| |

ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত

আপডেটঃ 2:51 pm | December 29, 2016

Ad

মো: নাজমুল হুদা মানিক ॥ ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান উনার প্রতিদন্দিদের চাইতে বিপুল ভোটে বেসরকারী ভাবে আনারস প্রতিক নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১৭ শত ৩১ ভোট ও উনার নিকটতম প্রতিদদ্ধী সতন্ত্র প্রার্থী একেএম ফখরুল আলম বাপ্পী চৌধুরী চশমা প্রতিক নিয়ে পেয়েছেন ২ শত ৮৮ ভোট ও এডভোকেট নুরুল ইসলাম রানা মোটর সাইকেল নিয়ে পেয়েছেন ২৭ ভোট। জেলা পরিষদ সাধারন সদস্য পদে ৫৯ জন ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ১৯জন প্রতিদন্ধিতা করেন। নির্বাচনে ১৫টি সাধারন আসনের মধ্যে ওয়ার্ড ১৪ (গফরগাঁও এর একাংশ পাগলা) থেকে বিনা প্রতিদন্ধিতায় মো: মহিবুল হক নির্বাচিত হন। বুধবার (২৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক (ডিসি) খলিলুর রহমান এ ফলাফল ঘোষণা করেন। জেলার অন্যান্য ওয়ার্ডে যারা সাধারন সদস্য পদ ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তারা হলেন, সাধারণ-১ সদস্য পদে মাহমুদুল হক সায়েম (তালা), সাধারণ-২ সদস্য পদে আসাদুজ্জামান আকন্দ (হাতি), সাধারণ-৩ সদস্য পদে আব্দুল খালেক (হাতি), সাধারণ-৪ সদস্য পদে মোজাম্মেল হক (হাতি), সাধারণ-৫ সদস্য পদে খায়রুল বাশার (তালা), সাধারণ-৬ সদস্য পদে মমতাজ উদ্দিন মন্তা (টিউবওয়েল), সাধারণ-৭ সদস্য পদে জোৎস্না আরা মুক্তি (হাতি), সাধারণ-৮ সদস্য পদে তাজুল ইসলাম বাবলু (হাতি), সাধারণ-৯ সদস্য পদে রুহুল আমিন (হাতি), সাধারণ-১০ সদস্য পদে আব্দুল্লাহ আল মামুন (হাতি), সাধারণ-১১ সদস্য পদে একরাম হোসেন (টিউবওয়েল), সাধারণ-১২ সদস্য পদে আবু বক্কর ছিদ্দিক (তালা), সাধারণ-১৩ সদস্য পদে মজিবুর রহমান (হাতি), সাধারণ-১৪ সদস্য পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মুহিবুল হক এবং সাধারণ-১৫ সদস্য পদে মোস্তফা কামাল (বৈদ্যুতিক পাখা)। সংরক্ষিত-১ আসনে সদস্য পদে আসমাউল হুসনা (দোয়াত কলম), সংরক্ষিত-২ আসনে সদস্য পদে আরজুনা কবির (ফুটবল), সংরক্ষিত-৩ আসনে সদস্য পদে ফারজানা শারমীন (দোয়াত কলম), সংরক্ষিত-৪ আসনে সদস্য পদে আনজুন আরা (হরিণ) ও সংরক্ষিত-৫ আসনে সদস্য পদে দিলরুবা কাজল (হরিণ)। অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠানের জীবনী :
অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান ১৯৫৪ সালের ১৪ই মার্চ ময়মনসিংহ শহরের বাঘমারায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। তার পিতা তাহের আলী খান পাঠান ও মাতা খাতেমুন নেছা। তিনি ময়মনসিংহ জেলা স্কুল থেকে এস.এস.সি ও আনন্দ মোহন কলেজ থেকে এইচ.এস.সি পাশ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগ থেকে কৃতিত্বের সাথে বি.এস.এস (অনার্স) সহ এম.এস.এস ডিগ্রী লাভ করেন। নান্দাইল শহীদ স্মৃতি আদর্শ কলেজে সমাজ কল্যান বিভাগে দীর্ঘ ৩১ বছর ৪ দিন অধ্যাপনা করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রানিত হয়ে ছাত্রলীগের জীবন শুরু করেন। তিনি ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সদস্য, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জহুরুল হক হল ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ থেকে সর্বাধিক ভোট পেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসু‘র সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ডাকসু‘র ভিপি‘র দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আওয়ামী যুবলীগ ময়মনসিংহ জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক ও সভাপতি ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ময়মনসিংহ জেলা শাখার