| |

ঝিনাইগাতীতে আগরবাতির শলা তুলে স্বচ্ছল হয়েছে বহু পরিবার

আপডেটঃ 11:31 pm | March 11, 2017

Ad

মো. জয়নাল আবদিন,ঝিনাইগাতী ॥ শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার সিংহভাগ লোক কৃষক, শ্রমিক ও নি¤œ আয়ের মানুষ। শ্রমিক ও নি¤œ আয়ের মানুষেরা কৃষকের কৃষি কাজে শ্রম বিক্রি করে জীবন-জীবিকা চালায়। কিন্তু বছর জুড়েই কৃষকের কৃষি কাজ থাকে না। কৃষকের কাজ না থাকলে শ্রমিক ও নি¤œ আয়ের মানুষেরা বেকার হয়ে থাকে। তাই এই শ্রমিক ও নি¤œ আয়ের মানুষেরা জীবন-জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন কাজে আত্মনিয়োগ করে জীবন পরিচালনা করছে। হাতীবান্দা ইউনিয়নের এমনি একটি গ্রামের নাম হচ্ছে ঘাগড়া কোনাপাড়া। যেখানে নি¤œ আয়ের মানুষেরা স্ব-পরিবারে জীবন-জীবিকার তাগিদে বেছে নিয়েছে আগরবাতির শলা বা কাঠি তৈরীর কাজ। ওই গ্রামের প্রায় অধিকাংশ লোকের সংসার চলে আগরবাতির কাঠি তৈরীর পেশায়। পরিবারের ছোট-বড়, ছেলে-মেয়েসহ স্কুল পড়–য়া ছাত্র/ছাত্রীরাও এ কাজে আত্মনিয়োগ করেছে। এই আয় দিয়ে তাদের পরিবার পরিজনের চলার পথ অনেকটায় সহজ করে দিয়েছে। পাল্টে দিয়েছে ঘাগড়া গ্রামসহ আশ-পাশের এলাকার অনেক নি¤œ শ্রেণীর পরিবারদের। তাদের কাজের সন্ধানের জন্য আর কোথাও যেতে হয় না। নিজেরাই তাদের শ্রম আর মেধা দিয়ে আগরবাতির কাঠি বাঁশের তৈরী করে বাড়তি আয়ের কর্মসংস্থান গড়ে তুলেছে। এখানে তৈরী আগরবাতির কাঠি বা বাশেঁর সলাকা নিয়ে দেশের অভ্যান্তরের আগরবাতি তৈরীর কোম্পানীরা নিয়ে যায়। আগরবাতি শলা বা কাঠি শ্রমিক মর্জিনা বেগম (৩৮) জানান, স্বামী শ্রম বিক্রি করে যে টাকা পায় তা দিয়ে সংসার চালানো অনেক কষ্ট হয়। তাই সংসারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে নিয়ে আসতে বেছে নেই আগরবাতির শলা তোলার কাজ। প্রতিদিন আগরবাতির শলা তুলে তা রোদে শুকিয়ে ১৫-২০ কেজি আগরবাতির শলা তুলি। প্রতি কেজি আগরবাতির শলা ১০ টাকা বিক্রি করে দেড় দুই’শ টাকা রোজগার হয়, আর স্বামীর টাকা মিলিয়ে চলে যায় আমাদের এই ছোট সংসার। ছেলে-মেয়েরাও স্কুল থেকে এসে পড়াশুনার পাশাপাশি আমার কাজে সাহায্য করে। তারাও প্রায় ৪/ কেজি করে আগরবাতির শলা তৈরী করতে পারে। আর এই টাকা দিয়ে ছেলে-মেয়ের স্কুলের খরচ ও আমার সংসার চলে যায়। আগরবাতির শলা তৈরীর মালিক ইউসুফ আলী জানান, প্রথমে আমি একা আগরবাতির শলা তৈরীর ব্যবসা শুরু করে। কিন্তু বর্তমানে আমার দেখাদেখি ওই গ্রামের আরও ১০/১২ জন এই ব্যবসায় নেমেছেন। ঢাকার বিভিন্ন বাজার ও আগরবাতি তৈরীর কোম্পানীতে এ শলা বিক্রি করে থাকি। বাঁশ কেনা থেকে শুরু করে বাঁশ কাটা ও শলা তোলাসহ যাবতীয় খরচ মিলিয়ে প্রতি কেজি শলায় আমার ব্যয় হয় প্রায় ২৫ টাকা। আর ঢাকায় নিয়ে তা বিক্রি করি ৩৩ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে। এভাবে প্রতিমাসে ২০০ থেকে ২৫০ মণ পর্যন্ত আগর বাতি’র বাঁশের শলা বা কাঠি বিক্রি করে থাকি। সমস্ত ব্যয় বাদ দিয়ে প্রতি মাসে ১৫/২০ হাজার টাকা আয় থাকে। অত্র এলাকার আগরবাতির শলা বা কাঠি তৈরীর শ্রমিকরা সরকারের নিকট দাবী, সরকারী ভাবে স্বল্প সুদে ঋণ সহায়তা প্রদান করা হয় তাহলে এই আগর ব্যবসাকে আরও বড় আকারে প্রতিষ্ঠিত করা যায়। এতে বেকার শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের পথ আরও উন্মুক্ত হবে।

ব্রেকিং নিউজঃ