| |

খালেদাকে বক্তব্য প্রমাণের চ্যালেঞ্জ কাদেরের

আপডেটঃ 2:28 am | December 30, 2016

Ad

স্টাফ রিপোর্টার : নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অভিযোগ প্রমাণ করার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, নির্বাচনে সরকার দলের ষড়যন্ত্র প্রমাণ না করতে পারলে বিএনপি নেত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যৌথ সভায় ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ ‍মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের সমাবেশ সফল করতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে ঢাকা ও ঢাকার আশেপাশে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাধারণ সম্পাদক, দলীয় মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যানদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করে আওয়ামী লীগ।

গত ২২ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে ভোটের দিন নির্বাচনকে সুষ্ঠু বলেছিল বিএনপি। কিন্তু তাদের প্রার্থী প্রায় ৮০ হাজার ভোটে হেরে যাওয়ার পর এ নিয়ে প্রশ্ন তোলে বিএনপি।

মঙ্গলবার রাতে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে মত বিনিময়ে নারায়ণগঞ্জ ভোট নিয়ে কথা বলেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, ‘বাইরে হলো সব ফিটফাট, ভেতরে হলো কী? বুঝতে পারছেন যে, ভেতরে যত রকমের দুনিয়ার ষড়যন্ত্র আর বাইরে থেকে সব ফিটফাট দেখায়। এটা বাংলাদেশের মানুষ, যে কোনো ধর্মের মানুষই এতো বোকা নয়, আজকাল ছোট বাচ্চারাও এগুলো বোঝে।’

এই ভোট বিএনপি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেননি খালেদা জিয়াও। তিনি বলেন, ‘এবার এটা দিয়ে তিনারা খুব বাহাদুরি নিতে চাইছেন যে, আমাদের আমলে নিরপেক্ষ একটা ফেয়ার ইলেকশন হয়েছে। কিন্তু ফেয়ার হয়নি। ভোটের পারসেন্টটেজ— ইয়ে টিয়ে…, বুঝা যায় সব কিছু।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নির্বাচন পর্যবেক্ষকরাও একে অনুসরণীয় বলছেন। নারায়নগঞ্জ সিটি নির্বাচন নিয়ে ফখরুল, রিজভী সাহেবরা মনগড়া অনেক কথা বলেছেন। শেষ পর‌্যন্ত খালেদা জিয়া বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নির্বাচনে নাকি ষড়যন্ত্র হয়েছে। আমি বেগম জিয়াকে অনুরোধ করবো ষড়যন্ত্র জাতির সামনে প্রমাণ করুন, আর প্রমাণ করতে না পারলে, আপনার বক্তব্য প্রত্যাহার করুন।’

জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদের বক্তব্যের সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মওদুদ আহমদ বলেছেন, জেলা পরিষদ নির্বাচন নাকি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এরপর ফখরুল সাহেবও সুর মিলিয়েছেন। তাহলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কি সংবিধানবিরোধী? সেটাও তো হয় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ভোটে।’

আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘২০০০ সালে আমরা সরকারে থাকার সময় জেলা পরিষদের আইন হয়েছে। এটা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক থাকলে, আপনারা ক্ষমতায় এসে তা সংশোধন করেননি কেন? যেভাবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ভোটে রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার নির্বাচিত হয় ঠিক একই প্রক্রিয়া জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও মেম্বার নির্বাচিত হয়েছে। এটি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সংবিধানের কথা বলবেন না। আপনারাই সংবিধান রক্তাক্ত ও পদদলিত করেছেন। আপনাদের মুখে সংবিধানের কথা শুনলে ভুতের মূখে রাম নাম। কোন সংবিধানের বলে জিয়াউর রহমান এদেশের রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন, আমরা জানতে চাই।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, এ কে এম এনামুল হক শামীম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, আইন বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মতিন খসরু, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য গোলাম কবির রাব্বানী চিনু, রিয়াজুল কবির কাওসার, আনোয়ার হোসেন প্রমুখ যৌথ সভায় উপস্থিত ছিলেন।

ব্রেকিং নিউজঃ