| |

হালুয়াঘাটে পাহাড়ী ঢল আর ধানের ছিটায় কৃষক-শ্রমিকের কান্না যেন থামছে না

আপডেটঃ 8:23 pm | April 25, 2017

Ad

আব্দুল হক লিটন হালুয়াঘাট: ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে ধানের ফসলী মাঠ পরিদর্শনে গিয়ে জানা যায়, কয়েক দিনের টানা বষর্নে পাহাড়ী ঢলে ঞ্চলে ১৩শত হেক্টর বোরো আবাদী জমি পানির নিচে, উঁচু জমিতে ধানে ছিটা থাকায় কৃষক-শ্রমিকের কান্না যেন কিছুতেই থামছে না।

এসব নিম্নাঞ্চলে যেখানে কৃষকের কয়েক দিন পরেই সোনালি ফসল ঘরে তোলার কথা ছিল আর এ স্বপ্ন যেন চোখের সামনেই ঘুরেবালি। পাহাড়ী ঢল আর ধানে ছিটায়  কয়েক হাজার হেক্টর জমির ফসল ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে বলে জানান ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের পাশাপাশি ধান কর্তনে শ্রমিকদের মাঝেও হতাশা বিরাজ করছে। উপজেলার ধারা বাজারে প্রতিদিন বসে শ্রমিকের হাটঁ। কৃষকের ধান কর্তনে মজুরী পাওয়ার আশায় বিভিন্ন গ্রাম থেকে অটোরিক্সা, টেম্পু ও ভটবটি দিয়ে হাজারও শ্রমিক এসে একসাথে জড়ো হয় এই হাটে।

তারা বাশেঁর তৈরী একখানা বারবাশঁ, কাঁচি ও রশ্মি নিয়ে সকাল থেকে দুপুর পযর্ন্ত অপেক্ষা করছে কৃষকের সন্ধানে। ধান কর্তনে দু’একজন শ্রমিক কৃষকের সন্ধান পেলেও মজুরী নিয়ে চলে দর কষাকষি।

তসলিম নামে এক শ্রমিক জানায়, প্রতিদিন সকালে আমরা দল বেধেঁ কাজের সন্ধানে বেড়িয়ে যাই হালুয়াঘাট ধারা বাজারে। কিন্তু কৃষকের মাঠে ধান না থাকায় আমরা কাজ করতে পারছিনা। কাজ না পেলে  বাড়িতে স্ত্রী-সন্তান না খেয়ে থাকতে হয়।এই কান্না শুধু কৃষকের নয় আমাদেরও।

হাটেঁ উপস্থিত কৃষক আব্দুল মান্নান এ প্রতিবেদককে জানান, প্রথমে সবুজ ধানের তে দেখে তাদের মুখে হাসির ঝিলিক দেখা দিলেও ধানের থোর হওয়ার পূর্ব মুহুর্তে মড়ক দেখা দেয়। পরে কয়েক দিনের টানা বর্ষনে পাহাড়ী ঢল আর এদিকে ধানে ছিটা থাকায় আমরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত, তাই শ্রমিকের মূল্য দিতে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। সঠিক ফলন উৎপাদন না হয়ে এক দিকে যেমন আমাদের সর্বনাশ হয়েছে অপর দিকে জাতীয় অর্থনীতিতেও এর প্রভাব ফেলবে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুলতান আহমেদ আমাদের সময়কে জানান, ধানের দাম ভালো থাকায় উপজেলায় মোট ২১ হাজার হেক্টর বোরো আবাদ হয়েছে। তার মধ্যে অতিবর্ষনে পাহাড়ী ঢলে এ পর্যন্ত ১৩শত হেক্টর কাচাঁ- পাকা আবাদী ফসল পানির নিচে। বৈইরী আবহাওয়ার কারণে বেশ কিছু জমিতে ধানের ছিটা দেখা দিয়েছে।

প্রথমে ধানের থোরে এ রোগ দেখা দিলে আমরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করে থাকি এবং এখন পযর্ন্ত শীষ মরা রোগ নিয়ে আমাদের লোকজন মাঠে কৃষকের সাথে মতবিনিময় করছে। বেশির ভাগ বিআর ২৮ ধানের জমিতে এ রোগ দেখা দিয়েছে।

ব্রেকিং নিউজঃ