| |

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ওরিয়েন্টেশন

আপডেটঃ 9:22 pm | February 12, 2017

Ad

ফয়জুর রহমান ফরহাদ ॥ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের গাহি সাম্যের গান মঞ্চে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের “ওরিয়েন্টেশন” প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহীত উল আলম।  বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর এ এম এম শামসুর রহমানের সভাপতিত্বে ওরিয়েন্টেশন বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন আইটি আইকন এবং বিজয় কীবোর্ডের উদ্ভাবক জনাব মোস্তফা জব্বার। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মোঃ নজরুল ইসলাম এবং কলা অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মুশাররাত শবনম। এছাড়া আলোচনা সভায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোঃ জাহিদুল কবীর এবং রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ড. মোঃ হুমায়ুন কবীর। স্বাগত বক্তব্য রাখেন চারুকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জনাব মাসুম হাওলাদার। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি  সাব্বির আহমেদ সাধারন সম্পাদক আপেল মাহমুদ। এছাড়া নবীনদের পক্ষ হতে তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ছাত্র রিয়েল সরকার , লোকপ্রশাসন ও সরকার পরিচালনবিদ্যা বিভাগের ছাত্রী তিয়ানা রহমান তুষ্টি এবং অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র জয়া বর্মণ। প্রধান অতিথি প্রফেসর ড. মোহীত উল আলম তার বক্তব্যে বলেন, ‘বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে ডিজিটালাইজেশনের কোন বিকল্প নাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য জ্ঞানের বিকাশ, জ্ঞান চর্চা এবং নতুন জ্ঞান তৈরি করা। বিশ্ববিদ্যালয় পেশি শক্তির জায়গা না, বিশ্ববিদ্যালয় হলো জ্ঞানের শক্তির জায়গা।’ নবীনদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘তোমরা নবীন, তোমরা যুবক, তোমরা জয়ধ্বনি করবে। তবে তোমাদের সেই জয়ধ্বনি করার শক্তি হবে জ্ঞান।’ প্রধান অতিথি আরও বলেন, ‘আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের সমাজকে গড়ে দিচ্ছেন এবং সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। আর জয় বাংলা শুধু একটি শ্লোগান নয়, জয় বাংলা হলো বাঙালী সংস্কৃতির উদ্বোধক।’ মোস্তফা জব্বার তার বক্তব্যে  বলেন ‘জয় বাংলা শ্লোগানে আমাদের দেশ পরিচিত হয়েছে। আর এর পরের পরিচিতি শ্লোগান হলো ডিজিটাল বাংলাদেশ। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের স্বর্ণ কণ্যা। তিনি ১৯৯৬ সনে প্রথম ক্ষমতায় এসেই মূলত বাংলাদেশের ডিজিটালাইজেশনের কাজ শুরু করেন। প্রথমে তিনি মোবাইল কোম্পানীর একক আধিপত্য ভেঙ্গে দেন। কম্পিউটার আমদানীর উপর শুল্ক তুলে দেন। ২১০ কোটি টাকার রাজস্ব হারালেও দেশকে ডিজিটালাইজড করতে তিনি এই শুল্ক তুলে দেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘তথ্য প্রযুক্তিতে পারদর্শিতা অর্জনের জন্য তথ্য প্রযুক্তিতেই পড়তে হবে এমন নয়। আমি নিজেও বাংলার ছাত্র। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বিল গেটসও বিশ্ববিদ্যালয় হতে ড্রপ আউট হয়েছিলেন।’ শিশুদের গেম খেলতে না দেওয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘মা বাবারা গেম খেলতে পারেন না বলেই তাদের সন্তানদের গেম খেলতে দেন না হিংসা করে। অথচ তারা যদি গেম না খেলে তাহলে নতুন গেম তৈরি হবে কীভাবে?’ তিনি আরও বলেন,‘প্রতিনিয়ত শিক্ষার পরিবেশ বদলে যাচ্ছে। পাঠ্যপুস্তক, ক্লাসরুম ও শিক্ষক হলো আমার সময়ের শিক্ষা। আজ একজন শিশুও ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্বের যাবতীয় তথ্য পাচ্ছে ক্লিকের মাধ্যমে। প্রবেশ করতে পারছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় লাইব্রেরী গুগলে।’ নবীনদের উদেশ্যে তিনি বলেন, ‘আর যাই করো না কেন মা, মাতৃভাষা ও মাতৃভূমির বিষয়ে কখনও কোন সমঝোতা করবে না।’ আলোচনা সভা শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন ও নাটক পরিবেশিত হয়।

ব্রেকিং নিউজঃ