| |

হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়ছেন ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগ নেতা হতে আগ্রহী তরুণরা

আপডেটঃ 1:30 am | February 11, 2017

Ad

মো: মেরাজ উদ্দিন বাপ্পী, ময়মনসিংহ : ২৮ তম জাতীয় সম্মেলনে কাউন্সিলরদের ভোটের মাধ্যমে ২৬ জুলাই থেকে আগামী দুই বছরের জন্য সাইফুর রহমান সোহাগ বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও জাকির হোসাইন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ।
এর পর ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ থেকে এক বছরের মেয়াদী ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগ কমিটি ঘোষণা করা হয়। সভাপতি পদে আগের কমিটির সাধারণ সম্পাদক রকিবুল ইসলাম রকিব ও সাধারণ সম্পাদক পদে আগের কমিটির সহ-সভাপতি সরকার মো. সব্যসাচীর নাম ঘোষণা করে কাউন্সিলের পর তিন মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার কথা জানানো হয়। কিন্তু এক বছরেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে পারেনি ১ বছর মেয়াদি কমিটি রকিব-সব্যসাচী।
সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রকিব-সব্যসাচীর নাম ঘোষণার পর থেকে সংগঠনের ত্যাগী নেতাকর্মীরা পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়ার জন্য ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের অনেক নেতাকর্মী কেন্দ্রের কাছে অনুরোধ জানিয়ে আসছিল বলেও খবর পাওয়া গেছে।
অবশেষে মেয়াদ শেষ হওয়া জেলা ছাত্রলীগ পূর্ণাঙ্গ কমিটি না দেয়াতে ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের বিভিন্ন শাখা ছাত্রলীগের জুনিয়র কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা ছাত্রলীগের সক্রিয় এক ছাত্রলীগ কর্মী বলেন, চার পাচ বছর ধরে ছাত্রলীগের রাজনীতি করলেও ন্যূনতম স্বীকৃতিটুকু পাইনি। এ কারণে মাঝে মধ্যে রাজনীতি ছেড়ে দিতে ইচ্ছা করে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে এখনো রাজনীতি করে যাচ্ছি।
এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জেলা ছাত্রলীগের সক্রিয় এক ছাত্রলীগ কর্মী বলেন, সবাই যখন নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত। তখন আমাদের দিকে কে তাকাবে? তাই বর্তমান কমিটি ভেঙে দিয়ে শিগগিরই নতুন কমিটি গঠনের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের কাছে অনুরোধ জানান। অন্যান্য ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও একই দাবী জানিয়েছেন।
ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে যোগ হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো: রকিবুল ইসলাম রকিব, সাধারণ সম্পাদক সরকার মো. সব্যসাচী, শহর ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন আরিফ, সাধারন সম্পাদক ফয়জুর রাজ্জাক উষান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আশফাক আল রাফি শাওন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক নওশেল আহমেদ অনি, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সন্জয় দও, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বায়জিদ সিদ্দীকি রিজভী, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য মো: আনোয়ারুল ইসলাম (আনোয়ার), জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য হুমায়ুন কবির, ছাত্রলীগ নেতা আরিফুল ইসলাম, তানভির জুবায়ের ইসলাম (তারিন)সহ আরও অনেক তরুন ছাত্রলীগ কর্মী।
এদিকে ছাত্রলীগের অনেকে হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেখান থেকে অনেকটা দূরে সরে গেছে ছাত্রলীগ। অন্যদিকে হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়ছেন নেতা হতে আগ্রহী তরুণরা। কারণ, তাদের ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পথে। নতুন কমিটি দিতে দেরি হলে ছাত্রলীগ অনেক অভিজ্ঞ ও দক্ষ তরুণকে হারাবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ব্রেকিং নিউজঃ