| |

দুর্গাপুরের আঃ কাদির মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বঞ্চিত সরকারের দৃষ্টি আকর্ষন চান তিনি

আপডেটঃ 9:54 pm | February 16, 2017

Ad

কলি হাসান, দুর্গাপুর ॥ বাংলার স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনার জন্যে পাকিস্তানী আলবদর বাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছি। তার পরও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাইনি, তাহলে আমাকে রাজাকারের স্বীকৃতি দেন। এমন কথায় বলতে লাগলেন দুর্গাপুর উপজেলার চন্ডিগড় ইউনিয়নের পাথারিয়া গ্রামের মৃত সাহেব আলীর পুত্র আনসার মোঃ আঃ কাদির। মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী আঃ কাদির একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা এবং ভারতের রংরা ইউথ ক্যাম্পে রিক্রুট হন। রংরা হইতে তাদের একটি কোম্পানী ডালু ক্যাম্পে প্রেরণ করে। ডালুতে ৪টি কোম্পানী চূড়ান্ত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। তাদের মধ্যে মোঃ আঃ কাদির চূড়ান্ত ট্রেনিং সম্পন্ন করেন। যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে দেশ স্বাধীন করেন। পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদী যুদ্ধেও সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালের পরবর্তী সময়ে নিজের অভাবের সংসারে হাল ধরার জন্যে নারায়নগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানার অধীনে একটি বেসরকারি কোম্পানী নিরাপত্তা প্রহরীর চাকুরী নিয়ে জীবন যাপন করেন এবং ২০১০ সালে দুর্গাপুর স্ব-পরিবারে চলে আসেন। দুর্গাপুর উপজেলার ডেপুটি কমান্ডার আনোয়ার হোসেন লেবু সাহেবের সাথে যোগাযোগ করিলে তিনি বলেন মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় আঃ কাদিরের নাম অন্তর্ভূক্ত হয়নি। তখন ডেপুটি কমান্ডারের দিক নির্দেশনায় এবং দুর্গাপুর কমান্ড কাউন্সিলের প্রত্যয়নপত্র সাথে নিয়ে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল, কার্যালয়, ঢাকা বরাবরে লিখিত আবেদন করেন। মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম অন্তর্ভূক্তি করার জন্য। এক প্রশ্নের জবাবে আঃ কাদির আলোকিত সময়ের প্রতিনিধিকে জানান আমি বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার আস্থাভাজন মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক এমপির সাথে বিগত ২৯/১০/২০১৫ ইং তারিখে সাক্ষাৎ করি। তিনি নভেম্বর মাসে যেতে বলেন। নভেম্বর মাসে সাক্ষাত করলে তিনি জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড ডিজি বরাবর সুপারিশ করেন মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম অন্তর্ভূক্ত করার জন্যে। বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শনের ব্যপারে যথেষ্ট আন্তরিক। তাই মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে অনেক মুক্তিযোদ্ধা বাদ পড়ে যায়। সেজন্যে সারাদেশে ধারাবাহিকভাবে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল কর্তৃক ঘোষিত সাত সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গত ১১/০২/২০১৬ ইং তারিখে দুর্গাপুর উপজেলার জামুকা বরাবরে অনলাইনে আবেদনকৃত ২৮ জনের তালিকা ধরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই সম্পন্ন হয়। এতে বাদ পড়ে যান আঃ কাদির। কোন কাগজপত্র