| |

ভালুকায় মেজর শফিকুলের ঔষধী কৃষি বাগান অনুপ্রাণিত অনেকেই

আপডেটঃ 9:53 pm | April 10, 2017

Ad

শেখ আজমল হুদা মাদানী ভালুকা প্রতিনিধি: বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর গুরুত্বপুর্ণ পদে দেশ রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত সমাসীন থেকেও গ্রাম মাটিকে আকড়ে ধরে ভালুকার আঙ্গারগাড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে গড়ে তুলেছেন নানা প্রজাতির ফলদ ও ঔষধি বৃক্ষের কৃষি বাগান। পাড়াগাঁয়ের নির্মল বাতাস আর সবুজ শ্যামলিমায় কেবলই যাকে হাতছানি দেয় তিনি হলেন আঙ্গারগাড়া বাড়ির সামনের প্রায় দুই একর জমিতে আমরোপালী জাতের আম বাগান সহ প্রায় ৬০ প্রজাতির দেশী বিদেশী গাছ লাগিয়ে কৃষি বাগান করেছেন।

ছুটির ফাঁকে বাড়ি এসে নিজেই লেগেযান গাছের পরিচর্যায়। দেখা যায় সদ্য মুকুল ফুটা আমরোপালী আম বাগান পরিচর্যা করছেন মেজর শফিকুল ইসলাম। তার বর্তমান কর্মস্থল ঢাকা সেনানিবাস। কৃষি বাগান করার পেছনে তিনি তার ইচ্ছা ও দীর্ঘ সময়ের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।

ছাত্র জীবন থেকে কৃষির প্রতি বিশেষ করে বৃক্ষ রোপন ও পরিচর্যায় তিনি সকলের প্রিয়ভাজন ছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৮৬ সালে তিনি বাংলাদেশ সেনা বাহিনীতে যোগ দেন। প্রশিক্ষন শেষে ১৯৮৮ সালে কমিশন প্রাপ্ত হন।

তার পিতামহ আনছার আলী সরকার ও মাতামহ ইনছান আলী সরকারের বিরল প্রজাতির ফলদ ও ঔষধি বৃক্ষের বাগান ছিল। তাদের অনুপ্রেরণাতেই তিনি বিরল প্রজাতির দেশী বিদেশী বৃক্ষের চারা সংগ্রহের নেশায় মেতে উঠেন। আর বাড়ির আঙ্গিনা ও চার পাশে রোপন করেন দেশী বিদেশী নানা জাতের মূল্যবান গাছ পালা।

গত কয়েক বছর ধরে প্রায় দুই একর জমিতে বেড়া দিয়ে বিভিন্ন জাতের আম সহ ৬০ প্রজাতির গাছের কৃষি বাগান গড়ে তুলেছেন। চারা কেনা ও বেড়া দেয়া বাবদ তিনি দেড় লাখ টাকার মত বিনিয়োগ করেছেন বাগানটিতে। দুই বছর যাবৎ আমরোপালী গাছে আম আসছে। এ বছরও প্রতিটি গাছে মুকুল এসেছে। আমরোপালী সুস্বাদু হাসবিহিন মিষ্টি আম।

ছোট ছোট গাছে ছোট লম্বাকৃতির আম ধরে।
তিনি কর্মস্থলে থাকা কালীন সময় বাড়িতে মা আলহাজ সুফিয়া হক ও ছোট ভাই রফিকুল ইসলাম নান্নু কৃষি বাগানটির দেখাশোনা করে থাকেন। এক এক করে প্রতিটি গাছের সাথে নাম ও গুনাগুনের পরিচয় করালেন তিনি। ছোট্র একটি গাছে দুটি মাত্র ফল ধরেছে। ফলটির নাম মিশরীয় ডুমুর যার আরবীয় নাম ত্যীন। তিনি জানান পবিত্র কোরআন শরীফে উল্লেখিত ফলের নামের মধ্যে এটিও একটি ফল।

পাশেই আফ্রিকান আতা বা সাওয়ার সফট এটি টক ফল ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসেবে ব্যবহারী যা ১৫শ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়। আলু বোখারা বিরানি রান্নায় ব্যবহার হয়। এবুকাডো পাকলে পেষ্টের মত হয় হোটেল রেস্তোরায় সালাদ হিসেবে মুখ রোচক।

এছারা বাগানে রয়েছে রাম বোটান, জয়ফল, তুতফল, শাওল, জাবাতি কাবা, মেংগেষ্টিন, কোশিও নাট, বিলম্বি, আতাফল, বারি মালট, থাই মালটা, তৈশর,  ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ব বিদ্যালয় কর্তৃক উদ্ভাবিত মিষ্টি জলপাই, লবঙ্গ, থাই সরিষা, ফলসা, জামাল ফল, জামরুল, বার মশলা, ম্যান্ডারিন বা চায়না কমলা, বারি বের, বহেরা, হরিতকি, আমলকি, ত্রিফলা, দেশী ডালিম, দেশী গাব, কারিপাতা, পলিমার পেয়ারা, কাজি পেয়ারা, দেশী পেয়ারা, মিষ্টি কামরঙ্গা, টক কামরাঙ্গা, নাটোরের মাল্টা, থাই জাম্বুরা, থাই সফেদা, দেশী সফেদা, কাউফল, বেদেনা, ষ্টার আপেল, অরবরই, আশফল বা কাঠলিচু , গোলাপজাম, বারি পেয়ারা, কদবেল, নাগপুরি কমলা, বক্স বাদাম, বার মাসি সজনে, চেরিফল ইত্যাদি। তার হাতে রোয়া বাড়ির সামনে উঠানে আফ্রিকান জাতের দুটি পাম গাছ পাশা পাশি দাড়িয়ে রয়েছে।

শুধু এসবই নয় তার লাগানো সেগুন গাছ বিক্রি করে ৩০ লাখ টাকা উপার্জন হয়েছে। বাড়ি আসলে এলাকার বেকার যুবকদেরকে ফলদ, ঔষধি ও কৃষি বাগান করতে তিনি উৎসাহিত করে থাকেন। শত ব্যস্ততার পরও ইচ্ছা থাকলে একজন মানুষ কাজের ফাকে অবসর মুহূর্তে নির্ধারিত পেশার বাইরেও সৃজনশীল কিছু করতে পারেন। তার উজ্জল দৃষ্টান্ত দেখিয়েছেন কৃষি কাজের সাথে সম্পৃক্ত থেকে সেনা কর্মকর্তা মেজর শফিকুল ইসলাম।

২০০১ সালে সি এরা লিউনে এক বছর ও ২০১০ সালে আইবরিকোষ্টে এক ছর জাতিসংঘ মিশনে যোগ দেন। ওই সময় তিনি কিছু বিদেশী গাছের চারা  এনেছিলেন যার মধ্যে কিছু আবহাওয়া জনিত কারনে নষ্ট হয়ে গেছে।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন বোর্ডের পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে তিনি বাগানটিকে ভবিষ্যতে আরও উপযোগী করার প্রচেষ্টা করবেন। গাছ নিয়ে তিনি প্রচুর লেখাপড়া করে থাকেন। বহু গাছের বৈজ্ঞানিক নাম সহ গুনাগুন সম্পর্কে তিনি পরিচিত।কর্মজীবন থেকে অবসর নিয়ে গ্রামে এসে এই কৃষি বাগানটির পরিচর্যা করে সমাজ ও দেশের মানুষকে নতুন কিছু দিতে পারবেন বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয়ী।

ব্রেকিং নিউজঃ