| |

রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের সম্পূর্ণ উল্টো পথে কাজ করছে সরকার

আপডেটঃ 7:29 pm | February 10, 2016

Ad

আলোকিত ময়মনসিংহ : সরকার মহামান্য রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের সম্পূর্ণ উল্টো পথে কাজ করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

বুধবার বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
রিজভী আহমেদ বলেন, ‘কয়েকদিন আগে ডেইলি স্টারের ২৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে মহামান্য রাষ্ট্রপতি গণমাধ্যমকে ‘সাহস করে সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলার’ পরামর্শ দেন। এছাড়াও তিনি গণতন্ত্রের জন্য মুক্ত গণমাধ্যমের অপরিহার্যতার কথা উল্লেখ করে বলেন, সংবাদপত্রের বিরুদ্ধে আক্রমণ গণতন্ত্রের জন্য হুমকি। কিন্তু বাস্তবে আমরা কী দেখতে পাচ্ছি? সরকার রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের উল্টো কাজ করছে।’
তিনি বলেন, ‘আমার দেশ’ এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান আজ দীর্ঘদিন ধরে কারারুদ্ধ রয়েছেন। প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে তিনি আজ সরকারের সীমাহীন জুলুমের শিকার। উচ্চ আদালত থেকে তার সবগুলো মামলার জামিন হয়েছে এবং কোর্ট থেকে বেইলবন্ড বা জামিননামাও যথারীতি কারাগারে পৌঁছেছে। কিন্তু তাকে মুক্তি দেয়া হচ্ছে না। তার সর্বশেষ মামলার জামিননামা গত বৃহস্পতিবার (৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬) সন্ধ্যায় কাশিমপুর কারাগারে পৌঁছে। নিয়ম অনুযায়ী পরদিন শুক্রবার সকালেই তাকে ছেড়ে দেয়ার কথা। কিন্তু সরকার একটি মানহানির মামলায় পিডব্লিউ বা প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট প্রত্যাহার না করার অজুহাত দেখিয়ে তাকে সম্পূর্ণ অন্যায় এবং অবৈধভাবে আটকে রেখেছে।’

তিনি বলেন, ‘পিডব্লিউ প্রত্যাহার একটি মামুলি ব্যাপার। নিয়ম হলো মামলায় আসামির জামিন হয়ে গেলে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে পিডব্লিউ প্রত্যাহারের আবেদন করলেই তা প্রত্যাহার হয়ে যায়। কিন্তু মাহমুদুর রহমানের ক্ষেত্রে এ নিয়ম মানা হয়নি। তার কয়েকটি পিডব্লিউ প্রত্যাহার করা হলেও বিটিআরসির একটি মানহানির মামলায় পিডব্লিউ প্রত্যাহার না করে আটকে রাখা হয়েছে। এতে আমরা হতাশ হয়েছি। তবে বিজ্ঞ আদালত দ্রুত আদেশ দিবেন বলে আমরা আশা করি।’

বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘সরকারপক্ষ মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা আইসিটি মামলায় মহামান্য হাইকোর্টের দেয়া জামিন বাতিলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ মামলার জামিনের বিরুদ্ধে সরকারের এটর্নি জেনারেলের অফিস মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে স্থগিতাদেশ চেয়েছে। গতকাল মহামান্য চেম্বার জজ আদালত মামলাটি না শুনে আগামিকাল ১১ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের ফুল বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠিয়ে দেন।’

রিজভী বলেন, ‘আমরা আশঙ্কা করছি, মাহমুদুর রহমান যাতে জেল থেকে বের হতে না পারেন সেজন্য সরকার নানা অপচেষ্টা চালাচ্ছে এবং তাকে আরও মিথ্যা, হয়রানিমূলক মামলায় জড়ানোর পাঁয়তারা করছে। আমরা কালক্ষেপন না করে অবিলম্বে মাহমুদুর রহমানের মুক্তি দাবি করছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিডিআর হত্যাকাণ্ড, বিচারপতির স্ক্যাইপি কেলেঙ্কারি, শেয়ার মার্কেট কেলেঙ্কারি, পদ্মা সেতু-হলমার্ক-বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি নিয়ে তার পত্রিকায় অনুসন্ধানী রিপোর্ট ছাপা হয়েছে। সরকার তার প্রতি বিরাগভাজন হওয়ার এটাই কারণ। এ জন্যই সরকার মাহমুদুর রহমানকে সহ্য করতে না পেরে অন্যায়ভাবে, আইন-কানুনের কোনো তোয়াক্কা না করে ২০১৩ সালের ১১ এপ্রিল অত্যন্ত বর্বর কায়দায় গ্রেপ্তার করে। এরপর ১৯ দিন রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন চালায়। তার বিরুদ্ধে একের পর এক ৭০টি মামলা দেয়া হয়।’

বর্তমানে সরকারের এটার্নি জেনারেলের কাজই হচ্ছে জামিনপ্রাপ্ত আসামিরা যাতে জেল থেকে বের হতে না পারেন অনবরত তার চেষ্টা করা বলে অভিযোগ করেন রিজভী।

আমরা এ মুহূর্তে আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার, মির্জা আব্বাস, শওকত মাহমুদ, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী এবং মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ নেতাদের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে তাদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আলম, যুববিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সাংবাদিক সৈয়দ আবদাল আহমেদ প্রমুখ

ব্রেকিং নিউজঃ