যাচাই বাছাই না করেই সাক্ষাতকার সম্পন্ন করেন। মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটির সভাপতি ছিলেন পূর্বধলা, ধোবাউড়া আসনের সংসদ সদস্য ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল, বীর প্রতীক এমপি, ১৬১ নেত্রকোণা-৫। সদস্য সচিব ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মামুনুর রশিদ, জামুকা প্রতিনিধি সদস্য সিরাজুল ইসলাম, মুবিম এর প্রতিনিধি সদস্য মোঃ রুহুল কুদ্দুছ ফরাজী, কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের প্রতিনিধি সদস্য মোঃ সোহরাব হোসেন তালুকদার, নেত্রকোণা জেলা ইউনিট মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এর সহকারী কমান্ডার নারায়ন চন্দ্র পাল। আঃ কাদির মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে তার যথেষ্ট দালিলিক প্রমাণাদি, সহপাঠী মুক্তিযোদ্ধাদের উপস্থিতি নিশ্চিত থাকা স্বত্বেও মুক্তিযুদ্ধের যাচাই বাছাই তালিকায় নাম অন্তর্ভূক্তি হয়নি। এই বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটির সদস্য সচিব, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মামুনুর রশীদ এর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি প্রতিনিধিকে জানান আঃ কাদির যাচাই বাছাই তালিকা প্রস্তুত করার সময় উপস্থিত ছিলেন। তবে উনার সাক্ষাৎ নেন ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল এবং পরে দেখবেন বলে সাক্ষাৎকার শেষ করেন। আমি আঃ কাদির সাহেবকে জামুকা বরাবর আপীল করার জন্য বলছি। আঃ কাদির একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা, অভিজ্ঞানপত্র দেন সাবেক ক্যাম্প পরিচালক ডালু ভারত প্রিন্সিপাল মতিউর রহমান, মুক্তিবার্তা নং- ০০৪৩৩। তিনি অভিজ্ঞান পত্রে উল্লেখ করেন ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আমার অধিনস্থ ডালু ক্যাম্পে চূড়ান্ত ট্রেনিংপ্রাপ্ত একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে আমার ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত। অক্টোবর মাসের ১ম দিকে বাঘমারা ক্যাম্প থেকে ট্রেনিংয়ের জন্য একটি গ্রুপ ডালু ক্যাম্পে প্রেরিত হলেও ঢালুতে অবস্থানরত প্রাথমিক ট্রেনিংপ্রাপ্ত একটি বিরাট দল তুরা সেন্টারে চূড়ান্ত ট্রেনিংয়ের জন্য প্রেরণ করি। সঙ্গে সঙ্গে তুরা ট্রেনিং সেন্টার চূড়ান্ত যুদ্ধের প্রস্তুতির জন্য বন্ধ করে দেওয়ায় ডালুতে অবস্থারতদের চূড়ান্ত ট্রেনিং দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় এবং সুনির্দিষ্ট ট্রেনিং প্রশিক্ষক দ্বারা প্রায় ৪টি কোম্পানী ট্রেনিং দেওয়া হয়। আঃ কাদির সে গ্রুপে চূড়ান্ত ট্রেনিংপ্রাপ্ত একজন মুক্তিযোদ্ধা। আমার পরিচিত একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বাদ পড়ে যাবে এটা খুবই দুঃখজনক। দুর্গাপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার মোঃ আনোয়ার হোসেন লেবু প্রত্যয়নপত্রে উল্লেখ করেন আঃ কাদির তিনি আমার জানামতে একজন মুক্তিযোদ্ধা বলে স্বীকারোক্তি দেন। