| |

ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহরের প্রস্তাবিত নকশার বিকল্প প্রস্তাবে নতুন শহর গড়ার দাবি

আপডেটঃ 12:00 am | March 12, 2017

Ad

স্টাফ রিপোর্টার ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহরের প্রস্তাবিত নকশার পরিবর্তেবিকল্পপ্রস্তাবে নতুন শহর গড়ার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বসতভিটা রক্ষা কমিটি।

সংবাদ সম্মেলনে চরাঞ্চলবাসির পক্ষে ময়মনসিংহ বিভাগের প্রশাসনিক নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বসতভিটা রক্ষা কমিটিরবিকল্পপ্রস্তাব অনুযায়ী চার ইউনিয়নে সমহারে জমি অধিগ্রহণ করার দাবি পুর্নব্যক্ত করা হয়।

ময়মনসিংহের চরাঞ্চলে বসতভিটা রক্ষা কমিটির পাঁচ মাস ধরে চলমান আন্দোলনের কর্মসুচীর অংশ হিসেবে শনিবার দুপুরে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে  সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয় অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বসতভিটা রক্ষা কমিটির আহবায়ক ময়মনসিংহ মহাবিদ্যালয়ের ভাইস প্রিন্সিপাল সৈয়দ মোশাররফ হোসেন বাচ্চু।

প্রস্তাবিতএবংবিকল্পনকশা অনুযায়ী শহর গড়ার বিভিন্ন দিক উপস্থাপন করেন চরসিরতা ইউনিয়ন লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম।

সময় ময়মনসিংহ সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ফয়জুর রহমান ফকির, সিপিবির জেলা সভাপতি কমরেড অ্যাডভোকেট এমদাদুল হক মিল্লাত, মহিলা পরিষদের জেলা সভাপতি ফেরদৌস আরা মাহমুদা হেলেন, চরদুর্গাপুর গ্রামের মাওলানা ফজলুল হক, কোনাপাড়া গ্রামের নাদিম মোস্তফা, চরগোবিন্দপুর গ্রামের গোলাম কিবরিয়া, আওয়ামী লীগ নেতা ডা. হারুনুর রশিদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্বপাড়ের তিনটি ইউনিয়নের চার হাজার ৩৩৬ একর ভূমি নিয়ে ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহর বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করেছে সরকার।

বাস্তবায়িত হলে ১৭ হাজার পরিবারের ৬০ হাজার মানুষ, ২৮ হাজার বাড়িঘর, ৪৭৫টি পারিবারিক কবরস্থান, ৩০টি সরকারিবেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তিনটি হাইস্কুল, ৬টি ঈদগাহ মাঠ, পাঁচটি বাজার, ৪৭টি মসজিদ, ২৫টি মাদরাসা, চারটি মন্দির, দুটি মাজারসহ বৃক্ষরাজি ধ্বংসস্তুপে পরিণত হবে।

প্রস্তাবিত শহরে প্রায় ৬০টি সুরম্য আবাসিক ভবন, ১২/১৩টি পার্ক, ১৭/১৮টি সরকারি অফিস, /৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, একটি গলফ খেলার মাঠসহ আধুনিক স্থাপনা নির্মিত হলে গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষগুলোকে ১৯৭১ সালের মহানমুক্তিযুদ্ধে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল তারচেয়ে বেশী ক্ষতি হবার আশংকা করছে এলাকাবাসী। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় যে, বিগত /১০ মাস ধরে প্রশাসনের নির্দেশে তিনটি ইউনিয়নের সাতটি গ্রামে জমি বেচাকেনা নতুন বাড়িঘর নির্মাণ বন্ধ রয়েছে। ছেলেমেয়েদের বিয়েসাদী হচ্ছে না। উচ্ছেদের ভয়ে একাধিক বিয়ে ভেঙে গেছে। ব্যবসাবাণিজ্য সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

প্রশাসনের সাথে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে। চরাঞ্চলবাসির পক্ষ থেকে সুষ্পষ্ট বিকল্প প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

তে বলা হয়েছে ময়মনসিংহফুলপুরশেরপুরকিশোরগঞ্জ মহাসড়কের চায়নামোড় থেকে ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্বপাড়ে দুলালবাড়িরচর পর্যন্ত তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এবং এক কিলোমিটার প্রস্থ এলাকায় খাসজমিসহ পাঁচ হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করেনতুন শহরগড়া হলে জনগণের ক্ষয়ক্ষতি কিছুটা হলেও কম হবে।

বিকল্প প্রস্তাবে শহর গড়ার দাবি মেনে নিয়ে অবিলম্বে জমি কেনাবেচার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের দাবিও জানানো হয়। এব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

উল্লেখ্য, ময়মনসিংহ বিভাগের উন্নয়ন পরিকল্পনায় প্রথমে ব্রহ্মপুত্র নদের তীর ঘেঁষে এক হাজার দুইশত কুড়ি একর জমিতে নতুন শহর গড়ার নকশা প্রণয়ন করা হয়।

পরবর্তীতে ওই নকশা বাতিল করে নতুন নকশা অনুযায়ী চার হাজার ৩৬৬ একর ভূমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এরপর থেকেই চরাঞ্চলের মানুষ উচ্ছেদের আশঙ্কায় বসতভিটা রক্ষার দাবিতে বিগত পাঁচ মাস ধরে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ স্মারকলিপি প্রদানসহ লাগাতার কর্মসুচী পালন করে আসছেন।

 

ব্রেকিং নিউজঃ