| |

ভালুকায় পূজামন্ডবে বরাদ্দকৃত টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

আপডেটঃ 9:59 pm | April 18, 2017

Ad

শেখ আজমল হুদা মাদানী ভালুকা প্রতিনিধি: ভালুকা পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন পূজামন্ডবের সরকারীভাবে বরাদ্দকৃত টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পূজা উৎযাপন পরিষদ ভালুকা শাখার সহসভাপতি বাদি হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
লিখিত অভিযোগে জানা যায়, ভালুকা পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৫৮ টি পূজামন্ডব রয়েছে। এসব পূজামন্ডবে প্রতিবছর দূর্গাপূজা উপলক্ষ্যে সরকারীভাবে টাকা বা খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেয়া হয়।

প্রায় প্রতিবছরই দু’চারটা মন্ডবের বরাদ্দকৃত টাকা পূজা উৎযাপন পরিষদ কমিটি ভালুকা শাখার সভাপতি মলয় নন্দী ওরফে মানিক ও তার সহযোগী টুটুল মন্ডল ভূয়া স্বাক্ষরে উত্তোলন করে আত্মসাত করে আসছে।

ভালুকা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড জীবন বল্লবের বাড়ির পূজামন্ডব তালিকা নম্বর-৬/১৬, কাচিনা ছাতিয়ারচালা পূজামন্ডব তালিকা নম্বর ৪৮, মল্লিকবাড়ি উত্তর নয়নপুর পূজামন্ডব তালিকা নম্বর ৪৭, ডাকাতিয়ার নগর মন্ডলের বাড়ি পূজামন্ডব তালিকা নম্বর ৪৯, হবিরবাড়ি সিডস্টোরবাজার নপূজামন্ডব তালিকা নম্বর ৫২ ও ধীতপুর নয়াভিটা পূজামন্ডব তালিকা নম্বর ২০।

এসব মন্ডবের প্রতিটিতে ২০১৬ সালে বরাদ্দকৃত ১৪ হাজার টাকা আত্মসাত করা হয়েছে বলে অভিযোগে প্রকাশ। তাছাড়া সভাপতি মলয় নন্দী ২০১৬ সালে ৫৮ টি পূজা মন্ডব থেকে ২০০ টাকা করে চাঁদা উত্তোলন করে তা আত্মসাত করেছেন।

গত ৯ বছর ধরে তিনি সবক’টি পূজামন্ডব থেকে এভাবে চাঁদা উত্তোলন করে আত্মসাত করে আসছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগে আরো জানা যায়, পূজা উৎযাপন পরিষদের মেয়াদ দ্ইু বছরের জন্য করা হলেও দীর্ঘ ৯ বছর ধরে তিনি নির্বাচন না দিয়ে কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের জীবন বল্লবের পূজা মন্ডবে বরাদ্দের ব্যাপারে মন্ডবের দায়িত্বে থাকা বিষ্নু বাবু জানান, আমাদের পূজা ছিল মানসিক এবং তা নিজ খরচে করা হয়েছে। তবে কমিটির সভাপতিকে বলেছিলাম ওই টাকাটা শ^শানের উন্নয়ন কাজে দেয়ার জন্য কিন্তু তিনি আজো পর্যন্ত তা দেননি।
অভিযুক্ত পূজা উৎযাপন পরিষদ কমিটি ভালুকা শাখার সভাপতি মলয় নন্দী ওরফে মানিক পূজামন্ডবের টাকা আত্মসাতের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে এটা একটি ষড়যন্ত্র।
পূজা উৎযাপন পরিষদ কমিটি ভালুকা শাখার সাধারণ সম্পাদক বীরেন রায় জানেন, ২০০ টাকা উত্তোলন করা হয়, শুধু কমিটির বিভিন্ন মিটিংয়ে খরচ করা জন্য। তাছাড়া পূজামন্ডবে বরাদ্দকৃত টাকা আত্মসাতের বিষয়টি আমার জানা নেই।
এসব আত্মসাত বিষয়ে বাংলাদেশ পূজা উৎযাপন পরিষদ ভালুকা শাখার সহসভাপতি শ্রী অমূল্য মোহন সরকার বাদি হয়ে উপজেলা নির্বাহী কমকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: মনিরুল হক ফারুক রেজা জানান, পূজামন্ডবের টাকা আত্মসাত সংক্রান্ত ইউএনও স্যারের দেয়া একটি অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোরারজী দেশাই বর্মণ (নবযোগদানকারী) জানান, খোঁজ নিয়ে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

ব্রেকিং নিউজঃ