আমি কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় জনসাধারনের সহায়তায় উক্ত কুয়া থেকে ২৫/৩০টি মানুষের মাথার খুলি ও ৪ টি মহিলার পঁচা গলিত লাশ বের করে আনি। আমি কুয়াটির ভিতরে বৈদ্যুতিক ফ্যান, সেলাই মেশিন সহ ১৫ বস্তা কাশার বিভিন্ন ধরনের বাসন কোষন উদ্বার করি। যা স্থানীয় বড় বাজার, ছোট বাজার ও স্বদেশী বাজারের বিভিন্ন বাসা থেকে লুট করা হয়ে ছিল। সেখান থেকে আমি কিছু মহিলাদের শাড়ী ব্লাউজ ও গোপন বস্ত্রও উদ্বার করি।
বীরমুক্তিযোদ্ধা শ্রীদাম সরকার তুড়া ট্রেনিং ক্যাম্পে ২৪ নং ব্যাচে ট্রেনিং গ্রহন করেন। ট্রেনিং শেষে মেরাদন আব্দুর রহিম কোম্পানীতে যোগ দিয়ে যুদ্ধে অংশ গ্রহন করেন। বীরমুক্তিযোদ্ধা শ্রীদাম সরকার প্রথমে ঢালু ইয়ুথ ক্যাম্পে অবস্থান নেন। যার ক্যাম্প ইনচার্জ ছিলেন গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান ধর্মমন্ত্রী বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ অধ্যক্ষ মতিউর রহমান। বীরমুক্তিযোদ্ধা মুক্তিযোদ্ধা শ্রীদাম সরকার তেলিখালী, নালিতাবাড়ী, গোয়াতলা যুদ্ধে প্রত্যক্ষ ভাবে বীরত্বের সাথে যুদ্ধে অংশ গ্রহন করেন।
শ্রীদাম সরকার আরও জানান, ৯ই ডিসেম্বর বোররচর দিয়ে ময়মনসিংহে প্রবেশকালে ২৫ জন রাজাকার উনাদের কাছে আতœসমর্পন করেন। ১৯৭১ সালের ১০ই ডিসেম্বর উনার আব্দুর রহিম কোম্পানী সকাল বেলায় ময়মনসিংহ শহরে প্রবেশ করে।
ছোট বাজারে রাস্তার নাম পরিবর্তন করে মুক্তিযোদ্ধা স্মরনী রাখায় মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে ময়মনসিংহ পৌরসভার মেয়র মো: ইকরামুল হক টিটুকে কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানিয়ে শ্রীদাম সরকার স্থানীয় জেলা প্রশাসনের কাছে দাবী করেন ইসলামী ব্যাংকের নিচে চাপা পরা বধ্যভুমির কুপটির স্থলে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মান করার।

ব্রেকিং নিউজঃ