| |

জামালপুরের ব্রহ্মপুত্র নদে অষ্টমী স্নানোৎসবে পুণ্যার্থীদের ঢল

আপডেটঃ 12:04 am | April 05, 2017

Ad

মোঃ রিয়াজুর রহমান লাভলু ॥ জামালপুরে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের পূণ্য সলিলে অবগাহন করে হিন্দু পুণ্যার্থীরা গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত অষ্টমী স্নান করেছে। জামালপুর-শেরপুর পরিত্যাক্ত ফেরিঘাট সংলগ্ন স্থানে ব্রহ্মপুত্র নদের দক্ষিণ প্রান্তে হাজার হাজার হিন্দু পুণ্যার্থী নারী-পুরুষ, আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা এ অষ্টমী স্নানে অংশগ্রহণ করেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, অষ্টমী স্নান করতে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও জামালপুর ও শেরপুর জেলার পুণ্যার্থীসহ সারা দেশ থেকে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ লক্ষাধিক পুণ্যার্থীর ঢল নামে ব্রহ্মপুত্র নদে। পুণ্যার্থীদের নিজ নিজ ইচ্ছা অনুযায়ী ফুল, বেলপাতা, ডাব, ধান, দূর্বা দিয়ে অর্চণা ও স্নান করতে দেখা যায়।

ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে বালু উত্তোলনের কারণে অসংখ্য নালার সৃষ্টি হওয়ায় পুণ্যার্থীদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। এছাড়া ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে আলাদা আলাদা কোনো স্নান ঘাট নির্মাণ না করায় পুণ্যার্থীদের নদে নেমে স্নান করতে এবং অন্যান্য পূজার্চণা করতেও দুর্ভোগে পড়তে হয়। স্নান সেরে নারী পুণ্যার্থীদের কাপড় বদলানোর জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে মাত্র ছয়টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।

এতে করে হাজার হাজার নারী পুণ্যার্থীদের বেশ বিড়ম্বনায় ও বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। পুণ্যার্থীরা ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে অস্থায়ী ভিত্তিতে কয়েকটি ঘাট নির্মাণ ও নারী পুণ্যার্থীদের জন্য অস্থায়ী ঘর বা ছাউনি নির্মাণের দাবি জানান। শেরপুরের গড়জরিপা থেকে আসা পুণ্যার্থী কাকন রানী কর (৪৫) বললেন, এখানে কাপড় বদলানোর জন্য আরও ঘর করলে ভালো হতো।

ঢাকায় হাইকোর্টের চাকরিজীবী জগদীশ দাস বললেন, এখানে এসে বেশ ভালো লাগলো। নারী পুণ্যার্থীদের কথা বিবেচনা করে স্থানীয় প্রশাসনের আগে থেকেই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিৎ ছিল। টাঙ্গাইলের সফিপুর থেকে আসা পরেশ চন্দ্র কর্মকার (৬০) বললেন, আমি যখন ছোট ছিলাম, পাকিস্তান আমলে আমার বাবার সাথে আসছিলাম।

অনেক দিন পর এবার এসে দেখলাম এখানে তো অনেক মানুষ আসে। ব্রহ্মপুত্র নদের পারে যেন ভক্তকুলের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। তিনিও নারী পুণ্যার্থীদের জন্য সুন্দর পরিবেশ করে দেওয়ার কথা বললেন।

অষ্টমীর স্নান এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ পরিদর্শক সুজাত আলী বললেন, পুলিশ সদস্যরা সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। এখানে নিরাপত্তাজনিত কোনো সমস্যা নেই। তবে এখানে নারীদের কাপড় বদলানোর জন্য আরও বেশি বেশি অস্থায়ী ঘর তুলে দেওয়া উচিত ছিল।

দয়াময়ী মন্দির পরিচালনা পরিষদের সদস্য সুবল চন্দ্র দাস এ প্রতিবেদককে বলেন, অষ্টমীর স্নান শেষে ভক্তরা জামালপুর দয়াময়ী মন্দিরে মানত হিসেবে পাঠাবলি এবং জামালপুর রাধামোহন জিউ মন্দিরে বাসন্তী পূজা অর্চণা করেন। অষ্টমী স্নান উপলক্ষে সোমবার রাতে দূরদুরান্ত থেকে আসা এবং স্থানীয় পুণ্যার্থীদের মাঝে প্রসাদ হিসেবে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। দয়াময়ী মন্দির এলাকাজুড়ে বসেছে অষ্টমীর মেলা।

বাসন্তী পূজা ও মেলা চলবে শুক্রবার পর্যন্ত। জামালপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র এবং অষ্টমীর স্নান, পূজা ও মেলা কমিটির সহ সভাপতি রাজিব সিংহ সাহা বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদের পাড় থেকে বালু উত্তোলনের কারণে অসংখ্য নালার মতো হয়ে গেছে। এ কারণে পুণ্যার্থীদের যাতায়াতে এবং জলে নামতে সমস্যা হচ্ছে।

আগামীতে প্রয়োজনে নালাগুলো সমতল করে অস্থায়ী স্নান ঘাট স্থাপনসহ নারী পুণ্যার্থীদের জন্য আরও বেশি করে অস্থায়ী ঘর স্থাপন করে দেওয়া হবে।

ব্রেকিং নিউজঃ