| |

ত্রিশালে নদী দখলের মহোৎসব,নীতিমালা ভঙ্গ করে উচুতলা ভবন নির্মান

আপডেটঃ 7:01 pm | February 26, 2017

Ad

ত্রিশাল প্রতিনিধি: ত্রিশালের বিভিন্ন নদী দখল করে ইন্ডাষ্ট্রী, মার্কেট নির্মাণ ও ফিসারি তৈরির মহোৎসব শুরু হয়েছে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ না থাকায় উৎসবের আমেজে নদী দখল করছেন প্রভাবশালীরা। ফলে নদী ভরাট হয়ে তার আপন গতি ও নাব্যতা হারিয়ে নদীর চেহারা পাল্টে খালের আকার ধারণ করছে। প্রশাসন অজ্ঞাত কারনে এসব বিষয়টি দেখেও না দেখার মত  সুযোগ করে দিচ্ছে নদী দখলের।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রশাসনের নাকের ডগায় উপজেলা পরিষদের দেয়াল ঘেঁষে পৌরশহরের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া সুতিয়া নদীর পাড় দখল করে সুতিয়া নদীর ব্রীজ সংলগ্ন ইসমাইল প্লাজা নামে একটি বহুতল মার্কেট নির্মাণ করছে স্থানীয় প্রভাবশালী ইসমাইল হোসেন। ত্রিশাল পৌরশহরের প্রানকেন্দ্র দিয়ে বয়ে যাওয়া সুতিয়া এখন ভবনের ভিতরের খালে পরিনত হয়েছে। এ যেন নদী দখলের মহোৎসব। পৌর নীতিমালা ভঙ্গ করে প্রশাসনের চোখের সামনেই কাজ করে যাচ্ছে সংশ্লিষ্টরা। পৌরসভা বিধিমালাতে নদীর উপর ভবন নির্মানে আপত্তি থাকলেও ত্রিশাল পৌরসভা এ ব্যপারে অনুমোদন প্রদান করে ।  এছাড়াও ধানীখোলা উজান ভাটিপাড়া এলাকায় সুতিয়া নদী দখল করে কয়েক একর জমির উপর মাছের ফিসারি করেছে স্থানীয় প্রভাবশালী নাদিম, নাহিদ, আজাদ ও সোহেল মিয়া। নদীর দুইপাশে এমন ভাবে ফিসারি করা হয়েছে যে, সেখানে নদীর চেহারা পাল্টে খালের আকার ধারণ করেছে।

এ ব্যাপারে ধানীখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আছাদুল্লাহ আছাদ বলেন, সুতিয়া নদী দখল করে মাছের ফিসারি তৈরির বিষয়টি আমি খেয়াল করিনি। ঘটনা সত্য হলে প্রশাসনকে সাথে নিয়ে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।

এদিকে চেলেরঘাট খিরু নদীর ব্রীজের পূর্বপাশে আরিফ গ্রুপ কোম্পানী খিরু নদীর বিশাল একটি অংশ দখল করে সিমানা প্রাচীর নির্মাণ করেছে। সিমানা প্রাচীর নির্মাণকালে বিষয়টি স্থানীয় এলাকাবাসি তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করলে সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ হলেও পরে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় প্রাচীরের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয় বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা জানান, আরিফ গ্রুপ সিমানা প্রাচীর নির্মাণকালে তৎকালীন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভ’মি) কয়েকবার বাধাঁ প্রয়োগ করলেও আরিফ গ্রুপের লোকজন জোরপূর্বক সিমানা প্রাচীর নির্মাণ করেছে। সচেতন মহলের দাবী প্রশাসনিকভাবে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে নদী দখলরোধ সম্ভব হবে না। দখলদারদের হাত থেকে নদীগুলো রক্ষা না পেলে ইরি-বোরো আবাদে ক্ষতিগ্রস্থ হবেন কৃষকরা। এতে ভবিষ্যতে খাদ্য ঘাটতি ও শহরে জলাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে। এছাড়াও খর¯্রােতা নদীগুলো হারাবে তার রুপ ও আপন গতি।

নদী আইন অমান্যকারী ইসমাইল প্লাজার মালিক ইসমাইল হোসেন জানান, ব্যক্তি মালিকানা জায়গায় মার্কেট নির্মাণ করছি। স্থানীয় প্রশাসন বাধাঁ দিয়ে ছিল পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে কাজ করছি।

নদী দখলের বিষয়ে ইউএনও আবু জাফর রিপন জানান, ইসমাইল প্লাজা নির্মানে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাধাঁ দেয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে মার্কেটের মালিক আদালত থেকে অনুমতি নিয়ে কাজ করছে বলে জানতে পেরেছি। খোঁজ খবর নিয়ে অন্যগুলোর আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ব্রেকিং নিউজঃ