| |

ধর্মপাশায় শতভাগ বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখার উদ্যোগে জরুরী সভা

আপডেটঃ 8:43 pm | April 25, 2017

Ad

মোঃ আবু সায়েম ঃ ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) ধর্মপাশা উপজেলায় ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মানে অনিয়ম দুর্নীতির কারনে চৈত্রি মাসের শুরুতেই অকাল বন্যায় কৃষকদের শতভাগ কাঁচা বোরো ধান তলিয়ে যায়। পরবর্তীতে বন্যার পানি বিষাক্ত হয়ে হাওরের দেশীয় প্রজাতীর মাছ, খামারিদের হাঁস ও কৃষকদের মারা যায়। এসব দুর্যোগ মুকাবেলার জন্য গত ২৪ এপ্রিল সোমবার উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিকাল ৫টায় উপজেলা পরিষদ হল রুমে এক জরুরী সভার আয়োজন করা হয়।
উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থানা শাখার উদ্যোগে অকাল বন্যা দুর্গত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরীকরে ত্রান সামগ্রী বিতরনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এসময় উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ সোয়ের আহমদ বলেন, ধর্মপাশা উপজেলায় কৃষক সংখ্যা ৪৩ হাজার, এর মধ্যে বর্গা চাষি ১০ হাজার, চলতি ইরি-বোরো মৌওসুমে চাষা বাদের লক্ষমাত্র ছিল ২৬ হাজার হেক্টর  অকাল বন্যায় শতভাগ জমির কাঁচা বোরো ধান তলিয়ে যায়। অবশিষ্ট উচ্চু জমির আধা টাঁকা ইরি ধানও বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। কৃষকদের ক্ষতির পরিমান ৩শ ৫১ কোটি টাকা।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেন, অকাল বন্যায় হাওরের কাঁচা ধান বন্যার পানিতে তলিয়ে ধানের সবুজ ধানের গাছ পঁেচ নাইট্রোজেনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় সমস্ত পানি অক্্েরাসিজনের অভাবে উপজেলার বিভিন্ন হাওরে দেশীয় প্রজাতির ১০ মেঃ টনঃ মাছ মারা গেছে যার মূল্য ২৫ লাখ টাকা, রেনু ১৫লাখ টাকা, ক্ষতির পরিমান সর্ব মোট ৪০ লাখ টাকা। পানি দুষন মুক্তের জন্য আমরা গত সপ্তাহে হাওরে কিছু চুন সিটিয়েছি এবং অভিরাম বৃষ্টি হওয়ায় এখন আর এই সমস্যাটি নেই।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আব্দুর রহিম মিয়া বলেন, দুষিত পানি পান করে, সুখাউড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের কাজির গাঁও গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ৩ টি গরু, সেলবরষ ইউনিয়নের রিপন মিয়ার ২টি গরু সহ প্রায় ২২টি গরু, ২৬০টি খামারিদের হাঁস মারা গেছে। গুখাদ্যো পরিমান প্রায় ১০ কোটি টাকা, সব মিলে ক্ষতির পরিমান প্রায় ১৩ কোটি টাকা।
উপজেলা প্রেসকাবের সভাপতি জুবায়ের পাশা হিমুসহ দু-এক জন সাংবাদিকদের প্র¯েœর জবাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মামুন খন্দকার বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সরকারি যে কোন একটি সুজুগ সুবিধা পাবেন। যে ব্যক্তি খাদ্যবান্ধ কর্মসূচির আওতাভুক্ত, অতবা ভিজিএফ এর আওতাভুক্ত, অথবা বয়স্ক-বিধবা ভাতার আওতাভুক্ত আছেন তিনি নতুন করে কোন তালিকাভুক্ত করা যাবে না। মন্ত্রনালয়ের নির্দেশে ১৩ হাজার পরিবারের মধ্যে ভিজিএফের চাল বিতরনের জন্য ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে তালিকা তৈরী জন্য নির্দেশ দিয়েছি। প্রতি সুবিধাভুগী ব্যক্তি মাথা পিছু ৩০ কেজি চাল ও নগদ ৫০০ টাকা পাবেন। আগামী সপ্তাহ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে এসব চাল বিতরন করা হবে। কোন প্রকার অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ প্রমানিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ব্রেকিং নিউজঃ