কার্যকরী কমিটির সদস্য। জাতীয় ক্রীড়াবিদ ও ক্রীড়া সংগঠক অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান ময়মনসিংহ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সহ সভাপতি। তিনি বাংলাদেশ এ্যাথলেটিক ফেডারেশনের সদস্য ও বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি ময়মনসিংহ জেলা ইউনিটের আজীবন সদস্য। বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ ও ক্রীড়া সংগঠক হিসাবে তিনি ময়মনসিংহ জেলার ক্রীড়াঙ্গনে বিভিন্ন ক্লাব সংগঠনের সাথে সক্রিয় ভাবে জড়িত আছেন। ব্যাক্তিগত জীবনে সদালাপী ও আপোষহীন রাজনীতিবিদ জননেতা অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান এর রয়েছে বর্নাঢ্য রাজনৈতিক জীবন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার প্রতিবাদ সহ ৭৫ পরবর্তী সময়ে ৩রা নভেম্বর গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে জেলখানায় হত্যা করার পর তার মরদেহ যে কয়জন সাহসী যুবক তৎকালীন খুনী মুশতাক সরকারের কাছ থেকে দাফনের জন্য সৈয়দ নজরুল ইসলামের পরিবারের সদস্যদের সাথে লাশ গ্রহন করেছিলেন অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান তার মধ্যে অন্যতম এক সাহসী যুবক। ৭৫ এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় থেকে শুরু করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য যতগুলি স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন সংগ্রাম সংগঠিত হয়েছে ময়মনসিংহ জেলা যুবলীগের একজন নেতা হিসাবে নির্ভিক, সাহসীকতার সাথে সেই সমস্থ আন্দোলনে অগ্রনী ভুমিকা পালন করেছেন। আওয়ামীলীগ রাজনীতিকে সুসংগঠিত করতে গিয়ে একাধিকবার কারাবরন করেছেন। আজীবন সৎ ও কর্মীবান্ধব একজন রাজনৈতিক নেতা হিসাবে দলীয় ঐক্যে বিশ্বাসী বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ও তার কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ড সকলের প্রিয় মুখ অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠানকে জেলা পরিষদ নির্বাচন ২০১৬ তে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন প্রদান করেন। নবগঠিত ময়মনসিংহ বিভাগের ময়মনসিংহ জেলার সার্বিক উন্নয়নে জননেত্রী শেখ হাসিনার ভিশন ২০২১ ও ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে জননেতা অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান দলমত নির্বিশেষে সকলকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করবেন। তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কাঙ্খিত সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করবেন বলে অনেকেই মনে করেন।
বেসরকারী ফলাফল ঘোষনার পর নেতাকর্মী ও সমর্থকরা অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানায়। এসময় ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক যুবলীগ সভাপতি আলহাজ্ব এহতেশামুল আলম, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল, ময়মনসিংহ পৌরসভার মেয়র আওয়ামীলীগ নেতা মো: ইকরামুল হক টিটু, ময়মনসিংহ সদর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আশরাফ হোসাইন, জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক আলোকিত ময়মনসিংহ পত্রিকার সম্পাদক প্রদীপ ভৌমিক, জেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক এম এ কদ্দুছ, যুগ্ন সাধারন সম্পাদক শাহ শওকত উসমান লিটন, জেলা স্চ্ছোসেবকলীগের সহ সভাপতি মো: আনোয়ারুল হক রিপন, ময়মনসিংহ জেলা শ্রমিকলীগের সাধারন সম্পাদক সৈয়দ আওলাদ হোসেন সহ আওয়ামীলীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উনাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন।

ব্রেকিং নিউজঃ