| |

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতাদের প্রতি আবেদন

আপডেটঃ 11:51 am | March 16, 2021

Ad

প্রদীপ ভৌমিক : আমার ছোট ভাই উৎপল কর লিখেছে সিলেটে সাংগঠনিক কাজে ছাত্রলীগ নেতারা গিয়েছে বিমান যোগে,যেতেই পারে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশ। সমাবেশে আসন গ্রহনের সময় টিলা গড়ের এক ছাত্রনেতা নেতাদের পায়ের জুতা খুলে দিয়েছে।দিতেই পারে নেতার প্রতি ভক্তি,শ্রদ্ধার বহিঃ প্রকাশ এটা।সেই লেখাতেই সে আবেদন করেছে ময়মনসিংহের মত দীর্ঘদিনের মেয়াদ উর্ত্তিন জেলা ছাত্রলীগের কমিটিকে নতূন করে গঠন করার জন্য। লেখাটি পড়ে ৬০ দশকের একজন ছাত্র লীগ কর্মী হিসাবে আমার দুটি কথা লিখতে ইচ্ছে হল। আমরা যখন ছাত্রলীগ করেছি তখনকার কেন্দ্রীয় ছাত্র নেতারা ট্রেনে কিংবা বাসে চড়ে ময়মনসিংহ আসত। অবস্হান করত কলেজ হোষ্টেল,কোন ছাত্রনেতার বাসা কিংবা আত্বিয় নিবাসে। সাংগঠনিক কাজ সেরে যথারীতি বাস কিংবা ট্রেনে ফিরে যেত ঢাকা। শীত তাপ নিয়ন্ত্রীত কোন বিলাস বহুল হোটেল কিংবা বাসভবনের প্রয়োজন হত না। তাদের আক্লান্ত পরিশ্রমে ছাত্র সমাজ সুসংগঠিত হয়ে লড়াই সংগ্রাম করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছিল। ৭৫ এ বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডের পর ছাত্রলীগ কর্মীরাই রাজ পথের লড়াই সংগ্রামে ছিল অগ্রসৈনিক।তাদের ত্যাগের বিনিময়ে আঃলীগ আজ ক্ষমতায়। আঃলীগ এবার ক্ষমতায় আসার পর চিরচেনা নেতা কর্মীরা হয়ে উঠল বিলাসী,পদলোভি। অর্থ হয়ে উঠল রাজনীতির মূল নিয়ামক।দলীয় আদর্শের পরিবর্তে স্বজনপ্রীতি,ভাইপ্রীতি হল নেতা নির্বাচিত হওয়ার প্রধান যোগ্যতা। একি আর্দশে বিশ্বাসী হওয়া সত্বেও বহুধারায় বিভক্ত ছাত্রলীগ।ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগ তার প্রমান। বর্তমানের জনৈক ছাত্রলীগ নেতা দুঃখ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছে ময়মনসিংহ ছাত্রলীগ নাকি বর্তমানে জিন্দা লাশ।আরেক জন লিখেছে কিশোর বয়সে ছাত্রলীগে যোগদিয়ে যৌবনে পৌছেছে।বিয়ে করেছে সন্তানের পিতা হয়েছে এখন যুবলীগের কর্মী হিসাবে কাজ করছে কিন্তুু কোন কমিটির মুখ দেখতে পারছে।তার সন্তানটিও দেখতে পারবে কিনা সন্দেহ আছে। আমার আরেকটি মুজীব আর্দশে বিশ্বাসী ছোট ভাই দুঃখ করে বলেছে তাদের নাকি এখন কাজ হল জাতীয় ও রাষ্ট্রিয় বিশেষ দিন গুলিতে পদ পদবির আশায় ভাইদের নামে শ্লোগান দেয়া। এঅবস্হা চলতে থাকলে আমার মনে হয় আস্তে আস্তে সংগঠনটি নাম সর্বস্য সংগঠনে রাপান্তরিত হবে।কতিপয় আর্দশবিহীন স্বার্থবাজদের আশ্রয়স্হলে পরিনত হবে। সর্বশেষ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি অনুরুধ আপনারা ময়মনসিংহে আসুন,ময়মনসিংহে বিমান বন্দর নেই কিন্তুু হেলিকপ্টারে আসা যায়,পাঁচতারা হোটেল না থাকলে শীততাপ নিয়ন্ত্রীত হোটেল আছে।দামি গাড়ীর মালিকও আছে। সবকিছুর ব্যাবস্হাও করা যাবে।দলের স্বার্থে সংগঠনের অস্হিত্ব রক্ষার জন্য আমরা যারা ৬০ দশকের সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী আছি আপনাদের পায়ের জুতাও খুলে দিব তারপরও ময়মনসিংহ এসে নেতা কর্মীদের সাথে যোগা যোগ করে নতূন ময়মনসিংহ জেলা কমিটি করে দিন। মৃত্যুর পূর্বে যেন আমরা ছাত্রলীগের পূর্বসূরিরা একটি নতুন জেলা ছাত্রলীগ কমিটি দেখে যেতে পারি এ প্রত্যাশা রইল।

ব্রেকিং নিউজঃ