| |

ঝিনাইগাতীতে দ্বাদনের টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে দরিদ্র কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা

আপডেটঃ 7:15 pm | February 13, 2017

Ad

ঝিনাইগাতী প্রতিনিধি ॥ শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে দ্বাদনের টাকার চাঁপে বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছে দরিদ্র কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। দরিদ্র কৃষকরা চাষাবাদের জন্য আর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পুঁজি বাড়ানোর জন্য দ্বাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে সুদে-আসলে টাকা না দিতে পারলেই নানা ধরনের চাপ প্রদান করে এসকল দ্বাদন ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন এনজিও প্রতিষ্ঠান। এই অত্যাচারের ভয়ে ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে ব্যর্থ হয়ে ঘর-বাড়ি ছেড়ে রাতের আধারে অনেক পরিবার পাড়ি জমিয়েছে ঢাকায়। একই অবস্থা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বেলাও এমনটি ঘটেছে। বহু ছোট ব্যবসায়ী দ্বাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে এই চড়া সুদে ঋণ নিয়ে পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে দোকান-পাঠ ছেড়ে পালিয়েছে বহু দোকানীরা। উল্লেখ্য, দ্বাদন ব্যবসায়ীরা এমন প্রভাবশালী যে, তাদের উপরে সাধারণ লোক মুখ খোলার সাহস পায় না। এছাড়াও দ্বাদন ব্যবসায়ীদের রয়েছে বহু দালাল চক্র। এই চক্রের মাধ্যমে ঋণের টাকা উত্তোলনে ঋণ গ্রহিতাদেরকে মারপিট পর্যন্ত করতে দেখা যায়। সম্প্রতি ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর বাজারের পশ্চিম পার্শ্বের একটি হিন্দু পরিবার শ্রীমতি চিনি রাণী দ্বাদনের টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে নিজের বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালিয়েছে। উক্ত বাড়িটি এখন দ্বাদন ব্যবসায়ীদের দখল করে নিয়েছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে দোকান-পাঠ ছেড়ে অন্যত্রে পালিয়েছে। এছাড়াও বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাদের দোকানপাঠ ছেড়ে পালিয়েছে আর কৃষকরা পড়েছে ঋণের চাপে। প্রকাশ থাকে যে, দ্বাদন ব্যবসায়ীরা অনেক সহজ-সরল দরিদ্র পরিবার ব্যাংকের সাদা চেকের স্বাক্ষরের বদৌলতে ঋণের সুদে আসলে টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে এই সমস্ত ঋণ গ্রহিতার নামে হয়রানি মূলক ঋণের মামলা রুজু করা হয়। এছাড়াও স্বর্ণালংকার, জমির মূল্যবান কাগজ-পত্র, কিংবা সাদা কাগজে টিপসহি রেখে দ্বাদন ব্যবসায়ীরা দ্বাদনের টাকা দেয়। ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে এই সরলতার সুযোগে জমি দখল, বাড়ি দখল দোকান লোপাটসহ ব্যাংক জালিয়াতির মতো বিভিন্ন মামলায় হ্যস্ত-ন্যস্ত করে  টাকা উত্তোলনের চেষ্টা চালায়। বাধ্য হয়েই ঋণ গ্রহিতারা নিজেদের বাপ-দাদার ভিটেমাটি জমি-জমা, ঘর-বাড়ি, গরু-বাছুর বিক্রি করে এই দেনা পরিশোধ করতে বাধ্য হচ্ছে। দ্বাদন ব্যবসায়ী ও দালাল চক্রের সু-কৌশলের আইনের মার পেচে ফেলে সাধারণ মানুষেরা নাজেহাল হচ্ছে ও সর্বস্ব হারাচ্ছে। অপরদিকে অত্র এলাকায় বেশকিছু এনজিও রয়েছে যাদের অবস্থাও ওই দ্বাদন ব্যবসায়ীদের মতোই। মোট কথা দ্বাদন ব্যবসায়ীদের মতো এনজিও প্রতিষ্ঠানগুলি সহজ সরল মানুষগুলোর সরলতার সুযোগ নিয়ে দরিদ্রকে আরও নিঃস্ব করে দিচ্ছে। আর দ্বাদন ব্যবসায়ীরা দ্বাদন ব্যবসা দিয়ে লুপাট করে নিচ্ছে সহজ-সরল ব্যবসায়ী ও কৃষকদের সম্পদ। দিন দিন এই সমস্ত দরিদ্র কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা দ্বাদন ব্যবসায়ী ও এনজিও এর ক্ষপ্পরে পড়ে সর্বশান্ত হচ্ছে। তাই এসমস্ত দ্বাদন ব্যবসায়ী ও এনজিও প্রতিষ্ঠানের প্রতি নজরদারি করা পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ও দরিদ্র কৃষকদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করা জরুরী প্রয়োজন বলে সচেতন মহল মনে করেন।

ব্রেকিং নিউজঃ