| |

আশিক চৌধুরীর চিরবিদায়ের দিন

আপডেটঃ 10:13 am | April 03, 2021

Ad

২রা এপ্রিল ছিল সাংবাদিক আশিক চৌধুরীর ১ম চির বিদায়ের দিন।তার সাথে আমার পরিচয় সাংবাদিকতার সুত্রে।ময়মনসিংহ জেলা আঃলীগ যখন দ্বিধা বিভক্ত আশিক ভাই তখন দৈনিক মাটি ও মানুষের ভারপ্রাপ্ত সন্পাদক আমি দৈনিক আলোকিত ময়মনসিংহের। আশিক ভাই তৎকালিন জেঃ আঃলীগ সভাপতি অধ্যক্ষ মতিউর রহমান গ্রুপের সমর্থক হিসাবে দৈনিক মাটি ও মানুষে মতিউর রহমান স্যারের পক্ষে লিখেন আর আমি লিখি এড,জহিরুল হক খোকা, ইকরামূল হক টিটু,আমিনুল হক শামিম, ,এড,মোয়াজ্জেম হুসেন বাবুল,এহতেশামূল আলম,ইউসুফ খান পাঠানদের পক্ষে। সেই সময় আমরা দুজনি আমাদের পত্রিকার কাজ করতাম আলম হাউজে একটু বেশী রাতে। এক সাথে কাজ করতে গিয়ে কখন জানি পরস্পর পরস্পরের কাছে চলে এলাম। সাংবাদিকতায় নতূন হিসাবে আশিক চৌধুরীর মত একজন বিজ্ঞ সাংবাদিকের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছিলাম। আমাকে মুক্তিযুদ্ধের উপর লেখার প্রেরনা দিয়েছিল আশিক ভাই। আমি যখন বিভিন্ন জনের বিরুপ সমালোচনায় হতাশায় ভোগে সাংবাদিকতা ছেড়ে দেওয়ার কথা বলতাম আশিক ভাই বলত কোন লেখা যার পক্ষে যায় সে খুশি হয় বিপক্ষে গেলেই শত্রু। কোন সাংবাদিকের লেখার যদি প্রসংশা কিংবা সমালোচনা নাহয় তাহলে সে সাংবাদিক নয়।আপনি সাংবাদিকতা ছাড়বেন না। আমি যখন ময়ঃজেলার বিভিন্ন উপজেলার মুক্তিযুদ্ধ কালিন সময়ের পাকিস্হানীদের দোসর শান্তিকমিটি,রাজাকার,আলবদরদের নামের তালিকা দৈনিক আলোকিত ময়মনসিংহ পত্রিকায় প্রকাশ করছিলাম তখন অনেকে বলত সাবধানে থাকবেন। স্বাধীনতা বিরোধীদের দ্বারা আপনার জীবন নাশের সন্ভাবনা আছে। একমাত্র আশিক ভাই সাহস জুগিয়ে বলত মুক্তিযুদ্ধের সময় যদি আমরা মরে যেতাম তাহলে কি হত।না হয় ওদের মুখোশ এই স্বাধীন দেশে খুলতে গিয়ে মরে যাব। আশিক ভাই আরেকটি কথা বলত সুবিধাবাদীরা প্রয়োজনে সাংবাদিকদের ব্যাবহার করে স্বার্থ সিদ্ধি হলে আর মনে রাখে না। লল কথাগুলি আজ আমার কাছে বাস্তব বলে মনে হয়।আশিক ভাইয়ের ১ম মৃত্যু বার্ষীকিতে আমি কৃতজ্ঞতা জানাই বিভাগীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফকরুল আলম চৌধুরী বাপ্পি ভাইকে। তিনি আশিক ভাইয়ের স্বরনে আলোচনা,দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করার জন্য। আশিক ভাই যেখানে থাকুন যেভাবেই থাকুন ভাল থাকুন। আমরা যতদিন বেঁচে থাকব তিনি ততদিন থাকবেন আমাদের হৃদয়ে।

ব্রেকিং নিউজঃ