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী আঃ কাদিরের সহযোদ্ধা মুক্তিযোদ্ধারা হলেন গৌরীপুর উপজেলার বুখাইনগর গ্রামের পিতা মৃত শাহাদত আলী খান এর পুত্র মোঃ আঃ কুদ্দুছ খান, মুক্তিবার্তা নং- ০১১৫১১০২০৬, গেজেট নং- ৭৪৬, ভারতীয় তালিকা নং- ৯৯৬৯। ময়মনসিংহ, গৌরীপুরে বুখাইনগরের মৃত কাজী আঃ লতিফ এর পুত্র কাজী আঃ হাদি, মুক্তিবার্তা নং- ০১১৫১১০২৭০, ভারতীয় তালিকা নং- ৯৭১২। ময়মনসিংহ, গৌরীপুরের বুখাইনগর গ্রামের মৃত আঃ ছোবানের পুত্র আবুল কালাম, মুক্তিবার্তা নং- ০১১৫১১০২৫৮, ভারতীয় তালিকা নং- ৯৯২৪। গৌরীপুরের বুখাইনগরে মৃত হাছেন আলীর পুত্র আঃ হক, মুক্তিবার্তা নং- ০১১৫১১০২১১, ভারতীয় তালিকা নং- ৯৭১৬। উপরে উল্লেখিত চারজন মুক্তিযোদ্ধার দুইজন মৃত। জীবিত দুইজন মুক্তিযোদ্ধার সাক্ষরিত ও তিন মুক্তিযোদ্ধার গৌরীপুর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল সাক্ষর কর্তৃক অনুমোদিত। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে আঃ কাদির আলোকিত সময় প্রতিনিধিকে জানান, বর্তমান দুর্গাপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রুহুল আমীন চুন্নু ১১ ফেব্রুয়ারি মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটিতে সদস্য প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং আমাকে কমান্ডার সাহেব চিনেন না। আমার কোন যোগাযোগ দুর্গাপুর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলে নেই। অথচ তিনি বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, দুর্গাপুর উপজেলা শাখা কমান্ড কার্যালয়ের নিজস্ব প্যাডে ১৬ই ডিসেম্বর ১৯৯২ মহান বিজয় দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে ডেপুটি কমান্ডার, চন্ডিগড় ইউনিয়ন, দুর্গাপুর বরাবর রুহুল আমিন চুন্নুর সাক্ষরিত চিঠি প্রেরণ করেন এবং ১২/১২/১৯৯১ সালে ১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, দুর্গাপুর উপজেলা সংসদ, দুর্গাপুর উপজেলা কমান্ড নিজস্ব প্যাড কর্তৃক দাওয়াত নামায় আমার উপস্থিতি ও সক্রিয় সহযোগিতা একান্তভাবে কামনা করেন। তখনকার ও বর্তমান কমান্ডার রুহুল আমিন চুন্নু। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বানে আমাকে ভোটার করা হয়। যার সুচক নং- ৭২-১৮-২৫-০১১। মুক্তিযুদ্ধের বিবরণ জানতে চাইলে আঃ কাদির আলোকিত সময় প্রতিনিধিকে জানান, আমি সেপ্টেম্বর ১৯৭১ এর শেষের দিকে আমার কোম্পানী কমান্ডার সুবেদার মেজর (ইপিআর) জনাব মোঃ আজিজুল হক সাহেব, মোঃ আঃ কুদ্দুছ সাহেবকে চার্জ পার্টির লিডার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। নায়েক সুবেদার ইপিআর হাফিজ সম্পূর্ণ এ্যাম্বুজ পার্টির দায়িত্বে থাকেন। আমার চার্জপার্টিসহ এ্যাম্বুজ পার্টির কমান্ডার সুবেদার ইপিআর হাফিজ সাহেবের পরামর্শ অনুসারে যথাবস্থায় দুর্গাপুর ও নাজিরপুর মধ্যস্থলে চন্দ্রকোনা গ্রামের উত্তর পার্শ্বে সকাল ৫:০০ টায় গমন করি ও পজিশন নেই। সকাল ৯:০০ টার সময় পাকি বাহিনীর বেলুচ রেজিমেন্টের একটি প্লাটুন দুই লাইনে আমাদের পাতানো এ্যাম্বুজের ভিতরে ঢুকে পরে। তখন আমার এ্যাম্বুজ পার্টির কমান্ডার সাহেব ফায়ার ও চার্জ করার নির্দেশ দেন। সঙ্গে সঙ্গে আমার পার্টি নিয়া ফায়ার ও চার্জ করি। উল্লেখিত অপারেশনে শত্রুপক্ষের জনবল ও হাতিয়ার বেশী থাকার দরুন আমরা সঠিকভাবে সাফল্য অর্জন করতে পারিনাই। এ্যাম্বুজ কমান্ডারের আদেশে আমরা পেছনে চলিয়া আসি। সেই যুদ্ধে পাকি বাহিনীর একজন ২য় ল্যাঃ ও ০৩ জন সৈনিক মৃত্যুবরণ করেন। অক্টোবর ১৯৭১ সকাল বেলা পাক বাহিনী কর্তৃ আমাদের ক্যাম্প আক্রমনে সকাল বেলা দুর্গাপুর হইতে রাজাকার সহ পাকি বাহিনী বারমারী ইপিআর ক্যাম্প এর মধ্য দিয়ে ভর্ণা