| |

ময়মনসিংহ র‌্যাব ১৪ এর অভিযানে পতিতালয় হতে অপহৃত কিশোরী উদ্ধার

আপডেটঃ 12:25 am | April 05, 2017

Ad

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ॥ গত ৮ মার্চ‘১৭ দুপুর আনুমানিক ২টায় মোসাঃ শারমিন আক্তার (সূর্য) (১৬), পিতা-মোঃ সুলতান শেখ, সাং-আইগবেড়া, থানাঃ শাহজাদপুর, জেলাঃ সিরাজগঞ্জ বর্তমান ঠিকানা সাং- তৈয়বপুর, জিরাবো কলেজ রোড, থানাঃ আশুলিয়া, জেলাঃ ঢাকা তার কর্মস্থল আশুলিয়া ধানাধীন কিডি মেলামাইন নামক ফ্যাক্টরী হতে ছুটি নিয়ে বাসার উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় জিরাবো বাজারে চালের দোকানে যায়। দোকানদার না থাকায় সে কিছু সময় অপেক্ষা করে।

এ সময় একজন অপরিচিত পুরুষ বয়স (২৩/২৪) তার কাছে এসে নাম জিজ্ঞাসা করিলে সে তার নাম শুভ, পিতা-দুলাল, এবং তার বাড়ী নোয়াখালী জেলায় বলে পরিচয় দেয়। কথোপকথনের এক পর্যায়ে ভিকটিম শারমিন আক্তারকে দেখতে তার মামাতো বোনের মতো মনে হয় বলে জানায় এবং মোবাইল নম্বর নিয়ে নেয়। অতঃপর শারমিন আক্তার দোকান থেকে চাল নিয়ে তার বাসায় চলে যায়।

পরবর্তীতে বিকাল অনুমানিক ১৫৩০ ঘটিকায় শুভ তাকে ফোন দিয়ে জিরাবো বাজারে বর্ণিত চালের দোকানে আসতে বলে। ভিকটিম তার কথামত চালের দোকানে যেতে অস¦ীকৃতি জানালে শুভ নামের ব্যক্তি তাকে তার মামাতো বোনের বিউটি পার্লারে বেশি বেতনে কাজ দিবে বলে এবং বিয়ে করার প্রলোভন দেখিয়ে ফুসলিয়ে সেখানে নিয়ে যায়।

ভিকটিম জিরাবো বাজারে চালের দোকানে যাওয়ার পর জনৈক শুভ নামক ব্যক্তি সেখান থেকে বাসে করে উত্তরা বাস ষ্ট্যান্ডে যায় এবং পার্শ্ববর্তী একটি রেষ্টুরেন্টে নিয়ে নাস্তা খাওয়ায়। নাস্তার সাথে নেশা জাতীয় দ্রব্য খাওয়ানোর ফলে ভিকটিম অচেতন হয়ে পড়লে, শুভ ভিকটিমকে উত্তরার স্থানীয় একটি হোটেলে নিয়ে যায় এবং তথায় রাত্রি যাপন করে।

পরদিন ০৯/০৩/২০১৭ তারিখে সকাল আনুমানিক ০৭৩০ ঘটিকায় হোটেল থেকে বেরিয়ে শুভ ভিকটিমকে নিয়ে তার এক মামাতো বোনের বাসায় নিয়ে যাবে বলে উত্তরা বাস ষ্ট্যান্ড হতে ময়মনসিংহগামী একটি বাসে উঠে। সময় আনুমানিক ১৩০০ ঘটিকায় ময়মনসিংহ বাস ষ্ট্যান্ডে পৌঁছায় এবং বাস হতে নেমে রিক্সা করে গাংগীনার পাড় নামক স্থানে যায়।

সেখানে শুভ ফোন করে একজন মহিলাকে আসতে বলে। পরবর্তীতে উক্ত মহিলা রিক্সার কাছে আসলে শুভ ভিকটিমকে তার শিল্পি আন্টি (৪২) বলে পরিচয় করিয়ে দেয় এবং তার সাথে বাসায় যেতে বলে । শুভ তার সাথে পরে দেখা করবে বলে চলে যায়। শিল্পি নামের মহিলাটি ভিকটিমকে ময়মনসিংহ গাংগীনার পাড়স্থ পতিতালয়ে নিয়ে যায় এবং সেখানে একটি কক্ষে আটক করে রাখে।

ভিকটিম শারমিন আক্তার বাড়ী যাওয়ার জন্য কান্না কাটি করলে পতিতালয়ের মিতা নামে একজন মহিলা তাকে মারধর করে এবং জোর করে দেহ ব্যবসায় লিপ্ত করে। একদিন পর সেখানে খদ্দের হিসেবে যাওয়া জনৈক রনি নামে এক যুবকের সাথে ভিকটিমের পরিচয় হয় এবং তাকে তার পরিবারের নিকট ফিরে যাওয়ার সহায়তা চায় এবং ভিকটিম তার ভাই এর মোবাইল ফোন নম্বর দেয়।

রনি ভিকটিমের ভাই এর মোবাইলে যোগাযোগ করে ভিকটিমকে উদ্ধার করার জন্য বলে। পরবর্তীতে ভিকটিমের পিতা মোঃ সুলতান শেখ মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি গত ২৫/০৩/২০১৭ তারিখে আশুলিয়া থানায় জানালে উক্ত বিষয়ে আশুলিয়া থানার জিডি নং- ১৭৪৫ তারিখ ২৫/০৩/২০১৭ ইং মূলে সাধারণ ডায়েরী ভূক্ত করা হয়।

অতঃপর ভিকটিম এর পিতা-মোঃ সুলতান শেখ মেয়ে উদ্ধারের জন্য থানার জিডি কপিসহ র‌্যাব-১৪, সিপিএসসি, আকুয়া বাইপাস, ময়মনসিংহ ক্যাম্পে আবেদন করেন। উক্ত আবেদনের প্রেক্ষিতে র‌্যাব-১৪, সিপিএসসি, আকুয়া বাইপাস, ময়মনসিংহ ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল লেঃ কমান্ডার এ এন এম ইফতেখার রাকিব, বিএন এবং এএসপি জুয়েল চাকমা এর নেতৃত্বে¡ ময়মনসিংহ জেলার কোতোয়ালী মডেল থানাধীন গাংগীনার পাড়স্থ পতিতালয় হতে ভিকটিম মোসাঃ শারমিন আক্তার (সূর্য) (১৬) উদ্ধার করেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, জনৈক শুভ একইভাবে আশুলিয়া এলাকা থেকে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীদের পতিতালয়ে বিক্রি করে দেয়। জনৈক শুভ সংঘবদ্ধ নারী পাচারকারী/নারী অপহরনকারী চক্রের সদস্য বলে জানা যায়। অপরাধী শুভ সহ নারী পাচারকারী/অপহরনকারী চক্রকে আটক করার জন্য আভিযানিক কার্যক্রম চলমান আছে।

এছাড়াও ভিকটিম মোসাঃ শারমিন আক্তার (সূর্য) (১৬), কে আশুলিয়া থানার জিডি মূলে কোতোয়ালী মডেল থানা, ময়মনসিংহে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ব্রেকিং নিউজঃ