| |

বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলায় স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে মুক্তিযুদ্ধের মুখপত্র হিসেবে “জাগ্রত বাংলা ও রনাঙ্গন” প্রকাশিত হয়

আপডেটঃ 12:51 pm | March 20, 2017

Ad

প্রদীপ ভৌমিক ॥ ১৯৭১ সনে মুক্তিযুদ্ধের সময় বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলায় মুক্তিযোদ্ধাদের প্রেরনা যোগানোর জন্য ২টি পত্রিকা প্রকাশিত হতো। ১টি ভালুকার মল্লিকবাড়ী হতে “জাগ্রত বাংলা” অপরটি টাঙ্গাইলের সখিপুর ও কচুয়ার মাঝামাঝি নান্দারপুর নামকস্থান থেকে “রনাঙ্গন”।

আজকে ভালুকার মল্লিকবাড়ী থেকে প্রকাশিত “জাগ্রত বাংলা”র নমুনা কপি আগামী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য প্রকাশ করা হলো।

“জাগ্রত বাংলা ও রনাঙ্গন” পত্রিকা ২টি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সাথে লেখনির মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ করেছিল বিধায় আমরা পত্রিকা ২টির সম্পাদক, প্রকাশক, যারা লেখনির মাধ্যমে পত্রিকা ২টি প্রকাশনার ব্যাপারে অংশ গ্রহন করেছে তাদেরকে জানাই রক্তিম শুভেচ্ছা। প্রসঙ্গত উল্লেখ থাকে যে, “জাগ্রত বাংলা” পত্রিকাটি প্রথমে হাতে লিখে প্রকাশ করা হতো। পরবর্তীতে সাইক্লোস্টাইল মেশিনে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শত্র“ কবলিত ডাকাতিয়া থেকে প্রকাশ করা হতো।

এর সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন বীরমুক্তিযোদ্ধা এস এ কালাম। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে পত্রিকাটি প্রকাশিত হতো বলে জাগ্রত বাংলা পত্রিকাটিকে ময়মনসিংহের প্রথম স্থানীয় পত্রিকা বলে মনে করি।

প্রসঙ্গত উল্লেখ থাকে যে, যারা নিয়মিত ও অনিয়মিত ভাবে এই পত্রিকাটিতে কলম দিয়ে প্রকাশের ব্যাপারে সহযোগিতা করেছেন তাদের নামের তালিকা যা আমরা জানতে পেরেছি তা উল্লেখ করা হলো। ১. আব্দুল খালেক বিএসসি, ২. হযরত আলী বিএ, ৩ এবিএম আমজাদ হোসেন, ৪. মতিউর রহমান এসএসি, ৫. আজহার আলী খান, ৬. আব্দুর রাজ্জাক বিএ, ৭. মো: শামসুল হক, ৮. এস এ উমর আলী, ৯. আবু হানিফ, ১০. মো: রহমত আলী, ১১. আব্দুল বারী বিএ, ১২. মো: মোকতাদির বিএ, ১৩. আবু হানিফ, ১৪. মো: মোজাম্মেল হক, ১৫. এনামুল হক সহ আরো অনেকেই। এই পত্রিকাটি প্রকাশের ব্যাপারে সর্বপ্রথম যে সাহায্য ও সহযোগিতা করেছে ও পত্রিকাটিতে কাটুন ও ব্যাঙ্গাত্বক কাটুন একেঁছে তার নাম মাসুদ।

গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম “জাগ্রত বাংলা” পত্রিকাকে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বর্বরপাক বাহিনীর অধিকৃত এলাকার অভ্যন্তর হতে মুক্তিযুদ্ধে বিরাট ভুমিকা পালন করার জন্য শুভেচ্ছাপত্র প্রদান করেন। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করতে চাই, “জাগ্রত বাংলা” পত্রিকা বিক্রি করতো আ: সোবান নামের এক যুবক।

কাতলামারী বাজারে পাঞ্জাবী সৈন্যরা তার কাছ থেকে জাগ্রত বাংলার কপি পাওয়ায় তাকে গুলি করে হত্যা করে। সোবান হলো প্রথম ময়মনসিংহের সংবাদপত্র সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তি যাকে পাঞ্জাবীরা হত্যা করলো।

ব্রেকিং নিউজঃ