| |

জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর ভরাটকৃত পুকুর গুলিকে পুনরুদ্ধার করে পুর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ বাস্তবায়িত না করলে আন্দোলন

আপডেটঃ 3:05 am | February 07, 2017

Ad

স্টাফ রিপোর্টার ॥ গতকাল দুপুর ১২টায় শশীলজের বিপরীতে পুকুরপাড়ে বাচাঁই পুকুর, বাচাঁই নদী, বাচাঁই পরিবেশ, বাঁচাই দেশ, চাই সুন্দর পরিবেশ সুস্থ জীবন এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে নগরীর প্রতিটি জলাশয়, খোলামাঠ, বৃক্ষ রক্ষার দাবীতে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজনে ছিল পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন আন্দোলন (পরউআ) ময়মনসিংহ। এতে অংশ গ্রহন করেন পরিবেশ উন্নয়নের কর্মীবৃন্দ, সাংবাদিক, সমাজকর্মী, আইনজীবি ও সাধারন জনগন।

মানববন্ধন চলাকালে বক্তাগন ময়মনসিংহ মহানগরের প্রতিটি জলাশয় ভরাট হয়ে যাওয়া পুকুর ও জেলার পুকুর সমুহ অভিলম্বে অবৈধ দখল মুক্ত এবং পুনখনন করে পরিবেশ ও ঐতিহ্য রক্ষার জন্য ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও পৌরসভার প্রতি দাবী জানায়। বক্তাগন বলেন, আড়াই শত বছরের ঐতিহ্যবাহী ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগরে শতাধিক পুকুর ছিল কিন্তু কতিপয় অসাধু ব্যাক্তি সেই পুকুর গুলিকে ভরাট করে তার উপর বিভিন্ন স্থাপনা নির্মান করে।

আজকে ময়মনসিংহ মহানগরে হাতেগোনা কয়েকটি পুকুর ছাড়া অন্যগুলির অস্তিত্য খোজে পাওয়া যায়না। যার ফলশ্র“তিতে ময়মনসিংহ মহানগরে জলাবদ্ধতা সহ পরিবেশ বিপর্যয় ঘটেছে। কতিপয় অসাধু নাগরিক হীন স্বার্থে পুকুর গুলি ভরাট করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মানের উৎসবে মেতে উঠেছে। জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের দুর্নীতিগ্রস্থ কর্মকর্তারা এই সমস্থ অসাধূ নাগরিকদেরকে সাহায্য ও সহযোগিতা করছে।

প্রশাসনের নাকের ডগায় ল্যাবরেটরী স্কুল সংলগ্ন পুকুর, আমলাপাড়া শেরী পুকুর, গোলপুকুর, জোর পুকুর, সেহড়া মুন্সীবাড়ী সংলগ্ন, বিদ্যাময়ী স্কুলের পিছনের পুকুর, এসকে হাসপাতাল সংলগ্ন পুকুর, এসকে হাসপাতাল মসজিদ সংলগ্ন পুকুরটি সহ আরো অনেক ঐতিহ্যবাহী পুকুরকে ভরাট করে স্থাপনা নির্মান করছে। অথচ এই পুকুর গুলি পরিত্যাক্ত অথবা এ্যানিমি প্রপার্টি বা অর্পিত সম্পত্তির পুকুর বলে পরিচিত ছিল। জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে লিজ নিয়ে অথবা জাল দলিল করে পুকুর গুলিকে আতœসাৎ করা হয়েছে। জানাযায়, ভুমি অফিস সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর গুলি দখলকারীদেরকে অর্থের বিনিময়ে সাহায্য ও সহযোগিতা করেছে।

বক্তারা আরো বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা জলাশয় দখল হয়ে যাওয়া পুকুর এবং ভরাট হয়ে যাওয়া পুকুর গুলিকে পুর্নরুদ্ধার করে পুর্বের জায়গায় ফিরিয়ে আনার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর এ ব্যাপারে কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহন করছে না। নবনির্বাচিত জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মানববন্ধনের সাথে সংহতি প্রকাশ করে বলেন, তিনি জেলার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলবেন।

এমনকি প্রয়োজনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎ করে ময়মনসিংহের পরিবেশ সুস্থ রাখার জন্য বিষয়টি নিয়ে কথা বলবেন। তিনি আরো বলেন, জলাশয় গুলি ভরাট হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় অগ্নিকান্ড সংগঠিত হলে আগুন নিভানোর জন্য পনির অভাব দেখা দিবে এবং ময়মনসিংহ মহানগরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্বাবনা রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আমি ময়মনসিংহ মহানগরবাসী হিসাবে আপনাদের আন্দোলনের সাথে আছি থাকব। মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসক বরাবরে পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন আন্দোলনের সভাপতি অধ্যক্ষ ড. মো: শাহাব উদ্দিন ও সাধারন সম্পাদক এডভোকেট শিব্বির আহমেদ লিটনের নেতৃত্বে স্মরকলিপি প্রদান করা হয়।

16558662_556304411241070_241583538_n

মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ জেলা নাগরিক আন্দোলনের সভাপতি এডভোকেট আনিসুর রহমান খান, ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান, জেলা সিপিবির সভাপতি এডভোকেট এমদাদুল হক মিল্লাত, ময়মনসিংহ জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক আলোকিত ময়মনসিংহ পত্রিকার সম্পাদক প্রদীপ ভৌমিক, ময়মনসিংহ মানবাদিকার পরিষদের সাধারন সম্পাদক এডভোকেট আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম চুন্নু, পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন আন্দোলন (পরউআ) ময়মনসিংহ অধ্যক্ষ ড. মো: শাহাব উদ্দিন, সাধারন সম্পাদক এডভোকেট শিব্বির আহমেদ লিটন, ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারন সম্পাদক মীর গোলাম মোস্তফা, এডভোকেট ইমদাদুল হক সেলিম, কবি স্বাধীন চৌধুরী, শংকর সাহা, নারী নেত্রী সৈয়দা সেলিনা আজাদ, অহনা নাসরিন, অঞ্জন সরকার, মো: আব্দুল কাদের চৌধুরী মুন্না, মো: শাখাওয়াত হোসেন, মো: আবুল মনসুর প্রমুখ।

ব্রেকিং নিউজঃ