| |

ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে নৌকা প্রতিক পেলেন সাবেক মেয়র হাবিবুর রহমান হাবিব

আপডেটঃ 1:16 pm | December 27, 2020

Ad

মো: নাজমুল হুদা মানিক ॥ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধির মনোনয়ন বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক ময়নসিংহ বিভাগের পৌরসভা নির্বাচনে (তৃতীয় ধাপ) আওয়ামী লীগ মনোনীত হয়েছেন ময়মনসিংহের ভালুকা পৌরসভায় ডা: এ, কে, এম মেজবাহ্ উদ্দিন, ত্রিশাল পৌরসভায় নবী নেওয়াজ সরকার, গৌরীপুর পৌরসভায় শফিকুল ইসলাম হবি, ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভায় হাবিবুর রহমান হাবিব, ময়নসিংহ বিভাগের জামালপুরের সরিষাবাড়ী পৌরসভায় মনির উদ্দিন, শেরপুরের নকলা পৌরসভায় হাফিজুর রহমান, নালিতাবাড়ী পৌরসভায় আবু বক্কর সিদ্দিক, নেত্রকোনার দূর্গাপুর পৌরসভায় আলা উদ্দিন। এদিকে ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামীলীগের ত্যাগী নিষ্ঠাবান নেতা ৩বারের সাবেক মেয়র হাবিবুর রহমান হাবিব নৌকা প্রতিকের মনোনয়ন পাওয়ায় ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভাবাসীর অধিকাংশ মানুষ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভাপতি ও মনোনয়ন বোর্ডের সকলের প্রতি কৃতঞ্জতা জানিয়েছেন। সাবেক মেয়র হাবিবুর রহমান হাবিবকে নৌকা প্রতিকে মনোনয়ন দেওয়ায় ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকায় শুকরিয়া জানিয়ে নেতাকর্মী ও সমর্থকগন আনন্দ মিছিল করেছে। আগামী ৩০ জানুয়ারী দেশের বিভিন্ন পৌরসভা নির্বাচনের ন্যায় ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভায় অনুষ্ঠিত হবে পৌরসভা নির্বাচন। নির্বাচনকে ঘীরে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে প্রার্থীদের প্রচার প্রচারনা। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ গত ২৬শে ডিসেম্বর শনিবার মনোনয়ন বোর্ড ৩০ শে জানুয়ারী তৃতীয় ধাপের পৌর নির্বাচনে প্রার্র্থীদের তালিকা চুড়ান্ত করে। এরই অংশ হিসেবে ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ও ঈশ্বরগঞ্জ পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ হাবিবুর রহমান হাবিব কে মনোনীত করেন। গত কয়েকদিন ধরে অনেক জলপনা কল্পনা শেষে আওয়ামীলীগের কান্ডারী ত্যাগী এই নেতা সাবেক বারবার নির্বাচিত মেয়র হাবিব-কে নৌকা প্রতীক পাওয়ায় পৌরবাসী অত্যন্ত আনন্দিত। এ পৌর সভায় ৯টি ওয়ার্ড, সংরক্ষিত ওয়ার্ড ৩টি, মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১১টি, ভোট কক্ষের সংখ্যা ৬২টি, পুরুষ ভোটার-১১২৭১, মহিলা-১১২৬৩ মোট-২২৫৩৪ জন ভোটার রয়েছে। উল্লেখ্য যে জনপ্রিয় হাবিবুর রহমান হাবিবকে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন দেওয়ায় আওয়ামীলীগের সভাপতি বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ মনোনয়ন বোর্ডের নেতৃবৃন্দ কে ধন্যবাদ জানায়, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) আলহাজ্ব মোঃ রফিকুল ইসলাম বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল হেকিম,উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য এডঃ হাবিবুল্লাহ মিলন, জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য বদরুল আলম প্রদীপ, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ শাফায়েত হোসেন ভূইয়া, উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহব্বায়ক মতিউর রহমান মতি, জেলা যুবলীগের সদস্য মোঃ মাহবুবুর রহমান মাহবুব, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহব্বায়ক মোঃ শহিদুল ইসলাম মাসুদ, পৌর যুবলীগের সভাপতি আশরাফুল আলম সুমন সহ আরো অনেকেই। ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচনকে ঘীরেও দলীয় মনোনয়নের প্রত্যাশায় অনেকেই ইতোমধ্যেই দৌড়ঝাপ শুরু করে ছিলেন। অবশেষে ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচনে আওয়ামীলীগের ত্যাগী ও নিষ্ঠাবান নেতা ৩বারের সাবেক মেয়র হাবিবুর রহমান হাবিব নৌকা প্রতিকের মনোনয়ন জনগনের প্রত্যাশা পুরন হয়েছে বলে অনেকেই দাবী করেছেন। পৌরসভার বাসিন্ধা মনোয়ারা খাতুন জানান, হাবিব ভাই ভাল লোক । আওয়ামীলীগ হাবিব ভাইকে মনোনয়ন দেয়ায় তিনি অনেক খুশি। চরহোসেনপুর এলাকার বাসিন্ধা অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, হাবিব ভাই এর কোন বদনাম নেই। তিনি সব সময় মানুষের উপকারের জন্য কাজ করেছেন। সুত্র জানায়, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শকে বুকে ধারন করে ছাত্রজীবন থেকেই শুরু করেছেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনারবাংলা গড়ার রাজনীতি। তাঁকে জাতির জনকের জীবন কাহিনী উদ্বোদ্ধ করেছে রাজনীতির পথচলায়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর চিন্তা, চেতনা, সংগ্রামের বর্নাঢ্য জীবন আর সোনার বাংলা গড়ার সম্ভাবনাময় পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মাঠে ময়দানে কাজ করেন সবসময়। জনগনকে উদ্বোদ্ধ করেন জননেত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে। মানব সেবার ব্রত নিয়ে দিনরাত রাজনীতির মাঠে সরব রয়েছেন ময়মনসিংহ জেলা ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভার সাবেক ৩বারের জনপ্রিয় মেয়র জননেতা হাবিবুর রহমান হাবিব। জাতীয় ও দলীয় কর্মসুচী সহ নেতাকর্মীদের জন্ম, মৃত্যুদিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসুচী পালন করে যাচ্ছেন। ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় মানুষের স্নেহমায়া-মমতা ও ভালবাসায় আওয়ামী লীগে প্রতিনিয়ত কর্মী সৃষ্টি করে চলছেন। তিনি ঈশ^রগঞ্জ পৌরসভার এক সম্ভ্রান্ত আওয়ামী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম আব্বাস আলী মন্ডল একজন বিশিষ্ট সমাজ সেবক শিক্ষানুরাগী হিসাবে সমাজে সমাদুত ছিলেন। মো: হাবিবুর রহমান হাবিব ঈশ^রগঞ্জ পৌরসভার প্রতিষ্ঠাতা প্রশাসক হিসাবে ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৯ইং পর্যন্ত সফলতার সাথে দ্বায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি তিনবার নির্বাচিত মেয়র হিসাবে পৌরবাসীর সেবা করেন। ১৯৯৯ইং সনে তিনি প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন। ২০০৪ সনে তৎকালীন বিএনপি জোট সরকারের আমলে নির্বাচনী ফলাফলে কারচুপির উদ্দেশ্যে কালক্ষেপনের পরও দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হন। ২০১১ইং সনে ত্বতীয়বার নির্বাচিত হন। ২০১৫ইং সনের নির্বাচনে আওয়ামীলীগের বিদ্রেুাহী প্রার্থীর ও তৎকালীন এক শ্রেনীর প্রশাসনের প্রকাশ্যে সমর্থনের প্ররোচনায় মুষ্টিমেয় ভোটে পরাজিত হন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় তিনি বিভিন্ন আন্দোলন ও লড়াই সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেন। হাবিবুর রহমান হাবিব ঈশ্বরগঞ্জ পৌর আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে অদ্যবদি সভাপতি হিসাবে নিষ্ঠা ও সততার সাথে দ্বায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামীলীগ ও ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মানিত সদস্য। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ শিল্প ও বানিজ্য কেন্দ্রীয় উপকমিটির সাবেক সদস্য ছিলেন। জোট সরকারের আমলে ১৬টি মিথ্যা মামলার আসামী হয়ে ফেরারী জীবন যাবন করেন। বড় ভাই মো: আব্দুছ ছাত্তার আওয়ামীলীগের একনিষ্ট কর্মী ও একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। তাঁর ছোট ভাই মো: মুজিবুর রহমান আওয়ামীলীগের কর্মী ও ১ম শ্রেনীর ঠিকাদার। অপর ছোট ভাই মো: মতিউর রহমান মতি ২০০২ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা শাখার যুগ্ন আহবায়ক ছিলেন। ২০১৬ সালে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহবায়ক হিসাবে দ্বায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সম্মানিত সদস্য হিসাবে দ্বায়িত্ব পালন করেন। তিনিও জোট সরকারের আমলে ১৪টি মিথ্যা মামলার আসামী হয়ে ফেরারী জীবন যাপন করেন। পরবর্তীতে আওয়ামীলীগ দলীয় সরকারের আমলে এসব মামলা নিস্পত্তি হয়। ছোট বোন মাহমুদা বেগম ১৯৯৪-১৯৯৫ সালে ঈশ্বরগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রী মিলনায়তন সম্পাদিকা হিসাবে নির্বাচিত হয়ে সফলতার সাথে দ্বায়িত্ব পালন করেন। অপর এক ভাই মিজানুর রহমান আমেরিকা প্রবাসী। আরেক ছোট ভাই মো: মাহবুবুর রহমান মাহবুব ২০০৩ সালে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হিসাবে দ্বায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২০১০ সালে তিনি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি ২০১২ সালে জেলা ছাত্রলীগের সদস্য হিসাবে কাজ করেন। পরবর্তীতে ময়মনসিংহ জেলা যুবলীগের সদস্য ছিলেন। জোট সরকারের আমলে ৪টি মিথ্যা মামলার আসামী হয়ে ফেরারী জীবন যাপন করেন। দলীয় সরকারের আমলে পরবর্তীতে এসব মামলা নিস্পত্তি হয়। বোন জামা আলহাজ¦ মো: আব্দুছ ছাত্তার ২বারের সাবেক এমপি। ১৯৯৬ সালে তিনি প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচিত হন। ২০০৮ সনের নির্বাচনে তিনি পুনরায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হয়ে সফলতার সাথে দ্বায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০০১ ও ২০০৩ সালে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক আহবায়ক ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের পরপর ২বার শিল্প ও বানিজ্য বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।

ব্রেকিং নিউজঃ