| |

ভালুকা ও শ্রীপুরে শিলাঝড়ে কলেজ ঘরবাড়িসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

আপডেটঃ 9:32 pm | May 02, 2017

Ad

শেখ আজমল হুদা মাদানী ভালুকা প্রতিনিধি: উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ১ মে সোমবার রাতে বৈশাখী ঝড়ে ঘর বাড়ি, দোকানপাট, স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

২ মে মঙ্গলবার সকালে সরজমিন গেলে কাঁশর ডোবালিয়া পাড়ার কৃষক নূরুল ইসলাম জানান সোমবার রাত অনুমান সারে ৭ টার দিকে ঝড় ও শিলা বৃষ্টি শুরু হলে চারিদিকে মানুষের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পরে। তারা জানায় ঘরের চালে বড় আকারের শিলা পরেছে।

এ সময় চালে বড় বড় গর্ত হওয়ায় বৃষ্টির পানি পরে আসভাবপত্র কাপড় চোপড় ও গুরুত্বপূর্ণ বই পুস্তক ভিজে নষ্ট হয়েছে। অনেকের মাথায় ও শরীরে শিলা পড়ে আহত হয়েছে। ডোবালিয়া পাড়ার আঃ হেলিম (৭০) জানান তার বাড়ির ৩৯ টি রুমের সবগুলিই ফুটো হয়ে বসবাসের অযোগ্য হয়ে যাওয়ায় ভাড়াটিয় গার্মেন্টস কর্মীরা সকালে অন্যত্র চলে গেছে।

এ রকম হাজার হাজার বাড়ির একই পরিণতি হওয়ায় ওই এলাকায় বসবাসরত কারখানা শ্রমিকরা আবাসন সমস্যায় পরেছেন। যে সব ঘর বাড়ি সম্পুর্ণ বিনষ্ট হয়েছে তারা বেশী দামে দোকান থেকে টিন এনে ঘর মেরামতের চেষ্টা চালাচ্ছেন। অপরদিকে গাছপালা আম, কাঠাল, লিচু, কলা ও সবজি সহ বিভিন্ন ফল ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

স্থানীয় সমাজসেবক মো. বেলাল হোসেন জানান, সন্ধ্যায় ঝড় শেষ হলে ঘর থেকে বের হয়ে দেখি যেন সবই বিধ্বস্থ অবস্থা, আমার টিনের তৈরী ঘরগুলো ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। এমনকি আম, কাঁঠালসহ বিভিন্ন ফলদ গাছের ফল ও পাতা মাটিতে পড়ে হাঁটু পর্যন্ত জমে আছে।

পরে এলাকায় ঘুরে বিভিন্ন অসহায়দের বাসা-বাড়িতে চিড়া-মুড়ি বিতরণ করি। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে এসে হবিরবাড়ী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান তোফায়েল আহম্মেদ বাচ্চু সাংবাদিকদের জানান তিনি সবগুলো ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাম পরিদর্শন করেছেন তার ধারনা শিলা ঝড়ে ২০ হাজারের উপরে বাড়িঘর ও দোকানপাট নষ্ট হয়েছে।
অপরদিকে ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা সীমান্ত এলাকার শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি আব্দুল আউয়াল ডিগ্রী কলেজ এর ৩৫০ ফিট দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট শ্রেনী কক্ষ, আলহাজ্ব মোছলেহ্ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়, জোবেদা খাতুন আদর্শ কারিগরি স্কুল, হাফিজিয়া ও এতিম খানা মাদ্রাসার উপর শিলা বৃষ্টির কারনে চাল ফুটো, পানির টেংক, সাউন্ড সিষ্টেমসহ প্রায় ২০/২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান কলেজের অধ্যক্ষ মো. রফিকুল ইসলাম।

সকালে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. রেহেনা আক্তার কলেজটি পরিদর্শন করেছেন। এদিকে এক সাথে এত বাড়ি ঘরের চাল নষ্ট হওয়ায় মানুষ নতুন টিন কিনায় ব্যস্ত হয়ে পরেছে। আর এ সুযাগে দোকানীরা বেশী দামে টিন বিক্রি করছেন।

তাছাড়া ঘর মেরামতের জন্য কাঠমিস্ত্রি ও চাল মিস্ত্রির অভাব দেখা দেয়ায় মিস্ত্রিদের মজুরী বেড়ে দ্বিগুন হয়েছে তাও পাওয়া কঠিন। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো বলেন, ঘরবাড়ি মেরামতে সরকারের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেছেন।

ব্রেকিং নিউজঃ