| |

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের সম্পর্কে সঠিক কোনো পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে না পারায় নেত্রকোনা জেলা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ত্রাণ মন্ত্রীর উষ্মা প্রকাশ

আপডেটঃ 8:26 pm | April 25, 2017

Ad

নেত্রকোনা প্রতিনিধি ঃ অতি বর্ষন ও পাহাড়ী ঢলে ক্ষতিগ্রস্থ নেত্রকোনার হাওরাঞ্চল পরিদর্শনে আসেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া (বীর বিক্রম) এমপি। তিনি গত সোমবার সন্ধ্যায় নেত্রকোনায় এসেই রাত ৮টার দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ্যে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় অংশ গ্রহন করেন।
জেলা প্রশাসক ড. মোঃ মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় জেলা পর্যায়ের উর্ধ্বতন সরকারী কর্মকর্তাবৃন্দ, জন প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের ব্যাক্তিবর্গ ও সাংবাদিকগণ অংশ গ্রহন করেন। সভায় আগাম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থের সার সংক্ষেপ তুলে ধরে দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবেলায় কি কি করনীয় সে সম্পর্কে মন্ত্রীর সামনে সুপারিশমালা পেশ করা হয়। এ সময় ত্রাণ ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিভিন্ন সরকারী দফতরের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের জন্য কি ধরণের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, আগামীতে কোন ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় থেকে কি কি সহযোগীতা প্রয়োজন, সে বিষয়ে নেত্রকোনা জেলায় কর্মরত কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চান। সভায় উপস্থিত কোনো কর্মকর্তাই সে বিষয়ে সঠিক পরিকল্পনা-গৃহীত পদক্ষেপ ও আগামীতে ক্ষতিগ্রস্থদের পূর্ণবাসনের জন্য কি করা প্রয়োজন, তা সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে না পারায় উষ্মা প্রকাশ করেন। মন্ত্রী, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিলাশ চন্দ্র পালকে এমন পরিস্থিতিতে কি ধরনের ফসল ফলানো যেতে পারে এমন প্রশ্ন করলে, তিনি তার সঠিক কোনো জবাব দিতে পারেন নি। বন্যায় কৃষি খাতে জেলায় কি পরিমাণ ক্ষয়-ক্ষতির সাধিত হয়েছে তারও সঠিক হিসাব দিতে পারেন নি। মন্ত্রী জেলা মৎস্য অফিসার আশরাফ উদ্দিন আহম্মেদের কাছে জানতে চান, মাছের মড়কে যে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব দেয়া হয়েছে, তা কে কিভাবে পরিমাপ করেছে। মাছের ক্ষতি দ্রুত পুষিয়ে নিতে এই মূহুর্তে কি করণীয়? সে সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেন নি। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মেরাজ হোসেনের কাছে জানতে চান বন্যা দূর্গত এলাকায় কয় বার গিয়েছেন। তার কাছে কি পরিমান পানি বিশুদ্ধ করন ট্যাবলেট মজুদ রয়েছে? তিনি মন্ত্রীর প্রশ্নের কোনো জবাব দিতে পারেনি। মন্ত্রী নেত্রকোনা সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুল গনিকে প্রয়োজনীয় ডাক্তার, ঔষধপত্র ও মেডিকেল টিম রয়েছে কিনা জানতে চান। একই অবস্থা পানি উন্নয়ন বোর্ড, সড়ক বিভাগ, এলজিইডি, শিক্ষা অফিস, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসসহ সব কটি অফিসের কর্মকর্তাদের। তারা মন্ত্রী ও সচিবের কোনো প্রশ্নের সদোত্তর দিতে পারেন নি। এ সময় সংসদ সদস্য রেবেকা মমিন বলেন, সরকার দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবেলায় নানা ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করলেও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব অবহেলার কারণে সরকারের গ্রহীত পদক্ষেপ ভেস্তে যেতে পারে। তিনি সরকারী কর্মকর্তাদেরকে আরো বেশী দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন সমন্বয় সাধনের আহবান জানান।
নেত্রকোনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রশান্ত কুমার রায় বলেন, সরকারী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব অবহেলা ও উদাসীনতা দুঃখ্যজনক। কেন তারা মাঠ পর্যায় থেকে সঠিক তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে আনতে পারেনি। এই সব দায়িত্বহীন কর্মকর্তাদের জন্যই বর্তমান সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ গুলো দ্রুত বাস্তবায়ন হচ্ছে না। সরকার বন্যা দূর্গত লোকজনের জন্য প্রচুর ত্রাণ বরাদ্ধ দিয়েছে কিন্তু এই সব কর্মকর্তাদের জন্যই তা সঠিক ভাবে জনগণের কাছে পৌছাচ্ছে না। এতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে।
সভায় উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় এমপি, রেবেকা মোমিন এমপি, ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল এমপি, ইফতেকার উদ্দিন তালুকদার এমপি, ছবি বিশ্বাস এমপি, দূর্যোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ্ কামাল, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রশান্ত কুমার রায়, জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দসহ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার,  সাংবাদিক ও সরকারী কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

ব্রেকিং নিউজঃ