| |

ময়মনসিংহ কৃষ্টপুরে মাদক বিরোধী মতবিনিময় সভায় ডিআইজি পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে জানাবেন ব্যবস্থা নেয়া হবে যারা মাদক ব্যবসা ছেড়ে দিবে তাদেরকে কর্মসংস্থান করে দেয়া হবে

আপডেটঃ 12:03 am | February 09, 2017

Ad

মো: নাজমুল হুদা মানিক ॥ ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার উদ্যোগে কৃষ্টপুর রেলওয়ে কলোনী চত্বরে আয়োজিত মাদক বিরোধী মতবিনিময় সভা ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ নূরুল ইসলাম (বিপিএম-পিপিএম) এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন (পিপিএম) বলেছেন, মাদকের সমস্যা নতুন সমস্যা নয় পুরাতন সমস্যা। মদ জুয়া সারা দেশে চলুক আমার কোন সমস্যা নেই তবে তাতে পুলিশের যেন সম্পৃক্ততা না থাকে। মাদক, জুয়া হলে পুলিশের কি করনীয় তা পুলিশ কে বুঝানো হয়েছে। তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করতে হবে। তিনি বলেণ, ময়মনসিংহের সার্বিক অবস্থা ভাল। পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে জানাবেন ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে অহেতুক কাউকে হয়রানী করবেন না। তিনি বলেন, মাদক ব্যবসা কোন গৌরবের কাজ নয়, এটি অত্যন্ত অপমান জনক কাজ। যারা মাদক ব্যবসা ছেড়ে দিবে তাদেরকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেয়া হবে। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান, ময়মনসিংহ মহাগনগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ এহতেশামুল আলম, অতি: পুলিশ সুপার ময়মনসিংহ সদর সার্কেল মো: মনিরুল ইসলাম, ময়মনসিংহ জেলা কমিউনিটি পুলিশ কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, আকুয়ার ইউপি চেয়ারম্যান আফাজ উদ্দিন সরকার, ময়মনসিংহ মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি জাহাঙ্গীর আহমেদ, শহর আওয়ামীলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহজাহান পারভেজ, সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা মো: আবুল কালাম আজাদ, ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের সংরক্ষিত সদস্য মিসেস আরজুনা কবীর, ১৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ জামাল হোসেন রোজ, ১৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো: লিয়াকত আলী, ১৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলহাজ্ব মো: শরাফ উদ্দিন, ১৮নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সভাপতি হাজী মোঃ খলিলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ¬মোঃ দুলাল মিয়া সহ এলাকার সুধীবৃন্দ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ওসি কামরুল ইসলাম । অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এসআই উজ্জ্বল। ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ নূরুল ইসলাম (বিপিএম-পিপিএম) বলেন, মাদক সারা দেশে এক ভয়াবহ সমস্যা। তিনি বলেন, যে কোন মুল্যে জঙ্গিবাদ, মাদক, জন হয়রানী প্রতিরোধ করা হবে। তিনি বলেন, সকলে মিলে মাদক বিরোধী অভিযানে অংশ গ্রহন না করলে সমাজ ধবংস হয়ে যাবে। পুলিশ সুপার বলেন, জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ মাদক মুক্ত হবেনা এটি হতে পারেনা। তিনি বলেন, পুলিশ মাদকের সাথে জড়িয়ে পরলে এক বিন্দুও ছাড় দেয়া হবেনা। পুলিশ সুপার বলেন, নেতারা যদি মাদকের সম্পৃক্ততা ছাড়িয়ে নেন ময়মনসিংহ মাদক মুক্ত হয়ে যাবে। আর ময়মনসিংহকে মাদক মুক্ত করতে কৃষ্টপুর হতে যাত্রা শুরু হলো। ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান, ৪৫ বছরের আগের কৃষ্টপুর ও বাঘমারা আর সেই অবস্থায় নেই। এই সব এলাকায় এখন অনেক শিক্ষিতের হার বেড়েছে। তিনি বলেন, মাদক বিরোধী আন্দোলনে সকলের সমর্থন আছে। যে কোন মুল্যে আমরা মাদক ও সন্ত্রাস নির্মুলে ঐক্যবদ্ধ। জেলঅ পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক পাঠান বলেন, সাধারন মানুষের নামে যেমন মাদকের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে তেমনই পুলিশের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ আছে। তিনি বলেন, বর্তমান পুলিশ সুপার মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন করেন। বর্তমান পুলিশ সুপার পুলিশের নামে বদনাম শুন্যের কোটায় নামিয়ে আনবে বলে আশাকরি। তিনি বলেন, কোতোয়ালী মডেল থানার বর্তমান ওসি অনেক পুরস্কার পেয়েছেন। আশাকরি তিনি তার অর্জন অক্ষুন্ন রাখবেন। পুলিশের সকল বদনাম দুর করতে সচেষ্ট থাকবেন। জনাব পাঠান বলেন, মাদক ব্যাসায়ীরা কোন দল করেন না তারা সব সময় সরকারী দল করেন। তারা সব সময় উমুক ভাই তুমুক ভাই এর নামে শ্লোগান দিতে ব্যাস্ত থাকেন। তাদের সাথে আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের কোন সম্পর্ক নেই। ময়মনসিংহ মহাগনগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ এহতেশামুল আলম বলেছেন, ময়মনসিংহ মহানগরের সকল এলাকা সন্ত্রাস ও মাদক মুক্ত করতে হবে। তিনি বলেন, কথা পরিস্কার, আপোষে কাজ না হলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী আওয়ামীলীগের নেতা হলেও কোন ক্ষমা নেই। ময়মনসিংহ মহানগর পরিস্কার দেখতে চাই। এ ব্যাপারে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিগন মহানগর আওয়ামীলীগের কাছে সহযোগিতা চাইলে সর্বপ্রকার সহযোগিতা করা হবে। মাদকের ব্যাপারে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

ব্রেকিং নিউজঃ