| |

নারী শ্রমীকদের ন্যায্য মজুরীর নির্ধারিত বেতন ভাতার দাবিতে শম্ভুগঞ্জে মানববন্ধন ঃ রাস্তা অবরোধ

আপডেটঃ 8:30 pm | March 20, 2017

Ad

হাবিবুর রহমান হাবিব ঃ গতকাল সোমবার সকাল ৮টায় ময়মনসিংহ সদর শম্ভুগঞ্জ ইভারেস্ট্র প্রোডাকশন রাগ লিমিটেড কার্পেট মিল এর নারী শ্রমীকেরা তাদের ন্যায্য মজুরী ও নির্ধারিত মাসিক বেতনের দাবীতে মিলের সামনে মানববন্ধন এবং ময়মনসিংহ টু নেত্রকোণা রাস্তা ৩ঘন্টা অবরোধ রাখে।

স্থানীয় ভাবে জানা যায়, রাগ লিমিটেড কার্পেট মিল এর নারী শ্রমীকেরা তাদের ন্যায্য মজুরী ও নির্ধারিত মাসিক বেতনের দাবী জানিয়ে আসছে। কিন্তু মিল কর্তৃপক্ষ তাদের কোন দাবি না মানায় গত ১৩ মার্চ আন্দোলনে নামে তখন স্থানীয় চেয়ারম্যান, গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং পুলিশ তাদের দাবী পূরণের আশ্বাস দিলে তারা আন্দোলন স্থগিত করে নেয়।

মিলের নারী শ্রমীক লিমা, মিনা, লাকী সহ অনেকে সাংবাদিকদের জানান, আমরা কয়েক বছর ধরে আমাদের বেতন বাড়ানোর কথা বলে আসছি কিন্তুু বেতন বাড়ানো হচ্ছে না, এক সময় এই মিলে ১২ শত শ্রমিক কাজ করতো এদের মধ্যে বিগত সময়ে যারাই বেতন বাড়ানোর দাবি জানিয়ে ছিল মিল কর্তৃপক্ষ তাদেরকে ধীরে ধীরে মিল থেকে বের করে দেয়, এখন মাত্র ২৯০জন মহিলা শ্রমিক প্রোডাকশনে কাজ করছে, যাদের কাজের মজুরি হিসাবে মাত্র ৫০০/৭০০/১০০০/১২০০/১৫০০শত টাক দেওয়া হয়, আবার যদি কোন শ্রমিক ১দিন অনুপস্থিত থাকে তাহলে তার মাসিক মজুরি থেকে ৫শত টাকা কেটে নেওয়া হয়।

এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করলেই সামান্য টাকার চাকুরীটুকুও হারাতে হয়। গ্রামে থেকে সামন্য টাকার চাকুরী হাড়ানোর ভয়ে অনেকে নীরবে চোখের জল ফেলে। এই প্রতিষ্ঠানটির মালিক তুরস্ক রাষ্ট্রের বাসিন্দা। তিনি তুরস্ক দেশে বসবাস করেন।

এই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছেন তুরস্কের নিয়োজিত দুই কর্মকর্তা (১) মোস্তফা ও (২) শাহ আলী নামে দুই ব্যক্তি। হিসাব রক্ষক হিসেবে নিয়োজিত আছেন বাংলাদেশী ইকবাল হোসেন।

আর মহিলাদের মধ্যে লিডার হিসেবে রয়েছে হাফিজা, নাজমা, সুলতানা দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাদের পছন্দনীয় আরও ১৫/২০ মালিক কর্তৃপক্ষের পছন্দনীয় শ্রমিক। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাদের যোগসাজনে শ্রমিক বেতন ভাতা বৃদ্ধি করছে না বলে অভিযোগ উঠছে। শ্রমিকরা জানান, হিসাব রক্ষক ইকবালের নেতৃত্বে বেতন ভাতা হয়ে থাকে।
এই মিলের কেরানি নুরজাহান ও নাজমা কর্র্তৃপক্ষের সাথে হাত মিলিয়ে ওরা বেশি টাকা বেতন নিয়ে সাধারণ শ্রমীকদের সাথে খারাপ, অসামাজিক আচরণ করে, ওদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই তার চাকরী আর থাকেনা।

এই ব্যাপারে মিলের ম্যানাজার তুরস্কবাসী হালেপকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বাংলায় জানান, আমাদের দেশে বর্তমানে কার্পেট কম চলছে, তাই এখানে কাজ কম হচ্ছে, এজন্য মহিলারা কাজ করে কম টাকা পাচ্ছে, তাদের টাকা বাড়াতে আমরা চেষ্টা করছি।

সকাল ৮টা থেকে নারী শ্রমিকরা রাস্তা অবরোধ করলে প্রায় ১১টার সময় কোতুয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুল ইসলাম ও এসআই পলাশ সঙ্গী ফোর্সসহ স্থানীয়দের সহায়তায় শ্রমিকদের দাবী পূরনের আশ্বাস দিয়ে রাস্তা যানজট মুক্ত করে। এ সময় দীর্ঘ ৩ঘন্টা রাস্তা অবরোধ থাকায় নেত্রকোনা টু ময়মনসিংহ সড়কে বিশাল যানজন সৃষ্টি হয়।

ব্রেকিং নিউজঃ