| |

অন্বেষা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ সীলগালা প্রতিষ্ঠানের সামনে বন্ধের নোটিশ

আপডেটঃ 6:51 pm | January 22, 2017

Ad

মো: মেরাজ উদ্দিন বাপ্পী  : মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমতি না থাকায় বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর আব্দুল মোনায়েম খানের মেয়ে নাসরিন মোনায়েম খান পরিচালিত ময়মনসিংহের অন্বেষা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ সীলগালা করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে রোববার (২২ জানুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি এবং সার্বিক) মুহাম্মদ আব্দুল লতিফ বন্ধের নোটিশের একটি কপি প্রতিষ্ঠানের গেটে টাঙ্গিয়ে দেয়। এর পর অন্বেষা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ সীলগালা করে দেয়া হয়।
বিষয়টি নিয়ে ময়মনসিংহের নব্বইয়ের দশকের সাবেক ছাত্রনেতারা যৌথ সভা করে সিদ্ধান্ত নিয়ে গত ২৭ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দেন। জেলা প্রশাসক বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রকাশিত খবরের সত্যতা পান। জেলা প্রশাসন বিষয়টি জানিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়। এরপর গত ৮ অক্টোবর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে ময়মনসিংহ সমাজ রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘ।
এর পরও বেপরোয়া ছিল এ স্কুলের কর্তৃপক্ষ। নতুন বছরে শিক্ষার্থী ভর্তির সময় বিলি করা হাজার হাজার লিফলেটে তারা আবারও মোনেম খানকে ‘শহীদ’ উল্লেখ করে। এ নিয়ে গত ৮ জানুয়ারি জাতীয় দৈনিকে আবারও একটি খবর প্রকাশিত হয়।
এ নিয়ে সাবেক ছাত্রনেতারা পত্রিকায় বিবৃতি দেন। বিষয়টি নিয়ে বড় ধরনের আন্দোলন দানা বাঁধতে শুরু করেছিল, কিন্তু এরই মধ্যে স্কুলটি বন্ধে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত সবার মধ্যে স্বস্থি বয়ে এনেছে। এ সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্বাধীনতার পক্ষের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সাবেক ছাত্রনেতারা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব চৌধুরী মুফাদ আহমদ জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকারের কোনো সংস্থা থেকে অনুমোদন নেওয়া হয়নি। এটি অবৈধভাবে চলছিল। তাই এ প্রতিষ্ঠানটি সীলগালা করে দেয়া হয়।

IMG_0480
উল্লেখ্য, স্কুলটির প্রতিষ্ঠাতা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ঘোর বিরোধী ও তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনেম খানের মেয়ে নাসরীন মোনেম খান। এর অধ্যক্ষও নাসরীন। ১৯৯৬ সালে ময়মনসিংহ শহরের নতুন বাজারের সাহেব আলী সড়কে ইংলিশ মিডিয়াম এই প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে। এটি ব্রিটিশ কাউন্সিল অনুমোদিত। এতে প্লে গ্রুপ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হয়। শিক্ষার্থী তিন শতাধিক।
প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে পাকিস্তানি আদর্শ লালন, বাংলাদেশের পরিবর্তে পাকিস্তানের ইতিহাস পড়ানো, একাত্তরে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে নিহত স্বাধীনতাবিরোধী মোনেম খানের নামে প্রতিষ্ঠানটি উৎসর্গ করা ও তাঁর নামের আগে ‘শহীদ’ শব্দটি লেখা, প্রতিষ্ঠানের মনোগ্রামে চাঁদ-তারা খচিত পাকিস্তানের পতাকার চিহ্ন এবং রাষ্ট্রীয় কোনো বিধিবিধান অনুসরণ না করার অভিযোগ রয়েছে।

ব্রেকিং নিউজঃ