| |

নান্দাইলে খোলা আকাশের নীচে সংখ্যালঘু ৪টি মুচি পরিবার এমপি তুহিনের প্রচেষ্ঠায় অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা

আপডেটঃ 10:42 pm | April 26, 2017

Ad

ইব্রাহিম মুকুট ॥ নান্দাইল পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের নাথপাড়া এলাকা ৪টি সংখ্যালঘু পরিবারের প্রায় ৩০জন নারী পুরুষ বৃদ্ধ ও শিশু আদালতের রায়ে বসতবাড়ী থেকে উচ্ছেধ হয়ে ওরা এখন খোলা আকাশের নীচে। গত পরশু ওরা বাস্তুচ্যূত হয়।

দু‘দিনের বয়সী শিশুকে নিয়ে মা এখন বাস্ত্যূহারা হয়ে পথে পথে ঘুরছে। বিষয়টা হৃদয় বিদারক। যে কোনো হৃদয়বান লোকের মন কাতর হবে। জানা যায়, আচারগাঁও গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে বাহাউদ্দীনের প উচ্চতর আদালত রায় দিলে তাদেরকে বাস্তুভিটা থেকে উচ্ছেধ করা হয়।

স্থানীয় সুত্র থেকে জানা গেছে, দীর্ঘ ৪৪বছর পর আদালত এ রায় প্রদান করে। বাস্তুুহারারা মুচি শ্রেণীর লোক। নান্দাইল পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের নাথপাড়া এলাকার ৪টি সংখ্যালঘু পরিবারের ৩০জন নারী পুরুষ বৃদ্ধ ও শিশু আদালতের রায়ে বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেধ হয়ে খোলা আকাশের নীচে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

প্রচন্ড বৃষ্টির মাঝে বিনা নোটিশে এদেরকে উচ্ছেদ করা হয় বলে জানাযায়। গত রবিবার (২৩ এপ্রিল) থেকে ভুগলী রবিদাস, গঙ্গা রবিদাস, বাবু রবিদাস ও হীরা রবিদাস এই চারটি মুচি পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়। বাস্তুহারাদের মধ্যে নবজাতকসহ মা, স্কুল পড়–য়া কোমলমতি শিশু ও অশিতীপর বৃদ্ধও রয়েছে।

বাস্তুহারারা গত রবিবার নান্দাইল ডাকবাংলোয় স্থানীয় সংসদ সদস্য মোঃ আনোয়ারুল আবেদীন খান তুহিনের সাথে দেখা করেন। বৃষ্টির মধ্যে খোলা আকাশের নীচে রাত কাটিছেন। আশ্রয় নেওয়ার মত তাদের কোন স্থান নেই।

এসব শুনার পর এবং তাদের এই অসহায়ত্ব দেখে এমপি বলেন, আমার উপজেলার মানুষ খোলা আকাশের নীচে থাকবে আর আমি আরাম আয়েশে থাকবো তা হয় না। তিনি তাৎক্ষণিক জেলা প্রশাসককে ফোন দেন এবং উপজেলা ভূমি কমিশনার ও ওসিকে ফোন দিয়ে আনেন এবং বাস্তুহারাদের আশ্রয় স্থান ব্যবস্থা করে দেয়ার জন্য নির্দেশ দেন। তিনি বাস্তুহারাদেরকে সাহায্য সহযোগীরও আশ্রাস দেন।

গত মঙ্গলবার এমপি তুহিন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক চৌধুরী স্বপন ও পৌর মেয়রসহ নাথপাড়া এলাকা পরিদর্শন করে বাস্তুহারাদের জন্য পুরাতন ডাকবাংলো এলাকায় সাময়িক ভাবে থাকার নির্দেশ দেন।

স্থানীয়রা জানান, আচারগাঁও গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ভূইয়ার ছেলে বাহাউদ্দীন ভূইয়ার পে উচ্চতর আদালত রায় দিলে তাদেরকে বাস্তুভিটা থেকে উচ্ছেধ করা হয়। এলাকার অনেকেই বিষয়টিকে হৃদয় বিদারক মনে করছেন।

কিন্তু মহামান্য আদালতের রায় নিয়ে কেউ মন্তব্য করতে চায়নি। বাস্তুহারা খোকন রবিদাস জানান, আমাদের বাপ দাদার আমলের ভিটা। এই ভিটা নিয়া প্রায় দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে মামলা চলছে। ঈশ^রগঞ্জ আমলী আদালতে এ রায় হয়েছে।

আমরা রিপিট কিছুই করতে পারিনি কারণ আমাদের হাতে কোন টাকা পয়সা নেই। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষথেকে আমাদেরকে কিছু সাহায্য করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে নান্দাইল উপজেলার এমপির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি মানবিক বিধায় তিনি উচ্ছেদকৃত মুচিদের সাময়িক ভাবে থাকার জন্য বাসস্থানের ব্যাবস্থা করে দিয়েছেন। প্রয়োজনে স্থায়ী বাসস্থানের ব্যাবস্থার চেষ্টা করবেন।

ব্রেকিং নিউজঃ