নদী পথে আমারে মুক্তি বাহিনীর ক্যাম্প ভারতের সীমানায় দাম্ভুকা পাল আক্রশন করার জন্য যাইতেছিল। তখন আমাদের স্থানীয় কালিকাপুর গ্রামের বাসিন্দা জনাব মোঃ আবুল কাশেম আমার কোম্পানী কমান্ডার সুবেদার মেজর আজিজুল হক সাহেব কে বিষয়টি বিস্তারিত ভাবে জনানা। সঙ্গে সঙ্গে কোম্পানী কমান্ডার কাউন্টার এ্যাটাক করার আদেশ দেন। দুই পক্ষেই অনুমান ৪/৫ ঘন্টা প্রচন্ড গুলি বিনিময় হয়। অবশেষে পাকিস্তান বাহিনী ৩ ও ২ মর্টার বোমা ওকেরিয়ার রাখিয়া দুর্গাপুরের দিকে চলিয়া যায়। আমরা যৌথভাবে পাক বাহিনীকে দৌড়াইয়া দুর্গাপুরের কাছাকাছি নিয়া যাই। তখন কোম্পানী কমান্ডার আমাদিগকে পিছনে ফিরিয়া আনার জন্য আদেশ দিলে আমরা পিছনে আসা আরম্ভ করি। তখন পাক বাহিনী আবার আমাদের উপর তিন দিক হইতে ক্রসিং ফায়ার আরম্ভ করে এবং আমরা আহত অবস্থায় ফেরৎ আসিতে সক্ষম হই। ০৬/১২/১৯৭১ সালে ভারতের সেনাবাহিনীর একজন ক্যাপ্টেন ও দুইজন সৈনিক সহ আমাদের কোম্পানী কমান্ডার দুর্গাপুর থানার উত্তর পার্শ্ব রেকী করেন এবং আমাদেরকে ঐ এলাকায় ডিফেন্স নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। আমরা সকালে কোঃ কমান্ডারের আদেশে উল্লেখিত রেকীর স্থানে ডিফেন্স ন্ েএিবং সারাদিন চিহ্নিত করিয়া রাখি এবং সন্ধ্যা হওয়ার সাথে সাথেই শত্রুপক্ষ আমাদের প্রতিটি পজিশনের উপর ভিষণ ভাবে ফায়ার করে। পূর্বে আমাদের ব্রিফিং করার সময় কোঃ কামন্ডার অবগত করিয়া ছিলেন যে, ভারতীয় সেনা বাহিনী আমাদিগকে মর্টার ও এইচএমজির ফায়ার দিয়া কভার দিবেন। দুঃখের বিষয় ঐ দিন ভারতীয় বাহিনী আমাদেরকে কোন প্রকার সাহায্য করে নাই। ফলে আমরা ছত্রভঙ্গ হইয়া ডিফেন্স ছাড়িয়া চলিয়া যাইতে বাধ্য হইয়াছিলাম। ০৭/১২/১৯৭১ সালে দুর্গাপুর থানার পূর্বের রেকি করা স্থানে আমরা ভারতীয় বাহিনীসহ আবার ডিফেন্স নেই। আমাদের অবস্থানও পাক বাহিনী বুঝতে পারিয়া রাত্রে দুর্গাপুর বিজয়পুর ছাড়িয়া জারিয়া ঝানজাইল নামক স্থানে চলিয়া আসে। আমরা মুক্তি বাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী পিছু নেই। কিন্তু জারিয়া ঝানজাইল যাওয়ার পূর্বেই পাক বাহিনী জারিয়া ঝানজাইল ছাড়িয়া পূর্বধলা থানায় চলিয়া যায়। পাক বাহিনীর পিছু নিয়া পূর্বধলা থানায় গিয়া দেখি পাক বাহিনী দ্রুত পিছু হটিয়া সেখান হইতে শ্যামগঞ্জ চলিয়া গিয়াছে। অতঃপর আমরা ০৯/১২/১৯৭১ সালে রাত্র ৭ টার সময় শ্যামগঞ্জ আসি। ইতিমধ্যে পাক বাহিনী ময়মনসিংহে চলিয়া গিয়াছে। আমরা পরের দিন সকালে ৮:০০ টার দিকে শ্যামগঞ্জ হইতে ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে রওনা করি। তখন বিকট আওয়া শুনতে পাই এবং শব্দ শুনিয়া আমরা অনুভব করিয়াছি যে, ময়মনসিংহ ছাড়িয়া যাওয়ার সময় রেলসেতুতে ডিনামাইট বসাইয়া ভাঙ্গিয়া দিয়াছে। ঐ রাতেই পাক বাহিনী ময়মনসিংহ ছাড়িয়া ঢাকার উদ্দেশ্যে চলিয়া যায়। পরিশেষে আঃ কাদির আপেক্ষ করে বলেন এত কাগজপত্রাদি ও দালিলিক প্রমাণাদি থাকাস্বত্বেও আমার নাম মুক্তিযুদ্ধের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হয় নাই। আর কি হলে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় আমার নাম লিপিবদ্ধ করা হবে। আমি কি মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি নিয়ে এই স্বাধীন দেশ হতে মৃত্যুবরণ করতে পারবো না? উল্লেখ্য যে, আমার রাইফেল বাট নং- ৬১০।

ব্রেকিং নিউজঃ